• রবিবার, এপ্রিল ০৫, ২০২০
  • সর্বশেষ আপডেট : ০৭:১০ রাত

রাবির ইতিহাসের অধ্যাপক ভাষা শহীদদের চিনেন না !

  • প্রকাশিত ০৯:৫৭ রাত ফেব্রুয়ারি ২৪, ২০২০
রাবি
আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের ব্যানারে বীরশ্রেষ্ঠদের ছবি। ঢাকা ট্রিবিউন

‘যারা আমাদের ইতিহাস নিয়ে আলোচনা করে, আমাদের মুক্তিযুদ্ধকে আলোচনা করেন তাদের ভুল মার্জনীয় নয়’

একুশের ব্যানারে বীরশ্রেষ্ঠদের ব্যবহার করে সংগীত বিভাগের পর এবার সমালোচনার মুখে পড়েছে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগ। এর আগে ২২ ফেব্রুয়ারি সংগীত বিভাগের ব্যানারের খবর গণমাধ্যমে প্রকাশিত হলে গত রবিবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) বিভাগটির পক্ষ থেকে দুঃখ প্রকাশ করা হয়। এই সমালোচনা মধ্যেই সোমবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) ইতিহাস বিভাগের ব্যানারে ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।

ইতিহাস বিভাগের ব্যানারের ওপরে লেখা, “অমর ২১শে ফেব্রুয়ারি”। এর নিচে “আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে সকল ভাষা শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধাঞ্জলি”। ব্যানারের ডান দিকে শহীদ মিনারের প্রতিকৃতির ওপর লেখা, “মোদের গরব, মোদের আশা, আ-মরি বাংলা ভাষা”। ব্যানারের বাম দিকে রয়েছে সাত বীরশ্রেষ্ঠর ছবি।

বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, ২১ ফেব্রুয়ারি সকালে ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ ভবনের সামনে থেকে ইতিহাস বিভাগের প্রভাতফেরি বের হয়। প্রভাতফেরিতে বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক মর্ত্তুজা খালেদ, অধ্যাপক চিত্তরঞ্জন মিশ্র, সহকারী অধ্যাপক গোলাম সারওয়ার, হেলাল উদ্দিন প্রমুখসহ শতাধিক শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করেন।


আরও পড়ুন - ভাষা শহীদের শ্রদ্ধা জানাতে বীরশ্রেষ্ঠদের ছবি দিয়ে ব্যানার বানালো পুলিশ!


এ বিষয়ে মন্তব্য জানতে ইতিহাস বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক মর্ত্তুজা খালেদকে ফোন করা হলে বিস্ময় প্রকাশ তিনি বলেন, “এ ধরনের ঘটনা ঘটেছে কি? ওটা ছাত্রকে দায়িত্ব দিয়েছিলাম ওরা করে নিয়ে আসছে। আমি ভাষা শহীদের ছবি চিনি না তো।”

প্রসঙ্গত, এর আগে একুশে ফেব্রুয়ারি ব্যানারে বীরশ্রেষ্ঠদের ছবি ব্যবহার করে সমালোচনার মুখে পড়ে  ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সংগীত বিভাগ।

এদিকে একুশে ফেব্রুয়ারির ব্যানারে মুক্তিযোদ্ধাদের ছবি ব্যবহারের পেছনে মুক্তিযুদ্ধ ও ভাষা নিয়ে গবেষণা বা পড়ালেখা না করাকেই দায়ী করছেন বাংলা ভাষার গবেষক ও শিক্ষাবিদরা। বাংলা একাডেমি পুরস্কারপ্রাপ্ত বাংলা ভাষার গবেষক ও আভিধানিক অধ্যাপক স্বরোচিষ সরকার বলেন, “এ ধরনের ভুল অজ্ঞতা, অমনোযোগীতা এবং অনভিজ্ঞতাসহ যেকোনো কারণে ঘটতে পারে। অনভিজ্ঞতা ও অজ্ঞতার কারণে ঘটলে ভুল মার্জনীয়। কিন্তু যারা আমাদের ইতিহাস নিয়ে আলোচনা করে, আমাদের মুক্তিযুদ্ধকে আলোচনা করেন তাদের ভুল মার্জনীয় নয়।”


আরও পড়ুন - রাবিতে একুশের ব্যানারে বীরশ্রেষ্ঠদের ছবি!


প্রথাবিরোধী লেখক হুমায়ুন আজাদের উদ্ধৃতি দিয়ে স্বরোচিষ সরকার আরও বলেন, “ফেব্রুয়ারি মাস হলো ‘সিগ্ধ ছলনার মাস’। অর্থাৎ সারা বছর বাংলা ভাষা নিয়ে কোনো খবর থাকে না, কিন্তু ভাষার মাস এলে মিথ্যা ভালবাসা দেখায়।”

শিক্ষাবিদ গোলাম মুরশিদ মনে করেন, “ইতিহাসের প্রতি নির্লিপ্ততার কারণে এ ধরনের ভুল হয়েছে। ইতিহাস বিভাগ যারা মুক্তিযুদ্ধ, ভাষা আন্দোলন নিয়ে গবেষণা করে তাদের এ ধরনের ভুল দুর্ভাগ্যজনক। আমি এমনও শুনেছি, এক যুগলকে প্রশ্ন করা হয়েছিল একুশে ফেব্রুয়ারিতে শহীদ মিনারে কেন এসেছেন, একজন উত্তর দিলেন আজ তো স্বাধীনতা দিবস। মুক্তিযুদ্ধ ও শহীদ দিবস নিয়ে মানুষের আগ্রহ আছে, তবে কেউ এই দিনটি নিয়ে পড়ালেখা করে না।”