• মঙ্গলবার, এপ্রিল ০৭, ২০২০
  • সর্বশেষ আপডেট : ১১:২৮ রাত

প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব নিয়ে কোটি টাকা হাতিয়ে নিলেন আওয়ামী লীগ নেতা

  • প্রকাশিত ০৭:৩৩ রাত ফেব্রুয়ারি ১৩, ২০২০
অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষক রবিউল আলম সাবুল
অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষক রবিউল আলম সাবুল। সংগৃহীত

স্থানীয়রা জানান, একবার স্কুলের জন্য কেনা নতুন সোফা নিজের কাছে রেখে দিয়ে বাড়ির পুরনো সোফাসেটটি বিদ্যালয়ে পাঠিয়ে দিয়েছিলেন তিনি

পঞ্চগড়ের বোদায় অবৈধ উপায়ে সম্পদ অর্জনের অভিযোগ উঠেছে উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এবং বোদা পাইলট বালিকা বিদ্যালয় ও কলেজের প্রধান শিক্ষক রবিউল আলম সাবুলের বিরুদ্ধে।

দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদকের) চিঠির পরিপ্রেক্ষিতে তার অর্থের উৎস সন্ধানে তদন্ত শুরু করেছে জেলা শিক্ষা অফিস। বৃহস্পতিবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) ঢাকা ট্রিবিউনকে এই তথ্য নিশ্চিত করেন জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. শাহীন আকতার।

এর আগে বোদা উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগ নেতা মো. মকলেছার রহমান জিল্লু প্রধান শিক্ষক রবিউল আলম সাবুলের বিরুদ্ধে দুদকে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।

অভিযোগে বলা হয়, ২০১০ সালের মে মাসে বোদা পাইলট বালিকা বিদ্যালয় ও কলেজের প্রধান শিক্ষক হিসেবে যোগদান করেন রবিউল আলম। যোগদানের কয়েক বছরের মধ্যেই কোটিপতি হয়ে গেছেন তিনি। প্রধান শিক্ষক ও আশেপাশের এলাকার কয়েকটি কলেজ ও বিদ্যালয়ের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে তিনি ৪৪ জন শিক্ষককে নিয়োগে দিয়েছেন। সম্প্রতি এলাকায় নতুন একটি প্রাথমিক বিদ্যালয় চালু করে ৫ জন শিক্ষক ও ১ জন কর্মচারীকে নিয়োগ দিয়েছেন। সাবুলের বিরুদ্ধে অভিযোগ, নিয়োগ দেওয়ার জন্য এসব শিক্ষক ও কর্মচারীর প্রত্যেকের কাছ থেকে উৎকোচ হিসেবে ৫-৭ লাখ করে টাকা আদায় করেছেন তিনি। এমনকি অতিরিক্ত অর্থের বিনিময়ে জাল নিবন্ধন থাকা সত্ত্বেও বেশ কয়েকজনজকে শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে।

অনুদান হিসেবে এই টাকা নেওয়া হয়েছে বলে দেখালেও স্কুলের তহবিলে কোনো টাকা জমা দেননি অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষক। বিদ্যালয়ের অভ্যন্তরীণ আয়ের টাকাও ব্যাংকে জমা না দিয়ে ব্যক্তিগত কাজে খরচ করেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এছাড়া নিজের স্কুলের শিক্ষার্থীদের কাছ থেকেও বিভিন্ন পরীক্ষার সময় রবিউল অতিরিক্ত অর্থ আদায় করে থাকেন বলে স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন। বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের অভিভাবকরা জানান, অতিরিক্ত পরিমাণে অর্থ আদায় করলেও স্কুলে কোনো সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে টাকা খরচ করেন না প্রধান শিক্ষক।

টাকা ছাড়াও স্কুলের সম্পদ নিজের ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহার করেন বলেও দুদকে দায়ের করা অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। স্থানীয়রা জানান, একবার স্কুলের জন্য কেনা নতুন সোফা নিজের কাছে রেখে দিয়ে বাড়ির পুরনো সোফাসেটটি বিদ্যালয়ে পাঠিয়ে দিয়েছিলেন তিনি। কয়েক বছরের ব্যবধানে নিজ গ্রামে কোটি কোটি টাকার সম্পদ বানিয়েছেন তিনি।

তবে, অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষক রবিউল আলম সাবুল তার বিরুদ্ধে আসা অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, "সংবাদ সম্মেলন করে সব অভিযোগের ব্যখ্যা দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছি। ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে আমার স্কুলের সব হিসাব চলে। আমার নিজের নামে হাউজ বিল্ডিংয়ের ঋণ আছে। আমি কোনো দুর্নীতির সাথে জড়িত নই।"

তদন্ত প্রসঙ্গে জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. শাহীন আকতার বলেন, "দুদকের চিঠির প্রেক্ষিতে তদন্ত শুরু করেছি। আরো সময় লাগবে তদন্ত শেষ হতে। এর আগে কিছু বলা সম্ভব নয়।"