• রবিবার, এপ্রিল ০৫, ২০২০
  • সর্বশেষ আপডেট : ০৬:২৮ সন্ধ্যা

ফরিদপুরে রোদেলা হত্যার তিন বছরেও আটক হয়নি ঘাতক স্বামী

  • প্রকাশিত ১০:১২ রাত ফেব্রুয়ারি ২৬, ২০২০
ফরিদপুর
নিহত রোদেলার সাথে ঘাতক স্বামী সোহানুর রহমান সোহান। সৌজন্য

‘গত ৩ বছর ধরে মেয়ে হত্যার বিচারের আশায় আদালতের বারান্দায় ঘুরছি। এখনও রোদেলার ঘাতক স্বামী গ্রেপ্তার হয়নি। মামলাটিকে দীর্ঘায়িত করতে নানাভাবে অপচেষ্টা করছে প্রভাবশালী আসামিরা’

বিয়ের মাত্র দেড় মাস না যেতেই শ্বশুর বাড়িতে নির্যাতনের শিকার হয়ে প্রাণ হারান কলেজছাত্রী সাজিয়া আফরিন রোদেলা (১৮)। এই হত্যাকাণ্ডের তিন বছর পার হতে চললেও এখনও গ্রেপ্তার হননি অভিযুক্ত স্বামী সোহানুর রহমান সোহান (৩১)।

প্রধান আসামির অনুপস্থিতিতে আদালতে রোদেলা হত্যার বিচার কার্যক্রমও এখনও শুরু হয়নি।

২০১৭ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি নিহত হন ফরিদপুর শহরের আলিপুর খাঁ-বাড়ি এলাকার শওকত হোসেন খানের একমাত্র মেয়ে এবং সরকারি সারদা সুন্দরী মহিলা কলেজের ইংরেজি প্রথম বর্ষে অধ্যায়নরত শিক্ষার্থী রোদেলা।

একই বছরের ১৩ জানুয়ারি গোয়ালচামটের নতুন বাজার এলাকার মমিনুর রহমান সেন্টুর ছেলে বিদেশ প্রবাসী সোহানুর রহমান সোহানের সাথে তার বিয়ে হয়।

বিয়ের পর থেকেই রোদেলাকে নানাভাবে মানসিক নির্যাতন করা হত বলে তার পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়। একপর্যায়ে যৌতুকের জন্য রোদেলার ওপর শারীরিক নির্যাতনও শুরু করে তার স্বামী।

মামলা সূত্রে জানা যায়, বিয়ের পর ১০ লাখ টাকা যৌতুকের জন্য রোদেলাকে চাপ দিতে থাকে তার শ্বশুরবাড়ির লোকেরা। একপর্যায়ে স্বামী, শাশুড়ি ও ননদ মিলে পরিকল্পিতভাবে শ্বাসরোধ করে রোদেলাকে হত্যা করে।

ফরিদপুরের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আদালতে বর্তমানে এ মামলাটি বিচারাধীন রয়েছে। মামলা নং- ৪১৭/১৭।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা কোতয়ালী থানার এসআই গাফফার জানান, রোদেলার মৃতদেহের ভিসেরা রিপোর্টে শ্বাসরোধ করে হত্যার আলামত পাওয়া গেছে। তদন্ত শেষে তার স্বামী সোহানসহ ৮ জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে চার্জশিট প্রদান করা হয়েছে।

মামলার অন্য আসামিরা হলেন- রোদেলার ননদ সুমি বেগম (৪০), শাশুড়ি আনোয়ারা বেগম (৫৫), ভাসুর মো. সুমন (৩৬), ভাসুরের স্ত্রী রেখা বেগম (২৫), শ্বশুর মোমিনুর রহমান সেন্টু (৬৫), ননদের স্বামী মো. হাফিজ (৪৫) ও সোহানের মামাতো ভাই সাজিদ (৪২)। এ মামলায় ১৭ জনকে সাক্ষী করা হয়েছে।

এ বিষয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল, ফরিদপুরের সরকারি কৌঁসুলি (এপিপি) স্বপন কুমার পাল বলেন, প্রধান আসামি রোদেলার স্বামী ঘটনার পর থেকেই পলাতক রয়েছে। তাকে আদালতে হাজির হওয়ার জন্য পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হবে। এরপর মামলাটির বিচারিক কার্যক্রম দ্রুতই শুরু হবে।

রোদেলার পিতা শওকত হোসেন খান বলেন, রোদেলাকে নৃশংসভাবে নির্যাতন করে হত্যা করা হয়েছে। এ হত্যাকাণ্ডকে আত্মহত্যা বলে চালিয়ে দেওয়ার অপচেষ্টাও করা হয়।

তিনি বলেন, গত ৩ বছর ধরে মেয়ে হত্যার বিচারের আশায় আদালতের বারান্দায় ঘুরছি। এখনও রোদেলার ঘাতক স্বামী গ্রেপ্তার হয়নি। মামলাটিকে দীর্ঘায়িত করতে নানাভাবে অপচেষ্টা করছে প্রভাবশালী আসামিরা। আমরা এই হত্যার বিচার চাই এবং একইসাথে মামলার প্রধান আসামি সোহানকে গ্রেপ্তারের জন্য জোর দাবি জানাচ্ছি।

এ মামলার প্রধান আসামি সোহানুর রহমান সোহানকে গ্রেপ্তারে পুলিশ জোর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন ফরিদপুর কোতয়ালী থানার সেকেন্ড অফিসার এসআই বেলাল হোসেন।