• সোমবার, ফেব্রুয়ারি ১৭, ২০২০
  • সর্বশেষ আপডেট : ১০:৩৪ রাত

সন্তানদের সামনে নদীতে ঝাঁপ দেওয়া নারীর মরদেহ উদ্ধার

  • প্রকাশিত ০৪:৩৯ বিকেল ফেব্রুয়ারি ১৪, ২০২০
গোপালগঞ্জ আত্মহত্যা
এই দুই শিশুর সামনেই নদীতে ঝাঁপিয়ে আত্মহত্যা করেছিলেন তাদের মা ঢাকা ট্রিবিউন

শুক্রবার সকালে মধুমতি নদীতে তার মরদেহ ভেসে ওঠে

গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় সন্তানদের সামনে নদীতে ঝাঁপিয়ে পড়ে আত্মহননকারী আফরোজা খানমের মরদেহ ৪ দিন পর উদ্ধার করেছে পুলিশ।

শুক্রবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) ভোরে মধুমতি নদীতে মরদেহ ভেসে ওঠার খবর পেয়ে সেটি উদ্ধার করেন ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা। খবর পেয়ে সকাল ১০টার দিকে টুঙ্গিপাড়া থানার পুলিশ উপজেলার গিমাডাঙ্গা ইটভাটা এলাকার নদীর তীর থেকে মরদেহটি থানায় নিয়ে যায়।

টুঙ্গিপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এ.এফ.এম নাসিম ঢাকা ট্রিবিউনকে এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

প্রতক্ষদর্শীর বরাত দিয়ে ওসি জানান,  মঙ্গলবার দুপুর ১২টার দিকে দুই সন্তান ফাহমিদা (৬) ও সালামকে (৪) সঙ্গে নিয়ে টুঙ্গিপাড়া উপজেলার পাটগাতী মধুমতি নদীর শেখ লুৎফর রহমান সেতুর ওপর দিয়ে নদীতে ঝাঁপিয়ে পড়েন। তখন শিশু দু'টির চিৎকারে ঘটনাস্থলে লোকজন জড়ো হয়। তাৎক্ষণিকভাবে ফায়ার সার্ভিসে খবর দেওয়া হয়।

তিনি আরও বলেন, সেদিন তার কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি। ঘটনার চারদিন পর অর্থাৎ শুক্রবার সকালে সেতু থেকে প্রায় আধা কিলোমিটার দূরে ওই নারীর মরদেহ ভেসে ওঠে। ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা মরদেহ নদীর পাড়ে নিয়ে আসেন। পরে পুলিশ লাশ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে। স্বজনরা ময়নাতদন্ত ছাড়াই মরদেহ হস্তান্তরের আবেদন করেছেন।


আরও পড়ুন- সন্তানদের সামনেই নদীতে ঝাঁপ দিলেন মা


ওসি জানান, আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। ওই নারীর স্বজনরা কোনো অভিযোগ করেননি।

এদিকে, মায়ের মরদেহ উদ্ধারের খবর শোনার পর অনবরত কাঁদছে আফরোজার দুই সন্তান ফাহমিদা ও সালাম।

প্রসঙ্গত, আফরোজা খানম কোটালীপাড়া উপজেলার সোনারগাতী গ্রামের ওমান প্রবাসী আলিমুজ্জামান তালুকদারের স্ত্রী। তার বাবার বাড়ি টুঙ্গিপাড়া উপজেলা বাঁশবাড়িয়া গ্রামে। উপজেলার গওহরডাঙ্গা গ্রামের একটি ভাড়াবাড়িতে সন্তানদের নিয়ে থাকতেন তিনি।

তার মেয়ে ফাহমিদা জানায়, মা বলেছিল নদীতে টাকা পড়ে গেছে। টাকা আনতে যাচ্ছে বলে সে নদীতে ঝাঁপ দিয়েছিল।

আফরোজার বোনের ভাষ্য, ২০১১ তার বোনের বিয়ে হয়। এর আগেও সে একাধিকবার এ ধরনের চেষ্টা করেছে। স্বামীর সঙ্গে অভিমান থেকেই সে আত্মহত্যা করতে পারে।