• মঙ্গলবার, মার্চ ৩১, ২০২০
  • সর্বশেষ আপডেট : ০১:২৭ দুপুর

সাবেক ছাত্রীকে মেসেঞ্জারে কুপ্রস্তাব: কলেজ শিক্ষক বহিষ্কার

  • প্রকাশিত ০৮:৫২ রাত ফেব্রুয়ারি ২৫, ২০২০
বরগুনা কলেজ শিক্ষক
ফেসবুক মেসেঞ্জারে ছাত্রীকে অশ্লীল ছবি পাঠাতেন শিক্ষক লিটন ঢাকা ট্রিবিউন

এর আগে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের এক শিক্ষিকাকে উত্ত্যক্ত করায় গণধোলাইয়ের শিকার হয়েছিলেন তিনি

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকের মেসেঞ্জারে সাবেক এক ছাত্রীকে কুপ্রস্তাব ও আপত্তিকর ছবি পাঠানোর অভিযোগে বরগুনার এক কলেজ শিক্ষককে বহিস্কার করা হয়েছে। অভিযুক্ত মো. আশ্রাফুল হাসান লিটন বামনা উপজেলার বেগম ফায়জুন্নেসা মহিলা ডিগ্রি কলেজের ইতিহাস বিভাগের শিক্ষক। 

মঙ্গলবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) কলেজ কর্তৃপক্ষ এক জরুরি সভায় তাকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেয়। তার বাড়ি জেলার বেতাগী উপজেলার ছোপখালী গ্রামে। তিনি স্থানীয় আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে জড়িত বলে জানা গেছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সোমবার ওই কলেজের সাবেক এক ছাত্রী (বর্তমানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী) তার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম অ্যাকাউন্টে আপত্তিকর কথোপকথনের কয়েকটি স্ক্রিনশট যুক্ত করে শিক্ষক লিটনের বিচার দাবি করে একটি পোস্ট দেন। খুব দ্রুতই ঘটনাটি ভাইরাল হয়ে পড়ে। ওঠে সমালোচনার ঝড়। একাধিক সংশ্লিষ্ট মহল থেকে অভিযুক্ত শিক্ষকের বিচারের দাবি ওঠে অনলাইনে।

ওই শিক্ষার্থীর ফেসবুক ওয়াল থেকে জানা গেছে, অভিযুক্ত শিক্ষক লিটন বিভিন্ন সময় ওই শিক্ষার্থীকে মেসেঞ্জারে উত্ত্যক্ত করে আসছিলেন। প্রায়ই তিনি ওই ছাত্রীকে আপত্তিকর ছবি ও ভিডিও পাঠাতেন।

অভিযুক্ত কলেজ শিক্ষক লিটন <strong>ঢাকা ট্রিবিউন</strong>

পোস্টটি কলেজ কর্তৃপক্ষের নজরে এলে সোমবার রাতে কয়েক দফা সভা করা হয়। ব্যবস্থাপনা কমিটির সভায় অভিযুক্ত শিক্ষক মো. আশ্রাফুল হাসান লিটনকে কলেজ থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সে অনুযায়ী মঙ্গলবারই তাকে বহিষ্কার করা হয়। 

নাম প্রকাশ না করার শর্তে অভিযুক্ত শিক্ষকের এক প্রতিবেশি বলেন, ২০১৪ সালে নিজ এলাকায় প্রাথমিক বিদ্যালয়ের এক শিক্ষিকাকে উত্ত্যক্ত করায় গণধোলাইয়ের শিকার হয়েছিলেন লিটন। এছাড়া, তার বিরুদ্ধে একাধিক ছাত্রী মুঠোফোনে কুরুচিপূর্ণ এসএমএস পাঠানোর অভিযোগ করেছেন। 

এসব অভিযোগের বিষয়ে কথা বলতে অভিযুক্ত লিটনের মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি সাড়া দেননি। 

ওই কলেজের অধ্যক্ষ সৈয়দ মানজুরুর রব মুর্তাযা আহসান বলেন, আমি বিষয়টি ফেসবুকে দেখার পরে হতভম্ব হয়ে যাই। একজন শিক্ষকের কাছ থেকে এমন আচরণ কাম্য নয়। তাৎক্ষণিক তদন্ত করে ওই শিক্ষককে কলেজ থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে। 

ভুক্তভোগী ছাত্রী কোনো আইনগত ব্যবস্থা নিতে চাইলে কলেজ কর্তৃপক্ষ তাকে সহায়তা করবে বলেও জানান অধ্যক্ষ।