• শুক্রবার, এপ্রিল ০৩, ২০২০
  • সর্বশেষ আপডেট : ০১:৫৩ দুপুর

সন্তানকে মারায় স্কুল শিক্ষিকার হাত ভেঙে দিলেন অভিভাবক!

  • প্রকাশিত ১১:২৯ সকাল ফেব্রুয়ারি ২৫, ২০২০
ঝিনাইদহ

ওই অভিভাবকের দাবি, পড়া না পারায় তার মেয়েকে মেরে পিঠে দাগ করে দেওয়ায় উত্তেজিত হয়ে ওই শিক্ষিকার দিকে গ্লাস ছুড়ে মারেন তিনি, এসময় পড়ে গিয়ে হাত ভেঙে যায় ওই শিক্ষিকার

ঝিনাইদহে কালীগঞ্জ উপজেলায় এক স্কুলশিক্ষিকার হাত ভেঙে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে আব্দুল আলিম নামে এক অভিভাবকের বিরুদ্ধে। তবে অভিযুক্ত ওই অভিভাবকের দাবি, পড়া না পারায় তার মেয়েকে মেরে পিঠে দাগ করে দেওয়ায় উত্তেজিত হয়ে ওই শিক্ষিকার দিকে গ্লাস ছুড়ে মারেন তিনি। এসময় পড়ে গিয়ে হাত ভেঙে যায় ওই শিক্ষিকার, এমনটিও দাবি করেন তিনি।

সোমবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) দুপুর আড়াইটার দিকে কালীগঞ্জ শহরের একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে। এদিকে ঘটনার পর দোষী ব্যক্তির শাস্তির দাবিতে ওই স্কুলের শিক্ষকরা উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কাছে লিখিত অভিযোগ দেন।

বিদ্যালয়টির প্রধান শিক্ষিকা বলেন, “সকালে বিদ্যালয়ের দ্বিতীয় শ্রেণির ওই শিক্ষার্থী শ্রেণিকক্ষে অমনোযোগী থাকায় বকা দেন ভুক্তভোগী ওই শিক্ষিকা। দুপুরে ছুটির পর ওই শিক্ষার্থী বাড়ি চলে যায়। এরপর বেলা দুটোর পর ওই শিক্ষার্থীর বাবা আব্দুল আলিম ক্ষিপ্ত হয়ে স্কুলের অফিসরুমে প্রবেশ করেন। এসময় তার মেয়েকে কেন মারা হয়েছে, এ বিষয়ে কৈফিয়তও চান তিনি।”

তিনি আরও বলেন, “আমিসহ স্কুলের সহকর্মীরা তাকে বোঝানোর চেষ্টা করি যে, তেমন কিছু হয়নি। কিন্তু তিনি আমাদের কথা না শুনে টেবিলের ওপর থাকা একটি গ্লাস ছুড়ে মারেন। এতে নাসরিন নামে ওই শিক্ষিকার হাত জখম হয়। পরে আরও উত্তেজিত হয়ে ওই ব্যক্তি শিক্ষিকাকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করেন।”

বাংলাদেশ প্রাথমিক শিক্ষক সমিতি কালীগঞ্জ উপজেলা শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক গোলাম মোর্শেদ বলেন, “অন্যায় করলে তার ব্যবস্থা নেওয়ার বিধান রয়েছে। কিন্তু অফিস চলাকালে একজন শিক্ষকের ওপর হামলা মেনে নেওয়া যায় না। আমরা দোষী ব্যক্তির শাস্তির দাবিতে বিকেলেই উপজেলা নির্বাহী অফিসারের (ইউএনও) কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছি। তিনি তাৎক্ষণিকভাবে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) মামলা নেওয়ার জন্য নির্দেশ দিয়েছেন।”

অভিযুক্ত অভিভাবক আব্দুল আলিম বলেন, “সকালে পড়া না পারায় মেরে আমার মেয়ের পিঠে দাগ করে দিয়েছে ওই শিক্ষিকা। মেয়ে বাড়িতে এসে বিষয়টি দেখানোর পর আমি ব্যথিত হই। স্কুলে গিয়ে তাদের কাছে জিজ্ঞাসা করলে তারা উল্টো আমাকে ধমক দিয়ে অফিস থেকে বেরিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেয়। তখন আমি ক্ষিপ্ত হয়ে একটি প্লাস্টিকের গ্লাস ছুড়ে মারি। তবে গ্লাস তার গায়ে লাগেনি। তিনি পড়ে গিয়ে হাতে আঘাত পান।”

কালীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সুবর্ণা রানী সাহা বলেন, “আমি বিকেলে লিখিত অভিযোগ পাওয়ার পর কালীগঞ্জ থানার ওসিকে বলেছি মামলা নিতে। এছাড়া যত দ্রুত সম্ভব হামলাকারী অভিভাবক আব্দুল আলিমকে আটক করার নির্দেশ দিয়েছি।”

 কালীগঞ্জ থানার ওসি মাহফুজুর রহমান মিয়া বলেন, “ঘটনাটি আমি ইউএনওর কাছ থেকে শুনেছি। এখনও কেউ অভিযোগ দায়ের করতে থানায় আসেনি। এলে আসামি আটকের অভিযান চালানো হবে।”