• সোমবার, এপ্রিল ০৬, ২০২০
  • সর্বশেষ আপডেট : ০৯:৩১ রাত

তিনদিন বস্তাবন্দি থাকার পর মেছো বাঘটির ঠাঁই হলো খাঁচায়

  • প্রকাশিত ০৯:০৮ রাত ফেব্রুয়ারি ১৪, ২০২০
যশোর-মেছোবাঘ
বুধবার যশোরের চৌগাছায় সীমান্ত লাগোয়া গ্রাম থেকে আটক করা হয় মেছো বাঘটিকে। ঢাকা ট্রিবিউন

স্থানীয় বন কর্মকর্তা বলেন, বিষয়টি বন্যপ্রাণী ইউনিটের এখতিয়ারে। আমাদের আসলে করণীয় কিছু নেই

যশোরে চৌগাছা উপজেলায় লোকালয়ে আসা একটি মেছোবাঘকে পাকড়াও করে বিপাকে পড়েছেন স্থানীয়রা। গত তিনদিন ধরে বস্তাবন্দি করে রাখা হলেও বনবিভাগ প্রাণীটিকে উদ্ধারে কোনো ব্যবস্থা নেয়নি।

বুধবার (১২ ফেব্রুয়ারি) রাতে চৌগাছা উপজেলার তিলকপুর গ্রাম থেকে মেছোবাঘটিকে ধরে বস্তায় ভরে রাখা হয়। শুক্রবার সেটিকে রাখা হয় একটি মুরগির খাঁচায়।

মেছো বাঘটির উচ্চতা প্রায় ১ ফুট এবং লম্বা আড়াই ফুটের মতো বলে জানা গেছে। 

তিলকপুর গ্রামের কৃষক ও স্থানীয় মসজিদের ইমাম লতা মিয়া জানান, বুধবার রাত ১০টার দিকে বাড়ির কাছে মেছো বাঘটিকে দেখে ভয়ে চিৎকার করলে লোকজন জড়ো হয়। এরপর সবাই মিলে বাঘটিকে ধরে ফেলেন।


আরও পড়ুন- ঘরের কোণে মেছোবাঘ, ভয়ে গ্রামবাসীর চিৎকার


লতা মিয়া বলেন, ধরার সময় মেছোবাঘটি আহমদ আলী নামে একজনকে কামড়ে দেয় এবং আমাকেও কয়েকদফা কামড়াতে যায়। একপর্যায়ে বাঁশের আঘাতে ধরাশায়ী করার পর সেটিকে বস্তাবন্দি করা হয়। শুক্রবার দুপুরে মুরগি খাঁচায় আটকে রাখা হয়েছে সেটিকে। এই সময়ের মধ্যে মাছ খাওয়ানোর চেষ্টা করা হলেও প্রাণীটি তা খায়নি।

তিনি বলেন, বাঘটিকে ছেড়ে দিলে মানুষ বা গৃহপালিত পশুকে কামড়াতে পারে অথবা মানুষ সেটিকে পিটিয়ে মেরে ফেলতে পারে সেই আশংকায় আটকে রেখেছি।

স্থানীয়দের ধারণা, গ্রামটি ভারত সীমান্ত লাগোয়া হওয়ার ওপারের (ভারতে) জঙ্গল থেকে সেটি লোকালয়ে চলে আসতে পারে।


আরও পড়ুন- খরগোশ শিকারিদের হাতে প্রাণ গেল মেছোবাঘের


এদিকে, মেছো বাঘ আটকের বিষয়টি উপজেলা বন কর্মকর্তা ওমর আলী গাজী ও বেনাপোল স্থলবন্দর বন্যপ্রাণী অপরাধ নিয়ন্ত্রণ ইউনিটের কর্মকর্তা মো. মামুন-অর-রশীদকে মুঠোফোনে জানান স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মী আজিজুর রহমান। কিন্তু সন্ধ্যা পৌনে ৭টা পর্যন্ত তারা কেউই ঘটনাস্থলে যাননি।

 এ বিষয়ে জানতে চাইলে চৌগাছা উপজেলা বন কর্মকর্তা ওমর আলী গাজী ঢাকা ট্রিবিউনকে বলেন, বিষয়টি বন্যপ্রাণী ইউনিটের এখতিয়ারে। আমাদের আসলে করণীয় কিছু নেই।

যোগাযোগ করা হলে বেনাপোল স্থলবন্দর বন্যপ্রাণী অপরাধ নিয়ন্ত্রণ ইউনিটের কর্মকর্তা মো. মামুন-অর-রশীদ বলেন, প্রাণীটি তেমন ক্ষতিকর নয়। ধরতে গেছে বলেই হয়তো কামড়ে দিয়েছে। রাতের বেলায় ছেড়ে দিলে গন্তব্যে চলে যাবে। এরপরও না ছাড়া হলে তবে কাল (১৫ ফেব্রুয়ারি) সকালে আমরা যাবো।