• বৃহস্পতিবার, এপ্রিল ০২, ২০২০
  • সর্বশেষ আপডেট : ১০:১৫ সকাল

বাবাকে পেটানোর প্রতিশোধ নিতেই রকেট মেম্বার হত্যাকাণ্ড

  • প্রকাশিত ০৮:৫২ রাত ফেব্রুয়ারি ২৪, ২০২০
হত্যা
প্রতীকী ছবি

‘আমার উচ্চতা ছয় ফুট তিন ইঞ্চি। আমার মতো এমন ছেলে থাকতে বাবাকে পিটানোর প্রতিশোধ নিতে পারবো না কেন? তবে আমি রকেট মেম্বারকে একেবারে মেরে ফেলতে চাইনি’

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলে ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক মেম্বার আবু বক্কর সিদ্দিক (রকেট) হত্যাকাণ্ডের রহস্য উম্মোচিত হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

পুলিশের দাবি, আরমান মিয়াকে অমানুষিকভাবে পেটানোর ঘটনায় জড়িত রকেট মেম্বারের মধ্যে কোনো ধরনের অনুশোচনা না হওয়ায় হৃদয় মিয়া রকেট মিয়ার উপর প্রতিশোধ নেওয়ার পরিকল্পনা করেন। সেই পরিকল্পনাতেই রকেট মেম্বারের উপর হামলা করা হয় যাতে নিহত হন রকেট।

এর আগে গত ২২ ফেব্রুয়ারি হৃদয় মিয়াসহ ১১ জনকে ফরিদপুর জেলা সদর থেকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এ বিষয়ে সোমবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) হৃদয় মিয়া ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেওয়ার কথা থাকলেও শেষ মুহুর্তে অপারগতা প্রকাশ করেন তিনি।

গ্রেপ্তার হওয়া অন্যরা হলেন, সরাইল সদরের বেপারিপাড়ার ধনু বেপারির ছেলে আরমান মিয়া, সরাইল সদর ইউপির বর্তমান সদস্য মো. শাহ আলম মিয়া, আজমান মিয়া, তার ছেলে ফরহাদ মিয়া ও রাশেদ মিয়া, আরমান মিয়ার ছেলে রিয়াদ মিয়া (হৃদয়ের ভাই), রমজান মিয়ার ছেলে আনার মিয়া, নাজু মিয়ার ছেলে ওসমান গণি রুপম, আজমান মিয়ার ছেলে জয়, কাছন মিয়ার ছেলে হৃদয়।

এদের মধ্যে ফরহাদ মিয়া, আনার মিয়া ও ওসমান গণি সোমবার ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। 

এদিকে পুলিশের দাবি, হৃদয় মিয়া পুলিশের কাছে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে বলেছে, “আমার উচ্চতা ছয় ফুট তিন ইঞ্চি। আমার মতো এমন ছেলে থাকতে বাবাকে পিটানোর প্রতিশোধ নিতে পারবো না কেন? তবে আমি রকেট মেম্বারকে একেবারে মেরে ফেলতে চাইনি। পরিকল্পনা মতো যাদেরকে নিয়ে তার উপর হামলা করেছি তাদের মধ্যে একজন দায়ের কোপ দিলে তাকে আর বাঁচানো যায়নি।”

পুলিশ আরও জানায়, সোমবার আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদানকারী তিনজনই হৃদয়ের নির্দেশে হামলার কথা স্বীকার করেছেন।

এ ব্যাপারে সরাইল থানার ওসি মো. শাহাদাৎ হোসেন টিটু সোমবার বিকেলে জানান, “সর্বশেষ গ্রেপ্তার হওয়া ১১ জনের মধ্যে হৃদয়সহ ছয়জন আদালতে জবানবন্দি দেবে বলে রাজি হয়। তবে শেষ পর্যন্ত হৃদয়সহ তিনজন জবানবন্দি দেয়নি। ওই তিনজনসহ বাকি আটজনকে ১২ দিন করে রিমান্ড আবেদন জানানো হয়েছে।”

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ ও প্রশাসন) মো. আলমগীর হোসেন ঢাকা ট্রিবিউনকে বলেন, “হৃদয় জিজ্ঞাসাবাদে হামলার কথা স্বীকার করেছে। তবে সে বলেছে, রকেট মেম্বারকে হত্যা করা হোক সেটা সে তা চায়নি। কয়েক মাস আগে রকেট মেম্বার লোকজন নিয়ে তার বাবাকে পিটালে সেটি সহ্য হয়নি তার। ওই ঘটনার প্রতিশোধ নিতেই এই হত্যাকাণ্ড।”

উল্লেখ্য, গত ১৩ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যায় উপজেলা সদরের প্রাত বাজার এলাকায় নিজ ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের সামনে রকেট মেম্বারকে হত্যা করে প্রতিপক্ষের লোকেরা। এর আগে ২০০৩ সালে রকেট মেম্বারের শিশু পুত্র রক্সিকে (১০) হত্যা করে লাশ বস্তা ভর্তি করে রাস্তায় ফেলে রাখা হয়েছিল।