• মঙ্গলবার, এপ্রিল ০৭, ২০২০
  • সর্বশেষ আপডেট : ০৯:৪১ রাত

বিনম্র শ্রদ্ধায় শহীদদের স্মরণ করছে জাতি

  • প্রকাশিত ১২:৪৯ রাত ফেব্রুয়ারি ২১, ২০২০
একুশে ফেব্রুয়ারি - শহীদ দিবস - আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস - আবদুল হামিদ - শেখ হাসিনা
রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা একুশে ফেব্রুয়ারি মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের প্রথম প্রহরে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে ভাষাশহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করছেন ছবি: পিআইডি

খালি পায়ে আসা এসব মানুষের পোশাকে একুশের ছোঁয়া, হাতে ফুল, ব্যানার-ফেস্টুন। ব্যানারগুলোতে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধার বাণী, ফেস্টুনে স্থান পেয়েছে অ আ ক খ বর্ণমালা- সব মিলিয়ে শোকাবহ পরিবেশ। সেই পরিবেশকে আরও গুরুগম্ভীর করে দেয় মাইকে বাজানো ভাই হারানোর গান

বিনম্র শ্রদ্ধা, যথাযোগ্য মর্যাদা ও ভাবগাম্ভীর্যপূর্ণ পরিবেশে “মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস” পালন শুরু হয়েছে। ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে একুশের প্রথম প্রহর থেকেই বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার লাখো মানুষের ঢল নামে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে।

দিবসের (শুক্রবার) প্রথম প্রহরে, রাত ১২টা ১ মিনিটে জাতির পক্ষে থেকে ভাষা আন্দোলনের বীরদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এ সময় মাইকে বেজে ওঠে অমর একুশের কালজয়ী গান “আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি…”।

পুষ্পস্তবক অর্পণ শেষে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী সেখানে কিছুক্ষণ নীরবে দাঁড়িয়ে থাকেন।

রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী শ্রদ্ধা নিবেদনের পর জাতীয় সংসদের স্পিকার, মন্ত্রী, সুপ্রিম কোর্ট-হাইকোর্টের বিচারপতিগণ, ঢাকার দুই মেয়র, সেনা, নৌ, বিমান বাহিনীর প্রধানবৃন্দ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় উপাচার্য ও কূটনীতিকসহ বিশিষ্ট ব্যক্তিরা শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। তবে এ সময় নিরাপত্তাগত কারণে সর্বসাধারণকে সেখানে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি। পরে শহীদ মিনার সবার জন্য উন্মুক্ত করা হয়।

এদিকে, ভিআইপিদের পর রাজনৈতিক দল, সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠনের সঙ্গে সঙ্গে লাখো মানুষের ঢল নামে শহীদ মিনারে। সবাই খালি পায়ে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানাতে এসেছেন ভাষা শহীদদের প্রতি, শ্রদ্ধা জানাতে দেখা যায় কয়েকজন বিদেশিকেও।

শ্রদ্ধা জানাতে আসা মানুষদের সাদা-কালো পাঞ্জাবি-শাড়িসহ পোশাকেও ছিল একুশের ছোঁয়া। অধিকাংশের বুকেই ছিলো কালো ব্যাচ, হাতে ফুল ও সঙ্গে কালো ব্যানার-ফেস্টুন। ব্যানারগুলোতে লেখা একুশ মানে মাথা নত না করা, ভাষা শহীদদের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা, একুশে ফেব্রুয়ারি অমর হোক ইত্যাদি, ফেস্টুনে স্থান পেয়েছে অ আ ক খ বর্ণমালা- সব মিলিয়ে শোকাবহ পরিবেশ। সেই পরিবেশকে আরও গুরুগম্ভীর করে দেয় মাইকে বাজানো ভাই হারানোর গান।


আরও পড়ুন - প্রধানমন্ত্রী: বাংলা সাহিত্য-সংস্কৃতি বিশ্বে ছড়িয়ে দিন


এর আগে বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই শহীদ মিনারকে এলাকা নিরাপত্তা বেস্টনীর মধ্যে নিয়ে আসা হয়। র‌্যাব ও পুলিশের পক্ষ থেকে বসানো হয় “ওয়াচ টাওয়ার”, পুরো এলাকা তল্লাশি করা হয় ডগ স্কোয়াড দিয়ে। এছাড়া গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে লাগানো হয়েছে সিসিটিভি ক্যামেরা, বসানো হয় র‌্যাব, ডিএমপি ও ফায়ার সার্ভিসের কন্ট্রোল রুম।

বিকেল থেকেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি, দোয়েল চত্বরসহ শহীদ মিনারে প্রবেশের রাস্তাগুলোতে ব্যারিকেড বসিয়ে পাহারা দিতে দেখা যায় পুলিশ সদস্যদের। সন্ধ্যার পরপরই বন্ধ করে দেওয়া হয় শহীদ মিনারমুখী সড়কগুলো।

এদিকে, রাজধানী ঢাকা ছাড়াও শুক্রবার দিনব্যাপী সারাদেশ ও বিদেশে বাংলাদেশের কূটনৈতিক মিশনগুলোতেও শহীদ ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালিত হবে। দিবসটি উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী বিশেষ বাণী দিয়েছেন, সরকারি-বেসরকারিভাবে নেওয়া হয়েছে বিশেষ কর্মসূচি।

প্রসঙ্গত, বাঙালি জাতির জন্য এই দিবসটি চরম শোক ও বেদনার, অন্যদিকে মায়ের ভাষা বাংলার অধিকার আদায়ের জন্য সর্বোচ্চ ত্যাগের মহিমায় উদ্ভাসিত। যে কোনো জাতির জন্য সবচেয়ে মহৎ ও দুর্লভ উত্তরাধিকার হচ্ছে মৃত্যুর উত্তরাধিকার-মরতে জানা ও মরতে পারার উত্তরাধিকার। ১৯৫২ সালের একুশে ফেব্রুয়ারি শহীদরা জাতিকে সে মহৎ ও দুর্লভ উত্তরাধিকার দিয়ে গেছেন।


আরও পড়ুন - শহিদ মিনার নেই যশোরের ৬৫০ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে


১৯৫২ সালের এদিনে “বাংলাকে” রাষ্ট্রভাষা করার দাবিতে বাংলার (তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান) ছাত্র ও যুবসমাজসহ সর্বস্তরের মানুষ সে সময়ের শাসকগোষ্ঠীর চোখ-রাঙানি ও প্রশাসনের ১৪৪ ধারা উপেক্ষা করে স্বতঃস্ফূর্তভাবে রাজপথে নেমে আসে।

মায়ের ভাষা প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে দুর্বার গতি পাকিস্তানি শাসকদের শংকিত করে তোলায় সেদিন ছাত্র-জনতার মিছিলে পুলিশ গুলি চালালে সালাম, জব্বার, শফিক, বরকত ও রফিক গুলিবিদ্ধ হয়ে শহীদ হন। তারপর থেকেই বাঙালি জাতি দিনটিকে ভাষা শহীদ দিবস হিসেবে পালন করে আসছে।

পরবর্তীতে, জাতিসংঘের শিক্ষা, বিজ্ঞান ও সাংস্কৃতি বিষয়ক সংস্থা (ইউনেস্কো) ১৯৯৯ সালে মহান একুশের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে দিবসটিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার আন্তর্জাতিক পর্যায়েও দিবসটি পালিত হচ্ছে।