• রবিবার, এপ্রিল ০৫, ২০২০
  • সর্বশেষ আপডেট : ০৭:৩৩ রাত

বন্ধুকে দিয়ে স্ত্রীকে ধর্ষণের পর ক্ষতবিক্ষত করলেন স্বামী!

  • প্রকাশিত ০৭:২৩ রাত ফেব্রুয়ারি ১৫, ২০২০
গণধর্ষণ-ধর্ষণ
প্রতীকী ছবি বিগস্টক

ব্লেড দিয়ে ওই নারীর হাত ও বুকসহ একাধিক অংশে আঘাত এবং গায়ে দাহ্য পদার্থ ঢেলে পুড়িয়ে দেওয়ার পর মাথার চুল কেটে দেওয়া হয়েছে

বগুড়ার শাজাহানপুর উপজেলায় বন্ধুকে দিয়ে স্ত্রীকে (২৪) ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে রফিকুল ইসলাম নামের এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। পাশাপাশি ব্লেড দিয়ে ওই নারীর হাত ও বুকসহ একাধিক অংশে আঘাত এবং গায়ে দাহ্য পদার্থ ঢেলে পুড়িয়ে দেওয়ার পর মাথার চুল কেটে দেওয়া হয়েছে। 

শনিবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে এ ঘটনা ঘটে। পরে স্থানীয়রা ওই নারীকে উদ্ধার করে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালে ভর্তি করে। 

শাজাহানপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আজিম উদ্দিন এর সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

ভুক্তভোগীর পরিবারের সদস্যরা জানান, প্রায় ১০ বছর আগে রফিকুল ইসলামের সঙ্গে ওই নারীর বিয়ে হয়। তাদের আট বছর বয়সী এক কন্যা সন্তান রয়েছে। 

বগুড়া শজিমেক হাসপাতালের গাইনি বিভাগের ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন ওই নারী জানান, নারী আসক্তির কারণে স্বামী রফিকুলের সঙ্গে তার দাম্পত্য কলহ শুরু হয়। এ কারণে তাকে প্রায়ই শারীরিক নির্যাতন করা হতো। নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে প্রায় তিন বছর আগে তিনি স্বামীর বিরুদ্ধে মামলা করেন। এর এক বছর পর রফিকুল তাকে তালাক দেন। এরপর আরও দুটি বিয়ে করেন রফিকুল। কিন্তু তাদের সঙ্গেও তার বিচ্ছেদ হয়। সর্বশেষ প্রায় দেড় বছর আগে রফিকুল নিজের ভুল স্বীকার করে ভুক্তভোগী তাকে আবার বিয়ে করেন।

ওই নারী আরও জানান, বিয়ে করার পরও রফিকুলের নারী আসক্তি কমেনি। এ নিয়ে প্রায়ই তাদের ঝগড়া হতো। শনিবার দুপুর ১২টার দিকে রফিকুল তার এক বন্ধুকে সঙ্গে নিয়ে বাসায় যান। এ সময় স্বামীর সহযোগিতায় ওই বন্ধু তার হাত বেঁধে ও মুখ চেপে ধরে ধর্ষণ করেন। এরপর স্বামী রফিকুল তাকে মারপিটের পর ব্লেড দিয়ে হাত ও বুকে আঘাত করেন। এক পর্যায়ে বোতল থেকে তার অ্যাসিড ঢেলে ঝলসে দেওয়া হয়। এতেও শেষ হয়নি নির্যাতন। তার মাথার ডান পাশের চুলও কেটে দেওয়া হয়। 

বগুড়া শজিমেক হাসপাতালের সহকারি পরিচালক (প্রশাসন) ডা. আবদুল ওয়াদুদ জানান, নির্যাতনের শিকার ওই গৃহবধুর মাথার ডান পাশে চুল কাটা, শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখম ও ফোসকা রয়েছে। পরীক্ষা-নিরীক্ষা ছাড়া এ ফোসকা অ্যাডিসের না গরম পানির-তা নিশ্চিত করে বলা সম্ভব নয়। তাকে ভর্তির পর প্রথমে ক্যাজুয়ালটি বিভাগে রাখা হয়েছিল। পরে ওসিসি হয়ে গাইনী বিভাগের ওয়ার্ডে স্থানান্তর করা হয়েছে। 

শাজাহানপুর থানার ওসি আজিম উদ্দিন জানান, ওই গৃহবধুর চুল কাটা, শরীরে নির্যাতনের জখম ও ফোসকার দাগ রয়েছে। এর আগে স্বামীর বন্ধু তাকে ধর্ষণ করেছেন বলে দাবি করেছেন। বিকাল পর্যন্ত এ ঘটনায় কেউ মামলা করেনি। স্বামী রফিকুল ইসলামকে গ্রেফতারে অভিযান চলছে।