• মঙ্গলবার, এপ্রিল ০৭, ২০২০
  • সর্বশেষ আপডেট : ০৯:৪১ রাত

ভাষা শহীদদের প্রতি ওদের ভালোবাসা

  • প্রকাশিত ১০:৩২ রাত ফেব্রুয়ারি ২১, ২০২০
টাঙ্গাইল
ভোরের আলো ফুটতেই নিজেদের হাতে গড়া শহীদ মিনারে শ্রদ্ধাঞ্জলি অর্পণ করে শিশুরা। ঢাকা ট্রিবিউন

‘এই শিশুদের দেশপ্রেম দেখে অভিভূত হয়েছি। মিনারটিতে প্রত্যেকের দেওয়া একেকটি ফুলে মিশে রয়েছে ভাষা শহীদদের প্রতি তাদের শ্রদ্ধা আর অগাধ ভালোবাসা’

টাঙ্গাইলের প্রত্যন্ত গ্রামের বিদ্যালয়ে ইট-পাথরের শহীদ মিনার নেই তো কি হয়েছে। নিজ হাতে গড়া কলাগাছ, বাঁশ-কাঠের প্রতীকী শহীদ মিনারেই শ্রদ্ধাঞ্জলি অর্পণ করেছে এসব বিদ্যালয়ের শিশুরা। 

শুক্রবার (২১ ফেব্রুয়ারি) টাঙ্গাইলের বিভিন্ন উপজেলায় গ্রামে গ্রামে কাদামাটি, কলাগাছ, বাঁশের কঞ্চি ও রঙিন কাগজ দিয়ে শহীদ মিনার তৈরি করে শ্রদ্ধা নিবেদন করতে দেখা গেছে শিশুদের। এসব শিশুদের বয়স ৫-১২ বছরের মধ্যে। প্রথম থেকে ৬ষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী তারা। 

শিশুরা জানায়, গত মঙ্গলবার ওরা পরিকল্পনা করে। বুধবার ভোর থেকে শহীদ মিনার গড়ার কাজে লেগে পড়ে। স্কুলে যাওয়ার কারণে সকাল থেকে দুপুরে বিরতি দিতে হয়েছে তাদের। বৃহস্পতিবার বিকেলেই গড়ে ওঠে শহীদ মিনার। শুক্রবার ভোর হওয়ার সঙ্গে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানিয়েছে তারা। পরে যুবক ও প্রবীণরাও ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানায় তাদের তৈরি শহীদ মিনারে।

পাটকাঠি শহীদ মিনার তৈরি করেছে দুই শিশু। ঢাকা ট্রিবিউন

শুক্রবার সকালে টাঙ্গাইল পৌর এলাকার কাগমারা, এনায়েতপুর, বেড়াডোমা, দাইন্যা ইউনিয়নের বাইমাইল, বাসারচর, চিলাবাড়ি, বাঘিল ইউনিয়নের ধরেরবাড়ী, দুরিয়াবাড়ি, বানিয়াবাড়ি, কৃষ্ণপুর ও গালা ইউনিয়নের ভাটচান্দা, সদুল্লাপুরসহ বিভিন্ন গ্রাম ঘুরে শিশুদের উদ্যোগেই শহীদ মিনার তৈরির কথা জানা গেছে।

কাদামাটি, কলাগাছ, বাঁশের কঞ্চি ইত্যাদি দিয়ে তৈরি এসব শহীদ মিনার রঙিন কাগজ ও নানা রঙের ফুল দিয়ে তৈরি করা হয়েছে। সীমানা নির্ধারণ করতে চারপাশে সুতা টানিয়ে তাতে রঙিন কাগজ ও বেলুন দিয়ে সাজানো হয়েছে। শ্রদ্ধা জানাতে শহীদ বেদীতে ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে বুনোফুল, গাঁদা, গোলাপ। পাশেই সাউন্ড বক্সে বাজানো হচ্ছে দেশাত্মবোধক গান। 

শিক্ষার্থীরা জানায়, স্কুলের শিক্ষক, অভিভাবক ও বড়দের কাছ থেকে শহীদ দিবসের তাৎপর্য সম্পর্কে জেনেছে। তাই শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য শহীদ মিনার বানিয়েছে শিশুরা।

সামর্থ্য অনুযায়ী সাজানো হয়েছে শহীদ মিনার, সাহায্য করেছেন বড়রাও। ঢাকা ট্রিবিউন

কাগমারা এলাকার চতুর্থ শ্রেণীর শিক্ষার্থী জিহাদ মিয়া জানায়, তাদের গ্রামে শহীদ মিনার নেই। ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানাতে হলে যেতে হয় তিন কিলোমিটার। তাই শহীদ মিনার তৈরি করেছে তারা। তাদের কাজ দেখে প্রথমে কেউ উৎসাহ না দিলেও পরে বাড়ির দাদি, নানি, মা, চাচি ও বড় ভাইবোনেরা সাহায্য করেছেন। 

ধরেরবাড়ী গ্রামের তৃতীয় শ্রেণীর শিক্ষার্থী মানিক বলে, আমরা শিক্ষকদের কাছে শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের ইতিহাস জেনছি। তাই শহীদ মিনারের আঙিনায় জুতা খুলে খালি পায়ে প্রবেশ করেছি।

ভাষা শহীদের প্রতি শিশুদের ভালোবাসা সবাইকে অবাক করেছে। ঢাকা ট্রিবিউনধরেরবাড়ী গ্রামের নার্গিস নামের এক অভিভাবক বলেন, গ্রামে স্থায়ীভাবে কোনো শহীদ মিনার নেই। শহীদ মিনার থাকলে সবাই শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে পারতাম। এতে শিশুরা দেশপ্রেমে উজ্জীবিত হতো।

দ্বিতীয় শ্রেণীর শিক্ষার্থী সামিয়া জানায়, তাদের বাড়িতে ছিল হলুদ গাঁদাফুল ও লাল গোলাপ ফুল। তার বাড়ি থেকে এনে শহীদ বেদীতে শ্রদ্ধা নিবেদন করছে।

কাগমারা গ্রামের বাসিন্দা মামুন মিয়া বলেন, এই শিশুদের দেশপ্রেম দেখে অভিভূত হয়েছি। মিনারটিতে প্রত্যেকের দেওয়া একেকটি ফুলে মিশে রয়েছে ভাষা শহীদদের প্রতি তাদের শ্রদ্ধা আর অগাধ ভালোবাসা।