• মঙ্গলবার, এপ্রিল ০৭, ২০২০
  • সর্বশেষ আপডেট : ১১:১৪ রাত

সেই বন বিড়ালটি ফিরে গেলো বনে

  • প্রকাশিত ০৪:৪০ বিকেল ফেব্রুয়ারি ২০, ২০২০
বন বিড়াল
খাবারের খোঁজে লোকালয়ে এসেছিল বন বিড়ালটি। ঢাকা ট্রিবিউন

বিপন্ন প্রজাতির বিড়ালটি হয়তো খাবারের সন্ধানে লোকালয়ে এসেছিল

ভোলা সদর উপজেলার চরসামাইয়া ইউনিয়ন থেকে উদ্ধার হওয়া বিলুপ্ত প্রজাতির বন বিড়ালটি অবমুক্ত করেছে বন বিভাগ।

বৃহস্পতিবার (২০ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১০টায় সদরের বাঘমারা এলাকার গহীন অরণ্যে বন বিড়ালটিকে অবমুক্ত করা হয়।

এর আগে বুধবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে সদরের খেয়াঘাট সেতু সংলগ্ন এলাকার রেন্টাল পাওয়ার প্লান্ট থেকে বন বিড়ালটি উদ্ধার করা হয়।

বন বিভাগের সদরের রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. কামরুল ইসলাম বলেন, “রেন্টাল পাওয়ারের কর্মরত সদস্যরা বুধবার বিকেলে তাদের মেশিন রুমে বনবিড়ালটি দেখতে পায়। এ সময় সবাই মিলে বন বিড়ালটি আটক করে বন বিভাগকে খবর দেয়। পরে বন বিভাগের কর্মীরা এটি উদ্ধার করে আজ সকালে বাঘমারা এলাকার গহীন অরণ্যে অবমুক্ত করেন। বিপন্ন প্রজাতির বিড়ালটি হয়তো খাবারের সন্ধানে লোকালয়ে এসেছিল।”


আরও পড়ুন - ঘরের ভেতর বসেছিল মেছো বাঘ


বাংলাদেশ বন বিভাগের বন্যপ্রাণী ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ কর্মকর্তা জোহরা মিলা ঢাকা ট্রিবিউনকে জানান, বন বিড়াল (Jungle cat)  জংলি বিড়াল, খাগড়া বিড়াল বা জলাভূমির বিড়াল হিসেবে পরিচিত। মূলত গাছের কোটর, গুহা, জলাশয়ের ধারের ঝোপঝাড়, পুরনো ভাঙ্গা দালান-কোঠা ও গ্রামীণ বনে এরা বাস করে। এটি খুবই চালাক প্রকৃতির প্রাণী। মাটিতে যেমন দ্রুত দৌড়াতে পারে তেমনই গাছে ওঠা, বা সাঁতারেও খুব দক্ষ। নিশাচর এই প্রাণীটি খাবারের সন্ধানে এক রাতে ৩ থেকে ৬ কিলোমিটার পর্যন্ত পথ পাড়ি দেয়। ইঁদুর, পাখি, পোকামাকড়, খরগোশ, গিরগিটি, মাছ, ব্যাঙ ইত্যাদি খেয়ে থাকে। তবে মাঝে মাঝে এরা গাছের ফল বা কৃষকের হাঁস-মুরগিও খায়।

তিনি বলেন, “ব্যাপক নিধন ও বাসস্থান ধ্বংসের কারণে বন বিড়াল বিপন্ন। আন্তর্জাতিক প্রকৃতি ও প্রাকৃতিক সম্পদ সংরক্ষণ সংঘ (আইইউসিএন) বনবিড়ালকে “ন্যূনতম বিপদগ্রস্থ” বলে তালিকাভুক্ত করেছে। বাংলাদেশের বন্যপ্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) আইনের এক নম্বর তফসিল অনুযায়ী এই বন্যপ্রাণী সংরক্ষিত। তাই এটি হত্যা, শিকার বা এর কোনো ক্ষতিকরা শাস্তিযোগ্য অপরাধ।”


আরও পড়ুন - ময়ূরটিকে তাড়া করছিল কুকুর, উদ্ধার করলেন কৃষক