• রবিবার, এপ্রিল ০৫, ২০২০
  • সর্বশেষ আপডেট : ০৬:৫১ সন্ধ্যা

ধর্ষণে জন্ম নেওয়া শিশু কোলে থানায় হাজির কিশোরী

  • প্রকাশিত ০৯:১৯ রাত ফেব্রুয়ারি ২৪, ২০২০
গণধর্ষণ-ধর্ষণ
প্রতীকী ছবি বিগস্টক

কিশোরীর পরিবার স্থানীয় ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও মাতবরদের কাছে বিচার দাবি করেন। কিন্তু তারা বিচারের নামে কালক্ষেপণ করেন। এমনকি তাদের আইনের আশ্রয় নেবার সুযোগও দেওয়া হয়নি তাদের


১০ মাস আগে ধর্ষণের শিকার হওয়ার পরও প্রভাবশালীদের ভয়ে এতদিন আইনের আশ্রয় নিতে পারেনি। কিন্তু ধর্ষণের ফলে শিশু জন্ম নেওয়া শিশুর পিতৃপরিচয়ের দাবিতে থানায় হাজির হয়েছে সে- এমনই দাবি এক কিশোরী মায়ের। 

সোমবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে শিশু সন্তানকে কোলে নিয়ে বগুড়ার ধুনট থানায় হাজির হয় এক কিশোরী। তার দাবি, ধর্ষণের শিকার হওয়ায়ই জন্ম হয়েছে শিশুটির। পরে ঘটনার বর্ণনা শুনে মামলা নিতে রাজি হয় পুলিশ।

ধুনট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (তদন্ত) মিজানুর রহমান মিজান এর সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

মামলার এজাহারে বলা হয়, ১০ মাস আগে বাড়িতে কেউ না থাকার সুযোগ নিয়ে প্রতিবেশি ফজলু মিয়ার ছেলে মেহেদী হাসান ধুনট উপজেলার নিমগাছী ইউনিয়নের এক কিশোরীকে (১৬) ধর্ষণ করে।  

এতে কিশোরীটি কান্নাকাটি করলে সে তাকে বিয়ের প্রলোভন দেয়। এরপর একইভাবে বেশ কয়েকদিন তাকে ধর্ষণ করা হয় তাকে। এক পর্যায়ে কিশোরী অন্তঃস্বত্ত্বা হয়ে পড়ে। ঘটনায় কিশোরীর পরিবার স্থানীয় ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও মাতবরদের কাছে বিচার দাবি করেন। কিন্তু তারা বিচারের নামে কালক্ষেপণ করেন। এমনকি তাদের আইনের আশ্রয় নেবার সুযোগও দেওয়া হয়নি তাদের। 

এ অবস্থায় গত ১৯ ফেব্রুয়ারি ওই কিশোরী বাড়িতে মেয়ে শিশু প্রসব করে। দ্রুত ঘটনাটি পুরো গ্রামে ছড়িয়ে পড়ে। এ সময় গ্রামের লোকজন বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করলেও মেহেদী ও তার পরিবার বিষয়টি অগ্রাহ্য করে। তাই লোকলজ্জা থেকে বাঁচতে

মেহেদীর বিচার ও শিশুটির পিতৃপরিচয়ের দাবিতে কিশোরী থানায় আসতে বাধ্য হয়। 

ধর্ষণের শিকার কিশোরীর মা বলেন, ধর্ষণের কথা জানাজানি হলে আমরা স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান ও গ্রাম্য মাতব্বরদের কাছে বিচার দেই। কিন্তু তারা দীর্ঘদিনেও কোনো বিচার করে দিতে পারেনি। এমনকি কিছু মাতবর আমাদের ভয়ভীতিও দেখিয়েছেন। 

তবে নিমগাছী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আজাহার আলী পাইকার বলেন, “বাচ্চা জন্ম হওয়ার দু’দিন আগে ধর্ষণের ঘটনা জানতে পেরেছি। তাই তাদের আইনের আশ্রয় নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।”

ধুনট থানার ইন্সপেক্টর (তদন্ত) মিজানুর রহমান মিজান বলেন, “ধর্ষণ ও সন্তান প্রসবের ঘটনায় প্রতিবেশি মেহেদী হাসানের বিরুদ্ধে মামলা নেওয়া হয়েছে। বয়স নির্ধারণসহ অন্যান্য বিষয়ে তার ডাক্তারি পরীক্ষা করানো হবে। আসামিকে গ্রেফতারে তাদের অভিযানও চলছে। এছাড়া ওই কিশোরী ও তার সন্তানের চিকিৎসা এবং নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়েছে।”