• মঙ্গলবার, এপ্রিল ০৭, ২০২০
  • সর্বশেষ আপডেট : ১০:৫৭ রাত

অন্যপুরুষের সাথে অনৈতিক সম্পর্ক স্থাপনে বাধ্য করায় স্বামীকে হত্যা!

  • প্রকাশিত ১০:৪৩ রাত ফেব্রুয়ারি ২৫, ২০২০
গাজীপুর খুন
স্ত্রী সামিরার সঙ্গে নিহত ব্যবসায়ী আব্দুর রহমান ঢাকা ট্রিবিউন

সামিরার দাবি, বিয়ের পর থেকে ঘটনার দিন পর্যন্ত আব্দুর রহমান কখনও ব্যবসায়িক স্বার্থে, আবার কখনও বিপুল টাকার বিনিময়ে তার ব্যবসায়িক অংশীদারদের সাথে তাকে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপনে বাধ্য করতেন

ব্যবসায়য়িক অংশীদারদের সাথে অনৈতিক কর্মকাণ্ড করতে বাধ্য করায় গাজীপুরের শ্রীপুরে ব্যাবসায়ী আব্দুর রহমানের (৪৫) গলা কেটে হত্যা করার পরিকল্পনা করে স্ত্রী সামিরা। জিজ্ঞাসাবাদে হত্যার বিষয়টি স্বীকার করে র‌্যাবের কাছে এমনটিই দাবি করেছেন আসামি সামিরা। 

খুন হওয়া আবদুর রহমান (৫২) চকপাড়ার পাশের গাজীপুর গ্রামের নাসিম উদ্দিনের ছেলে। তিনি জমি কেনা-বেচার ব্যবসা করতেন।

মঙ্গলবার র‌্যাব-১ পোড়াবাড়ী ক্যাম্পের কোম্পানি কমান্ডার লেফটেন্যান্ট কমান্ডার আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, গত ১৮ ফেব্রুয়ারি জেলার শ্রীপুর পৌর সভার কেওয়া পশ্চিম খণ্ড এলাকায় তিন তলা ভবনের একটি ফ্ল্যাট থেকে রহমানের ঝলসানো অবস্থায় গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

গত ১১ ফেব্রুয়ারি তাকে ঘুমের মধ্যে গলাকেটে হত্যা করে এসিড দিয়ে মুখ ঝলসে দিয়ে মরদেহ ঘরের ভেতরে ফেলে রাখা হয়। কয়েকদিনে মরদেহটি পচে দুর্গন্ধ বের হলে এলাকাবাসীর খবরের ভিত্তিতে পুলিশ লাশ উদ্ধার করে। 

নিহত আবদুর রহমানের ছেলে জাহাঙ্গীর আলম বাদী হয়ে এ ঘটনায় সামিরা, সামিরার বাবা ও মাকে আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের করেন।

এ হত্যা মামলার মূল আসামি শ্রীপুর থানার চকপাড়া এলাকার সামিরা আক্তার ও তার বাবা মোহাম্মদ আলী হোসেনকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে রাজধানীর দক্ষিণখান এলাকায় অভিযান চালিয়ে গ্রেপ্তার করা হয়।

আসামি সামিরা আক্তারের দেওয়া তথ্যের বরাত দিয়ে র‌্যাব জানায়, গত সোমবার (১০ ফেব্রুয়ারি) রাতে আব্দুর রহমানের ব্যবসায়িক পার্টনার রতন মিয়ার সাথে তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে জোরপূর্বক যৌন কাজে লিপ্ত হতে বাধ্য করে। পরে রতন রাত ১১টায় বাসা থেকে চলে গেলে ভোর রাত আনুমানিক ৩টায় সামিরা বাসায় থাকা ধারালো দা দিয়ে ঘুমন্ত অবস্থায় স্বামী আব্দুর রহমানকে জবাই করে হত্যা করে। আব্দুর রহমানকে যেন চেনা না যায় সে জন্য লাশের মুখে অ্যাসিড দিয়ে ঝলসে দেয় সামিরা এবং লাশটি তোষক দিয়ে মুড়িয়ে রাখে। ঘটনার পর লাশ সরিয়ে ফেরার জন্য সামিরা তিনদিন ওই ভাড়া বাসায় অবস্থান করে। কিন্তু লাশ সরিয়ে ফেলতে ব্যর্থ হয়ে বাসা থেকে পালিয়ে যান তিনি। 


আরও পড়ুন - তৃতীয় স্ত্রী'র পরকীয়ায় বাধা দেওয়ায় ব্যবসায়ী খুন


পরে পাশের উপজেলা কালিয়াকৈরের ফুলবাড়িয়া গ্রামের বান্ধবীর বাসায় দুই দিন আত্মগোপনে থাকার পর শনিবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) নওগাঁয় মামার বাড়িতে চলে যান। পরদিন রবিবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) দক্ষিনখান (কোটবাড়ি) এলাকার তার চাচার বাসায় আত্মগোপন করেন।

র‌্যাব জানায়, ২০১৬ সালে আবদুর রহমান দ্বিতীয় স্ত্রীকে নিয়ে টঙ্গীতে বাস করতো। একই গ্রামের বাসিন্দা হিসেবে সামিরা ও রহমান ছিলেন পূর্ব পরিচিত ছিলেন। ওই বছর সামিরা টঙ্গী সরকারি কলেজ কেন্দ্রে ডিগ্রি পরীক্ষার্থী ছিলেন।

পূর্ব পরিচয় সূত্রে তিনি রহমানের বাসায় থেকে পরীক্ষা দিতেন। রহমান তাকে বিয়ের আশ্বাস দিয়ে ধর্ষণের চেষ্টা করে ব্যর্থ হন। পরে স্ত্রীর অবর্তমানে কৌশলে খাবারের সাথে ঘুমের ওষুধ খাইয়ে অচেতন করে টঙ্গীর বাসায় ধর্ষণ এবং ধর্ষণের ভিডিও মোবাইলে ধারণ করে রাখেন রহমান। পরবর্তীতে ধর্ষণের ভিডিও এবং হত্যার ভয় দেখিয়ে রহমান দিনের পর দিন তাকে ধর্ষণ করেন।

এক পর্যায়ে ধর্ষণের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশ পেলে প্রথম স্বামী তাকে ডিভোর্স দেন। তারপর থেকে সামিরা শ্রীপুরের নয়নপুর এলাকায় একটি ওষুধের দোকান পরিচালনা করতেন। ২০১৮ সালের সেপ্টেম্বর মাসে আবদুর রহমান তাকে বিয়ে করে শ্রীপুরের বিভিন্ন এলাকায় বাসা ভাড়া নিয়ে বাস করতেন।

বিয়ের পর থেকে ঘটনার দিন পর্যন্ত রহমান কখনও ব্যবসায়িক স্বার্থে, আবার কখনও বিপুল টাকার বিনিময়ে তার ব্যবসায়িক অংশীদারদের সাথে তাকে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপনে বাধ্য করতেন। না করলে নির্যাতন করতেন। এসব নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে রহমানের কাছে ডিভোর্স চান তিনি। এতে উল্টো তাকে এবং তার মা-ভাইকে খুনের হুমকি দেন রহমান। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে তিনি আবদুর রহমানের ওপর প্রতিশোধ নিতে খুনের পরিকল্পনা করেন।