• সোমবার, এপ্রিল ০৬, ২০২০
  • সর্বশেষ আপডেট : ০৮:১৯ রাত

৫ ভুয়া ওয়ারেন্টে ৬৮ দিন হাজতবাস!

  • প্রকাশিত ০৭:০২ রাত ফেব্রুয়ারি ১৪, ২০২০
কারাগার
প্রতীকী ছবি

একে একে পাঁচটি মিথ্যা ওয়ারেন্টের বিরুদ্ধে আইনি লড়াই করতে হয় তাকে

সাভারে জমি নিয়ে বিরোধের জের ধরে আওলাদ হোসেন নামে এক ব্যক্তির নামে জারি হয় একে একে ৫টি ভুয়া ওয়ারেন্ট। যার পরিপ্রেক্ষিতে গ্রেফতার হয়ে ৬৮ দিন হাজতবাস করতে হয় তাকে। আইনি লড়াই শেষে গত ৬ জানুয়ারি মুক্তি পান তিনি।

এ ঘটনায় বাদী হয়ে মঙ্গলবার (১১ ফেব্রুয়ারি) আশুলিয়া থানায় ৮ জনের নাম উল্লেখ করে একটি মামলা করেছেন ভুক্তভোগী আওলাদ হোসেন। মামলাটির তদন্ত করছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।

আশুলিয়ার টাকসুর এলাকার বাসিন্দা আওলাদ হোসেন কাজ করেন উপজেলার গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রোগ্রাম অফিসার হিসেবে।

তার অভিযোগ, বাইশমাইল গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের সামনে তার মালিকানাধীন জমি নিয়ে সাভারের বাজার রোড এলাকার বাসিন্দা দানেশ ঢালীর সঙ্গে বিরোধ চলে আসছিল। এরই জের ধরে একটি চক্রের সঙ্গে যোগসাজশে তার বিরুদ্ধে ভুয়া ওয়ারেন্ট জারি করেন ওই ব্যক্তি।

যার পরিপ্রেক্ষিতে নারী ও শিশু নির্যাতনের অভিযোগে কক্সবাজারের এক মামলায় গত বছরের ৩০ অক্টোবর আওলাদকে আশুলিয়া থেকে গ্রেফতার করে পুলিশ। পুলিশি তদন্তে মামলার নথিপত্রে আওলাদ নামে কারও উল্লেখ না থাকায় ওয়ারেন্টটি জাল বিবেচনায় তাকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।

তবে কারাগার থেকে মুক্তির আগেই নারী ও নিশু নির্যাতনের অভিযোগে রাজশাহীর এক মামলায় আওলাদের নামে আরেকটি পরোয়ানা পৌঁছায়। এভাবে বাগেরহাট থেকে বিচারকের স্বাক্ষর জাল করে এবং শেরপুর ও ঢাকার আদালতের নামে একের পর এক ভুয়া ওয়ারেন্ট আসতে শুরু করে আওলাদের নামে।

এমতাবস্থায় গত বছরের ৮ ডিসেম্বর তার স্ত্রী উচ্চ আদালতে একটি রিট করেন। যার পরিপ্রেক্ষিতে ১০ ডিসেম্বর শুনানি শেষে রুল জারি করে উচ্চ আদালত।

কিন্তু একে একে পাঁচটি মিথ্যা ওয়ারেন্টের বিরুদ্ধে আইনি লড়াই করতে গিয়ে অযথা ৬৮ দিন হাজতবাস করতে হয় আওলাদকে।

আওলাদ অভিযোগ করে বলেন, বিচারকের স্বাক্ষর জাল করে ৫ জেলায় ভুয়া ওয়ারেন্ট জারি করে ৬৮ দিন হাজতবাস করানোর ঘটনায় প্রতিপক্ষ দানেশ ঢালী,  এক আইনজীবী, শীর্ষস্থানীয় একটি জাতীয় দৈনিকের সাংবাদিকসহ ৮ জনের নাম উল্লেখ করে আশুলিয়া থানায় তিনি বাদী হয়ে একটি মামলা করেছেন। মামলায় অ্যাডভোকেট সুমন ও আলমগীর নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেফতারও করা হয়েছে।

বিষয়টি সম্পর্কে জানতে আশুলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রিজাউল হক দিপুর মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।

আর থানার পুলিশ পরিদর্শক  (তদন্ত) জাবেদ মাসুদ মামলাটির বিষয়ে কোনো না করে তদন্তকারী সংস্থা সিআইডি'র সঙ্গে যোগাযোগের জন্য বলেন।