• মঙ্গলবার, এপ্রিল ০৭, ২০২০
  • সর্বশেষ আপডেট : ০৯:৪১ রাত

রাজনৈতিক কোন্দল: বাস থেকে নামিয়ে বিএনপি কর্মীকে কুপিয়ে হত্যা

  • প্রকাশিত ০২:২৭ দুপুর ফেব্রুয়ারি ২০, ২০২০
কুপিয়ে হত্যা
প্রতীকী ছবি

এলাকায় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে দলের নেতা-কর্মীদের মাঝে দীর্ঘদিন ধরে কোন্দল চলে আসছে

বগুড়ায় প্রকাশ্য দিবালোকে বাস থেকে নামিয়ে আপেল মাহমুদ (৩৫) নামে এক বিএনপি কর্মীকে ছুরিকাঘাতে হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনায় মারাত্মক জখম হয়েছেন তার সহোদর আল মামুন (৩৮)। তিনিও বিএনপি কর্মী বলে জানা গেছে।

বৃহস্পতিবার (২০ ফেব্রুয়ারি) সকালে বগুড়া সদরের চন্ডিহারা খোলাগাছি এলাকায় ঘটনাটি ঘটে। আহতাবস্থায় মামুনকে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। 

রাজনৈতিক কোন্দলের জের ধরে দুই সহোদরকে ঘটনাস্থলে ডেকে নিয়ে এ ঘটনা ঘটানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন সদর থানার ইন্সপেক্টর (তদন্ত) রেজাউল করিম রেজা।

সূত্র জানিয়েছে, উপজেলার গোকুল ইউনিয়নের স্বেচ্ছাসেবক দল কর্মী সনি হত্যার জের ধরেই বৃহস্পতিবারের ঘটনাটি ঘটানো হয়েছে।

পুলিশ ও এলাকাবাসী জানায়, নিহত আপেল গোকুল ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সক্রিয় কর্মী ছিলেন। তার ভাই মামুনও ওয়ার্ড বিএনপি কমিটির সদস্য। এদিন সকাল ৮টার দিকে তারা মহাস্থান হাটে যান। বিষয়টি জানতে পেরে হত্যাকাণ্ডে জড়িতরা ছাগল বিক্রির কথা বলে ফোন করে চন্ডিহারা খোলাগাছির মোড়ের যেতে বলে। 

সকাল ৯টার দিকে তারা বাসে করে সেখানে গেলে গোকুল ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সভাপতি ও জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহবায়ক কমিটির সদস্য মিজানুর রহমান মিজান এবং তার সহযোগিরা দুই ভাইকে বাস থেকে নামিয়ে পাশের একটি লিচু বাগানে নিয়ে যায়।

ঘটনাস্থলে নিয়ে গিয়ে আপেলের বুক ও পিঠে ছুরিকাঘাত এবং মামুনের হাতে কোপ দিয়ে আঙুলগুলো প্রায় বিচ্ছিন্ন করে ফেলে পালিয়ে যায়। এতে ঘটনাস্থলেই আপেলের মৃত্যু হয়। আশঙ্কাজনক অবস্থায় মামুনকে উদ্ধার করে বগুড়া শহীদ জিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

গোকুল ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সুমন আহমেদ বিপুল সাংবাদিকদের বলেন, এলাকায় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে দলের নেতা-কর্মীদের মাঝে দীর্ঘদিন ধরে কোন্দল চলে আসছে। ২০১৮ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি মিজানের সহযোগী সনিকে গোকুল এলাকায় হত্যা করা হয়। ওই ঘটনায় মিজানও গুরুতর আহত হয়েছিলেন। মামুন ওই হত্যা মামলার অন্যতম আসামি। 

ওই হত্যাকাণ্ডের পর থেকে মামুন-মিজান গ্রুপের বিরোধ তুঙ্গে ওঠে। গত বছরের ২১ অক্টোবর মামুন আদালতে হাজিরা দিয়ে বাড়ি ফেরার পথে শহরের আটাপাড়ায় তার ওপর হামলার চেষ্টা করা হয়। সেবারও অভিযোগ উঠেছিল মিজান ও তার অনুসারীদের বিরুদ্ধে।

বগুড়ার ছিলিমপুর মেডিকেল পুলিশ ফাঁড়ির এসআই আবদুল আজিজ মন্ডল জানান, ধারালো অস্ত্রের আঘাতে আল মামুনের দুই হাতের আঙুলগুলো প্রায় বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। 

সদর থানার ইন্সপেক্টর (তদন্ত) রেজাউল করিম রেজা জানান, আপেলের মরদেহ উদ্ধার করে বগুড়া শজিমেক হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। তাৎক্ষণিকভাবে হামলাকারীদের নাম-পরিচয় জানা যায়নি। তাদের ধরতে অভিযান চলছে।