• সোমবার, এপ্রিল ০৬, ২০২০
  • সর্বশেষ আপডেট : ০৮:১৯ রাত

পরিবেশমন্ত্রী: বায়ুদূষণকে জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ সংকট হিসেবে দেখতে হবে

  • প্রকাশিত ১১:০০ সকাল ফেব্রুয়ারি ১৪, ২০২০
বায়ু দূষণ
ঢাকা শহরে বায়ুদূষণ পরিস্থিতি আশঙ্কাজনক অবস্থায় পৌঁছেছে। মেহেদী হাসান/ঢাকা ট্রিবিউন

‘নির্মাণ কাজ থেকে অনিয়ন্ত্রিতভাবে ছড়ানো ধুলা এবং গাড়ি ও ইটভাটার ধোঁয়ার কারণে রাজধানীর বায়ুদূষণের মাত্রা গুরুতর পর্যায়ে পৌঁছেছে’

রাজধানী ঢাকায় দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে বায়ুদূষণের মাত্রা। অসহনীয় মাত্রার এ দূষণের ফলে বাড়ছে বাসিন্দাদের রোগবালাই। তাই পরিস্থিতি মোকাবিলা এবং পরিবেশ রক্ষায় সরকার বেশ কিছু পদক্ষেপ দিয়েছে বলে জানিয়েছেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনমন্ত্রী মো. শাহাব উদ্দিন।

মূলত নির্মাণ কাজ থেকে অনিয়ন্ত্রিতভাবে ছড়ানো ধুলা এবং গাড়ি ও ইটভাটার ধোঁয়ার কারণে রাজধানীর বায়ুদূষণের মাত্রা গুরুতর পর্যায়ে পৌঁছেছে। পরিবেশমন্ত্রীও বিষয়টি স্বীকার করেন।

তিনি বলেন, “ঢাকা শহরে ৫৮ ভাগ বায়ুদূষণ হয় ইটভাটার জন্য। বর্তমানে (প্রচলিত) ইটভাটা বন্ধের জন্য পরিকল্পনা ও আইন পাস করা হয়েছে। পরিবেশবান্ধব ইট বানানোর জন্য কাজ করছি।”

তিনি জানান, ভাটায় ইট পুড়ানো ২০২৫ সালের মধ্যে বন্ধ এবং সরকারি প্রকল্পের আওতায় ভবন নির্মাণে ঢালাই ইট ব্যবহারের পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের।


ঢাকা ট্রিবিউন


মন্ত্রী বলেন, সব ইটভাটায় আপাতত পোড়া ইটের সাথে ১০ শতাংশ ব্লক বা ঢালাই ইট তৈরির নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। পরবর্তীতে ১০০ ভাগ ব্লক ইট তৈরি করতে হবে। ধীরে ধীরে বেসরকারি প্রকল্পেও এ ধরনের ইটের ব্যবহার বাধ্যতামূলক করা হবে।

তিনি জানান, দেশে বায়ুদূষণের উৎস নিয়ে গত বছরের মার্চে একটি গবেষণা প্রকাশ করে পরিবেশ অধিদপ্তর ও বিশ্ব ব্যাংক। তাতে দেখা যায় যে বায়ুদূষণের প্রধান তিনটি উৎস হচ্ছে ইটভাটা, যানবাহনের কালো ধোঁয়া ও নির্মাণ কাজ।

নির্মাণ কাজের সামগ্রী ঢেকে না রাখায় ধুলার কণা রাজধানীর বায়ুদূষণ সৃষ্টিতে বিশেষ ভূমিকা রাখছে উল্লেখ করে শাহাব উদ্দিন এ দূষণ নিয়ন্ত্রণে সব সরকারি ও বেসরকারি সংস্থার সমন্বিত পদক্ষেপ নেয়ার ওপর জোর দেন।

তিনি বলেন, “ঢাকাসহ বড় বড় জেলা শহরে বায়ুর মান নিরূপণের জন্য ১৬টি ক্যাম্প স্থাপন করা হয়েছে। এর মাধ্যমে আমরা বায়ুর মান নিয়ন্ত্রণ করতে পারব।”

“ঢাকা শহরে বায়ুদূষণের বিভিন্ন কারণ রয়েছে। সরকারি ও বেসরকারি অবকাঠমো নির্মাণ এবং বিভিন্ন কাজে সমন্বয় করা প্রয়োজন। পরিষেবা কাজের সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয় করতে হবে। এলিভেটেট এক্সপ্রেস ও হাইওয়েসহ বিভিন্ন প্রকল্পের জন্য সঠিক ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে হবে,” যোগ করেন তিনি।


মেহেদি হাসান/ঢাকা ট্রিবিউন


প্রকৃতি সংরক্ষণবিষয়ক সংস্থাগুলোর আন্তর্জাতিক জোট আইইউসিএনের এ দেশীয় পরিচালক রাকিবুল আমিনের বরাত দিয়ে মন্ত্রী বলেন, “বায়ুদূষণ মোকাবিলায় প্রথম কাজ হচ্ছে দূষণের উৎস বন্ধ করা। দ্বিতীয় কাজ হচ্ছে শহরের বিভিন্ন স্থানে সবুজ বেষ্টনী গড়ে তোলা এবং জলাশয়গুলো রক্ষা করা। তারপর এ দূষিত বায়ুর মধ্যে নগরের মানুষ কীভাবে নিরাপদ থাকবে সে ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলা। তবে সবার আগে বায়ুদূষণকে জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ সংকট হিসেবে দেখতে হবে।”

হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশের করা এক রিট আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে হাইকোর্ট রাজধানী ঢাকার বায়ু দূষণ রোধে ১৩ জানুয়ারি ৯ দফা নির্দেশনা দেয়।

বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের (বাপা) সাধারণ সম্পাদক এমএ মতিন বলেন, ঢাকায় উন্নয়নমূলক কাজের খোঁড়াখুঁড়ি, ভবন নির্মাণ, ঢাকার আশপাশের ইটভাটা, ঢাকার শিল্প কারখানা ও গাড়ির কালো ধোঁয়ার ফলে বেশি বায়ুদূষণ হচ্ছে। এটি রোধে সরকার কার্যকর ব্যবস্থা নিতে পারছে না। খোঁড়াখুঁড়ির ধুলাবালি গাড়ির মাধ্যমে বেশি উড়ছে। অনিয়ন্ত্রিত অতিরিক্ত গাড়ির ফলে বেশি বায়ুদূষণ হচ্ছে। বিদেশে কোনো উন্নয়নমূলক বা ভবন নির্মাণের কাজ করলে ঢেকে রাখে। তাতে বায়ুদূষণ কম হয়। সেই সাথে গাড়ি নিয়ন্ত্রণ করে কমিয়ে আনলে দূষণ কমবে। ঢাকার শিল্প কারখানা সরানো এবং আশপাশের ইটভাটাগুলো পরিবেশবান্ধব করতে হবে।

তার মতে, সরকার চাইলে বা আইন প্রয়োগ করলে বায়ুদূষণ রোধ সম্ভব। না হলে এটি আরও বাড়বে।