• মঙ্গলবার, এপ্রিল ০৭, ২০২০
  • সর্বশেষ আপডেট : ০৯:৪১ রাত

মৌলভীবাজারে বিরল প্রজাতির লজ্জাবতী বানর উদ্ধার

  • প্রকাশিত ০৯:৫৯ রাত ফেব্রুয়ারি ১৮, ২০২০
মৌলভীবাজার-বন্যপ্রাণী
ভারতীয় সীমান্তবর্তী চা বাগান সংলগ্ন একজন কৃষকের বাড়ি থেকে বানরটি উদ্ধার করা হয়। সৌজন্য

‘দেশের বনাঞ্চলে ঠিক কতটি লজ্জাবতী বানর রয়েছে তার সঠিক কোনো হিসাব নেই। তবে বন উজাড় এবং খাদ্য ও আবাসস্থল সংকটের কারণে সুন্দর এই প্রাণীটি হারিয়ে যেতে বসেছে’

মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল উপজেলার সীমান্তবর্তী একটি চা-বাগান থেকে বিরল প্রজাতির একটি লজ্জাবতীবানর উদ্বার করা হয়েছে।

বাংলাদেশ বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশনের পরিচালক সজল দেব জানান, সম্প্রতি ধলই সীমান্ত হোসনাবাদ এলাকার ভারত-বাংলাদেশ অংশে কৃষি কাজের জন্য পাহাড়-টিলার বন-জঙ্গল কেটে পরিষ্কার করা হচ্ছে। এতে এ লজ্জাবতী বানরটির বসবাসের সঙ্কট দেখা দেওয়াতে হয়তো সেটি লোকালয়ে বেরিয়ে আসে। গত শনিবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) রাতে হোসনাবাদ চা বাগান এলাকার বাসিন্দা হেলাল মিয়ার বসত ঘরে পাশে বানরটি এসে ঘোরাফেরা করতে থাকে। এ সময় একটি কুকুর বানরটিকে তাড়া করে। হেলাল মিয়া ঘর থেকে বেড়িয়ে কুকুরের কাছ থেকে বানরটিকে উদ্বার করে তার কাছে নিয়ে যান।

সজল দেব বলেন, “বানরটি শারীরিকভাবে সুস্থ রয়েছে। তবে খাওয়া ধাওয়া সঠিকভাবে না হওয়াতে দুর্বল হয়ে পড়েছে। প্রাণীটির চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।”

এ নিয়ে সেবা ফাউন্ডেশনে চারটি লজ্জাবতী বানর রয়েছে বলে জানান সজল দেব।


আরও পড়ুন - বনরুই পাচার ও বিলুপ্তি ঠেকাতে সরকারের পদক্ষেপ কি যথাযথ?


এদিকে বাংলাদেশ বন বিভাগের বন্যপ্রাণী ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ কমকর্তা জোহরা মিলা ঢাকা ট্রিবিউনকে বলেন, “লজ্জাবতী বানর (Bengal Slow Loris) বাংলা লজ্জাবতী বানর নামেও পরিচিত। মৌলভীবাজারের লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান, সাতছড়ি জাতীয় উদ্যান, রেমা কালেঙ্গা বনবিটসহ সিলেট ও চট্টগ্রামের ঘন গহীন বনে এদের দেখা যায়। নিশাচর এই প্রাণীটি গাছের উঁচু ডালে উল্টো হয়ে ঝুলে থাকে ও খুব ধীরে চলাচল করে। বানরের অন্য প্রজাতির মতো যত্রতত্র ঘোরাঘুরি না করে সব সময় নিজেকে আড়াল রাখতে পছন্দ করে। মূলত গাছের কচিপাতা, আঠা, ফলমূল, ছোট পোকামাকড়, পাখির ডিম খেয়ে থাকে। তবে মজার বিষয় হচ্ছে খাওয়ার জন্য এরা হাত ব্যবহার না করে সরাসরি মুখ লাগিয়ে খায়। বছরে একবার মাত্র একটি বাচ্চা দেয় এই প্রাণীটি।”  

তিনি আরও বলেন, “দেশের বনাঞ্চলে ঠিক কতটি লজ্জাবতী বানর রয়েছে তার সঠিক কোনো হিসাব নেই। তবে বন উজাড় এবং খাদ্য ও আবাসস্থল সংকটের কারণে সুন্দর এই প্রাণীটি হারিয়ে যেতে বসেছে। আন্তর্জাতিক প্রকৃতি ও প্রাকৃতিক সম্পদ সংরক্ষণ সংঘ (আইইউসিএন) লজ্জাবতী বানরকে ‘সংকটাপন্ন’ তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করেছে। বন্যপ্রাণী আইন-১৯৭৪ ও বন্যপ্রাণী আইন-২০১২ এর তফসিল-১ অনুযায়ী এই প্রজাতিটি সংরক্ষিত। তাই এই প্রাণটি হত্যা, শিকার বা এর যে কোনো ক্ষতিকরা শাস্তিযোগ্য অপরাধ।”


আরও পড়ুন - ময়ূরটিকে তাড়া করছিল কুকুর, উদ্ধার করলেন কৃষক