• বৃহস্পতিবার, এপ্রিল ০২, ২০২০
  • সর্বশেষ আপডেট : ০৯:০৭ সকাল

মেছোবাঘ তাড়াতে জঙ্গল পরিষ্কারের নির্দেশ!

  • প্রকাশিত ০৬:৫৮ সন্ধ্যা ফেব্রুয়ারি ১৩, ২০২০
সুনামগঞ্জ-মেছোবাঘ
গ্রামবাসীর হাতে আটক মেছোবাঘ। ইউএনবি

মনিরুল এইচ খান বলেন, ‘মেছো বাঘ নিয়ে মোটেও আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। এরা মানুষকে আক্রমণ করে না। বড়জোর হাঁসমুরগী ধরতে পারে’

সুনামগঞ্জের দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলার রনসী গ্রামের পূর্বপাড়া বেতের ঝোপের বাঘ আতঙ্কে ভুগছে গ্রামবাসী। এ ঘটনায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জেবুন নাহার শাম্মীর কাছে দেওয়া হয়েছে লিখিত অভিযোগ। অভিযোগের পরিপেক্ষিতে তিনি জঙ্গল পরিষ্কার করার জন্য নির্দেশ দিয়েছেন বলে খবর দিয়েছে বার্তা সংস্থা ইউএনবি।

এ বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে তিনি ঢাকা ট্রিবিউনকে বলেন, “আমি দু’পক্ষকে বসে স্থানীয়ভাবে সমস্যা সমাধানের কথা বলেছি। জঙ্গল পরিষ্কার করতে বলিনি।” 

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, সম্প্রতি ওই গ্রামে একটি ছাগল হত্যা করে মেছোবাঘ। এ ঘটনায় একটি মেছোবাঘ আটকও করে এলাকাবাসী। তারা মেছোবাঘের আবাসস্থল হিসেবে গ্রামের নুরুল ইসলাম ও সুন্দর আলীর মালিকানা ও দখলাধীন বেত ঝোপকে চিহ্নিত করে। 

এদিকে, গ্রামে ছড়িয়ে পড়ে বাঘের আতঙ্ক।

কথিত আতঙ্ক থেকে পরিত্রাণ পেতে বুধবার (১২ ফেব্রুয়ারি) পূর্ব পাগলা ইউপি চেয়ারম্যান আক্তার হোসেন, রনসী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হাবিবুর রহমানসহ এলাকার শতাধিক গণ্যমান্য ব্যক্তিদের স্বাক্ষরিত একটি অভিযোগপত্র উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর দেওয়া হয়। 


আরও পড়ুন - হাওরে পাখি শিকারিদের বিষটোপে মারা গেল ৫০০ হাঁস


অভিযোগপত্রে বলা হয়, নুরুল ইসলাম ও সুন্দর আলীর মালিকানা ও দখলীয় প্রায় এক একর জায়গা নিয়ে বেতের ঝোপ ও জঙ্গল রয়েছে যেখানে দীর্ঘদিন ধরে বাঘসহ বিভিন্ন প্রজাতির বন্যপ্রাণীর বসবাস করে আসছে। এই বেতের ঝোপের আশপাশের বাড়ি ঘরে বসবাসকারী প্রত্যেকটি পরিবারের পালিত হাঁস-মুরগী, গরু, ছাগল খেয়ে সাবাড় করে দিচ্ছে। উক্ত বেতের ঝোপ জঙ্গল পরিষ্কার করার জন্য এলাকাবাসী পঞ্চায়েতগণ বারবার নুরুল ইসলাম ও সুন্দর আলীকে বলার পরও তারা পরিষ্কার করতে নারাজ।বর্তমানে বাঘের আতঙ্কে উক্ত গ্রামের শিক্ষার্থীরা বিদ্যালয়ে যাওয়া বন্ধ করে দিয়েছে। এছাড়া এই রাস্তা দিয়ে আরও বিভিন্ন গ্রামের লোকজন রাত-দিন চলাচল করেন কিন্তু বাঘের ভয়ে চলাচল করতে বিরাট সমস্যায় রয়েছেন। 

এ ব্যাপারে ইসলাম বলেন, “এই জায়গা নিয়ে আদালতে মামলা ও নিষেধাজ্ঞা রয়েছে বিধায় ঝোপঝাড় পরিষ্কার করা যাচ্ছে না।”

সুন্দর আলী বলেন, জায়গা নিয়ে আদালতে মামলা রয়েছে, “আমি গ্রামের পাঞ্চায়েতের কাছে সমজাইয়া (বুঝিয়ে) দিয়েছি তারা যা করেন আমি মেনে নেব।”

মেছোবাঘ সম্পর্কে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণীবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ড. মনিরুল এইচ খান ঢাকা ট্রিবিউনকে বলেন, “এটা আসলে Fishing Cat (বৈজ্ঞানিক নাম Felis viverrina), বাংলায় যাকে বলা হয় মেছো বাঘ। এর স্বভাব অনেকটা বন বিড়ালের মতো তবে আকারে বন বিড়ালের চেয়ে বড়, প্রায় কুকরের কাছাকাছি। মেছোবাঘ বাংলাদেশের সর্বত্রই কমবেশি দেখা যায়। তবে জলাভূমি এলাকায় বেশি থাকে। এরা প্রধানত রাতে শিকার করে। মাছ, ব্যাঙ, কাঁকড়া, ইঁদুর, পাখি ইত্যাদি এদের প্রধান খাদ্য। তবে খাদ্য সংকটেই হয়তো এরা লোকালয়ে আসছে।”


আরও পড়ুন - খরগোশ শিকারিদের হাতে প্রাণ গেল মেছোবাঘের


মনিরুল এইচ খান বলেন, “মেছো বাঘ নিয়ে মোটেও আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। এরা মানুষকে আক্রমণ করে না। বড়জোর হাঁস-মুরগী ধরতে পারে।”

সুনামগঞ্জে বাঘের উপস্থিতির বিষয়ে জানতে চাই বন বিভাগের বন্যপ্রাণী ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ কর্মকর্তা জোহরা মিলা ঢাকা ট্রিবিউনকে বলেন, “ওই এলাকায় কোনো বনভূমি নেই, কাজেই সেখানে বাঘ থাকার প্রশ্নই ওঠে না। মেছোবাঘকেই হয়তো বাঘ মনে করছে গ্রামবাসী। যা শুধু শুধু আতঙ্ক সৃষ্টি করছে।”   

তিনি আরও বলেন, “জনবসতি স্থাপন, বন ও জলাভূমি ধ্বংস, পিটিয়ে হত্যা ইত্যাদি কারণে বিগত কয়েক দশকে এই প্রাণীটির সংখ্যা আশঙ্কাজনকভাবে হ্রাস পেয়েছে। ২০০৮ সালে মেছোবাঘকে বিপন্ন প্রাণী প্রজাতির তালিকায় অর্ন্তভুক্ত করেছে আইইউসিএন। তাছাড়া বন্যপ্রাণী আইন-২০১২ অনুযায়ী এই প্রজাতি সংরক্ষিত। তাই প্রাণীটি হত্যা বা এর কোনো ক্ষতি করা দণ্ডনীয় অপরাধ।”