• মঙ্গলবার, মার্চ ৩১, ২০২০
  • সর্বশেষ আপডেট : ০১:৪৭ দুপুর

বিয়ে ঠিক হয়েছে শুনেই প্রেমিকাকে ছুরিকাঘাত

  • প্রকাশিত ০৯:৪৮ রাত মার্চ ২, ২০২০
ছুরিকাঘাত/জবাই

‘ছুরিটি তার ফুসফুসে প্রবেশ করায় তা বের করতে সক্ষম হইনি। ছুরিটি বের করতে গেলে তার শরীরের ভেতরে প্রচণ্ড রক্তক্ষরণ হবে, যা আমাদের এখানে বন্ধ করা সম্ভব হবে না’

চাঁদপুরে পার্কে বেড়াতে গিয়ে প্রেমিকের ছুরিকাঘাতে গুরুতর জখম হয়েছেন এক যুবতী। আহত যুবতীকে উদ্ধার করে প্রথমে চাঁদপুর সরকারি জেনারেল হাসপাতালে ও পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।    

সোমবার (২ মার্চ) দুপুরে চাঁদপুর সদর উপজেলার আশিকাটি ইউনিয়ন ফাইভ স্টার পার্কে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় স্থানীয় লোকজন দীপু নামের ওই প্রেমিক যুবকে আটক করে চাঁদপুর মডেল থানায় সোর্পদ করেছে।

আহত যুবতী জানান, তার মামার বাড়ি ক্যাম্পেরহাট এলাকার দীপু মজুমদার নামের এক যুবকের সাথে তার প্রেমের সম্পর্ক ছিলো। কয়েক দিন আগে পারিবারিকভাবে তার অন্যত্র বিয়ে ঠিক হয়। ঘটনার দিন সকালে তারা উপজেলার ফাইভ স্টার পার্কে দেখা করতে যায়। এ সময় তার অন্য জায়গায় বিয়ে ঠিক হয়েছে জানালে, দীপু মজুমদার ক্ষুব্ধ হয়ে তার পেটে ও মাথায় ছুরিকাঘাত করে।

সাগর নামে প্রত্যক্ষদর্শী যুবক জানান, ঘটনার সময় আমরা বন্ধুরা মিলে পার্কে বসে ছিলাম। হঠাৎ চিৎকারের শব্দ শুনে দেখি ওই মেয়ের সাথে থাকা যুবক মেয়েটিকে ছুরিকাঘাত করছে। এ সময় আমরা দৌড়ে গিয়ে ওই যুবককে আঘাত করে মেয়েটিকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যাই।

হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, দীপার পেটের ডান পাশে একটি ছোট্ট ছুরি বিঁধেছে। প্রাথমিকভাবে জরুরি বিভাগের চিকিৎসক তা খুলতে না পারায় তাৎক্ষণিক তাকে হাসপাতালের অপারেশন থিয়েটারে নিয়ে যাওয়া হয়। হাসপাতালের সহকারি রেজিস্টার ডা. রফিকুল হাসান ফয়সাল প্রায় দেড় ঘণ্টার প্রচেষ্টায় ও ছুরিটি বের করতে সক্ষম হননি। পরে তাকে ঢাকায় পাঠানো করা হয়েছে।

ঘটনার খবর পেয়ে চাঁদপুর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ নাসিম উদ্দিন পুলিশ সদস্যরাসহ হাসপাতালে ছুটে যান।

ডা. রফিকুল হাসান ফয়সাল বলেন, “মেয়েটির শরীরের বিভিন্ন স্থানে মারাত্মক জখম রয়েছে। যার কারণে তার প্রচণ্ড রক্তক্ষরণ হয়েছে। তাৎক্ষনিক হাসপাতালের এক মেডিকেল অ্যাসিন্টেন্টের কাছে থেকে এক ব্যাগ রক্ত দেওয়া হয়েছে। তার শরীরের অন্যান্য জখমের চিকিৎসাসেবা দিতে পারলেও ছুরিটি তার ফুসফুসে প্রবেশ করায় তা বের করতে সক্ষম হইনি। ছুরিটি বের করতে গেলে তার শরীরের ভেতরে প্রচণ্ড রক্তক্ষরণ হবে, যা আমাদের এখানে বন্ধ করা সম্ভব হবে না। সে জন্য তাকে ঢাকায় প্রেরণ করা হয়েছে।”

চাঁদপুর সদর হাসপাতালের চিকিৎসক মাহমুদুন্নবী মাসুম বলেন, “হাসপাতালে আনার পর মেয়েটিকে ওটিতে নিয়ে তার রক্তক্ষরণ বন্ধ করা হয়েছে। তবে ছুরির আঘাতে ফুসফুস ফুটো হয়ে যাওয়ায় ছুরিটি বের করা হয়নি। কারণ, এখানে ছুরিটি বের করলে তার মৃত্যু হওয়ার আশংকা রয়েছে।”