• সোমবার, এপ্রিল ০৬, ২০২০
  • সর্বশেষ আপডেট : ০৬:২৭ সন্ধ্যা

চাঁদপুরে দুই মাস মাছ ধরা নিষিদ্ধ

  • প্রকাশিত ০৫:৫৫ সন্ধ্যা ফেব্রুয়ারি ২৯, ২০২০
মাছ ধরায় নিষেধাজ্ঞা
১ মার্চ থেকে ৩১ এপ্রিল পর্যন্ত চাঁদপুরের জেলারা নদীতে নৌকা নামাতে পারবেন না। ঢাকা ট্রিবিউন

আইন অমান্য করলে মৎস্য আইনে সর্বোচ্চ ২ বছর কারাদণ্ডসহ আর্থিক জরিমানার বিধান রয়েছে

জাটকা ইলিশ সংরক্ষণের জন্য চাঁদপুরের পদ্মা-মেঘনা নদীতে ১ মার্চ থেকে ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত দুই মাস সব ধরনের মাছ ধরা নিষিদ্ধ করেছে সরকার। পদ্মা-মেঘনাসহ দেশের বিভিন্ন নদীতে ইলিশ বিচরণ ক্ষেত্রে ৬টি অভয়াশ্রমে ৪৩২ কিলোমিটার নৌ-সীমানায় এই নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। চাঁদপুর জেলা মৎস্য কর্মকর্তা আসাদুল বাকী শনিবার (২৯ ফেব্রুয়ারি) এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

নিষেধাজ্ঞা চলাকালীন ইলিশসহ যেকোনো মাছ ধরা, ক্রয়-বিক্রয়, মজুত ও সরবরাহ নিষিদ্ধ থাকবে। আইন অমান্য করলে মৎস্য আইনে সর্বোচ্চ ২বছর কারাদণ্ডসহ আর্থিক জরিমানার বিধান রয়েছে।

বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনিস্টিটিউটের (নদী কেন্দ্র) প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ইলিশ গবেষক ড. আনিছুর রহমান বলেন, "ইলিশ উৎপাদন বৃদ্ধিতে ইলিশের পোনা জাটকাগুলোকে বড় হওয়ার সুযোগ দেয়ার জন্যই মূলত এ দু’ মাস মাছ ধরার উপর নিষেধাজ্ঞা দেয়া হয়ে থাকে। প্রতিবছর মার্চ-এপ্রিল এ দু'মাস দেশের ৬টি অভয়াশ্রমের মোট ৪৩২ কিলোমিটার নদী এলাকায় মাছ ধরা নিষিদ্ধ।"

চাঁদপুর জেলে নৌকা মালিক সমিতির সভাপতি শাহ মল্লিক বলেন, "আমরা নৌকার মালিকদের বলে দিয়েছি, তারা যেন নৌকাগুলো নদীপাড়ে ভিড়িয়ে রাখেন। বড় নৌকাগুলো ইতোমধ্যেই তাদের কর্মকাণ্ড গুটিয়ে নিয়েছে। নিষেধাজ্ঞা চলাকালীন কিছু মৌসুমি জেলে মাছ শিকার করেন। যে কারণে জাটকা রক্ষা কর্মসূচি সফল করা কঠিন হয়ে পড়ে।"

চাঁদপুর জেলা মৎস্য কর্মকর্তা আসাদুল বাকী জানান, "জাটকা সংরক্ষণ কর্মসূচি বাস্তবায়নের জন্য ইতোমধ্যে জেলা টাস্কফোর্স কমিটি গঠন করা হয়েছে। জেলা প্রশাসন, জেলা পুলিশ, নৌ-পুলিশ, কোস্টগার্ড, জেলা মৎস্য বিভাগ ও স্থানীয় জনপ্রনিধিরা এই কমিটিতে রয়েছেন।"

তিনি আরও জানান, "জেলায় ৫১ হাজার ১৯০ জন তালিকাভুক্ত জেলে রয়েছে। এসব জেলেদেরকে জাটকাসহ সবধরনের মাছ আহরণ থেকে বিরত রাখতে সচেতনতামূলক সভা, মাইকিং, পোস্টারিংসহ বিভিন্ন সচেতনতামূলক কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে। এসময় জেলেরা বেকার হয়ে পড়েন। এজন্য সরকার তালিকাভুক্ত প্রতি জেলেকে আগামী চারমাস ৪০ কেজি করে চাল সহায়তা দেবে। ইতিমধ্যেই ডিসি অফিস থেকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের চিঠি দেওয়া হয়েছে। আশাকরি, আগামী একসপ্তাহের মধ্যেই জেলেরা চাল হাতে পাবেন।"