• সোমবার, ফেব্রুয়ারি ১৭, ২০২০
  • সর্বশেষ আপডেট : ১০:৩৪ রাত

‘রোহিঙ্গাদের নিরাপদ প্রত্যাবাসনে ন্যায়বিচার ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করুন’

  • প্রকাশিত ১১:২৪ সকাল ফেব্রুয়ারি ১৫, ২০২০
জাতিসংঘ
সম্প্রতি নিউইয়র্কে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে “শান্তিবিনির্মাণ ও টেকসই শান্তি: সংঘাত ও সংঘাত-পরবর্তী পরিস্থিতির ন্যায় বিচার” শীর্ষক এক উন্মুক্ত আলোচনায় বক্তব্য দেন জাতিসংঘে নিযুক্ত বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত রাবাব ফাতিমা ইউএনবি

সম্প্রতি নিউইয়র্কে নিরাপত্তা পরিষদে এ কথা বলেন জাতিসংঘে নিযুক্ত বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত রাবাব ফাতিমা

জাতিসংঘে নিযুক্ত বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত রাবাব ফাতিমা বলেছেন, রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ ও স্ব-প্রণোদিত প্রত্যাবাসন এবং কাঙ্ক্ষিত সামাজিক পুনর্মিলনের অন্যতম পূর্বশর্ত হলো ন্যায়বিচার ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা।

শনিবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) জাতিসংঘে বাংলাদেশ স্থায়ী মিশন জানায়, নিরাপত্তা পরিষদের চলতি ফেব্রুয়ারি মাসের সভাপতি বেলজিয়াম এই উন্মুক্ত আলোচনার আয়োজন করে।

সম্প্রতি নিউইয়র্কে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে “শান্তিবিনির্মাণ ও টেকসই শান্তি: সংঘাত ও সংঘাত-পরবর্তী পরিস্থিতির ন্যায় বিচার” শীর্ষক এক উন্মুক্ত আলোচনায় বক্তব্যকালে তিনি এ কথা বলেন।

রাষ্ট্রদূত রাবাব ফাতিমা সংঘাত থেকে বেরিয়ে আসা দেশগুলোর ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত বিচার ব্যবস্থার গুরুত্বের কথা তুলে ধরেন এবং রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে মিয়ানমার সরকারের মানবাধিকার লঙ্ঘন ও নৃশংস অপরাধের জবাবদিহিতা নিশ্চিতে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) যুগান্তকারী সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানান।

২০২০ সালের ২৩ জানুয়ারি ইন্টারন্যাশনাল কোর্ট অব জাস্টিজ (আইসিজে) এর নির্দেশকে একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় বলে উল্লেখ করেন তিনি।

বর্তমানে বাংলাদেশে ১১ লাখের বেশি রোহিঙ্গা আশ্রয় নিয়ে আছে। যাদের বেশিরভাগে ২০১৭ সালের আগস্টের শেষ দিকে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে দেশটির সেনাবাহিনীর নির্মম নির্যাতনের কারণে বাধ্য হয়ে নিজ দেশে ছেড়ে বাংলাদেশে পালিয়ে আসে।

নিরাপত্তা পরিষদের “নারী শান্তি ও নিরাপত্তা” এবং “যুব শান্তি ও নিরাপত্তা” এজেন্ডাসমূহের প্রতি বাংলাদেশের প্রতিশ্রুতির কথা পুনর্ব্যক্ত করে রাষ্ট্রদূত রাবাব ফাতিমা বলেন, “সশস্ত্র সংঘাতকালে শিশু ও নারীদের প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধ এবং এর দায়বদ্ধতা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে জাতিসংঘের বহু-পাক্ষিক প্রচেষ্টায় বাংলাদেশ অব্যাহতভাবে সমর্থনদানে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।”

 জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে অন্যতম প্রধান সৈন্য ও পুলিশ প্রেরণকারী দেশ হিসেবে বিশ্বের বিভিন্ন সংঘাত-প্রবণ এলাকায় বাংলাদেশ যে অবদান রেখে চলেছে তা তুলে ধরেন স্থায়ী প্রতিনিধি।

 “সংঘাত পরবর্তী পরিস্থিতি” বিষয়টির ওপর জোর দিয়ে তিনি বলেন, যাতে কেউ অপরাধের দায়মুক্তি না পায় তা নিশ্চিত করা, অপরাধের দায়বদ্ধতা নিরূপণ করা এবং অতীত সংঘাত ও সহিংসতার দুষ্টু চক্র ভেঙ্গে ফেলা অত্যন্ত জরুরি। এক্ষেত্রে অসমতা, বৈষম্য, বর্জনসহ সমাজে সংঘাত ও সহিংসতা সৃষ্টি করতে পারে এমন মূল কারণসমূহ চিহ্নিত করা এবং তা প্রতিরোধ করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।