• মঙ্গলবার, মার্চ ৩১, ২০২০
  • সর্বশেষ আপডেট : ০১:১২ দুপুর

ডিবি পরিচয়ে টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে এএসআই গ্রেফতার

  • প্রকাশিত ১২:৩৪ দুপুর মার্চ ৩, ২০২০
গ্রেফতার/আটক/কারাদণ্ড
প্রতীকী ছবি

অনৈতিক কাজের জন্য বদলি হয়েও নিজের স্বভাব পরিবর্তন করতে পারেননি এএসআই শাহাদত

পুলিশের গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) সদস্য পরিচয়ে দিনাজপুরের হাকিমপুর উপজেলার মহড়াপাড়া গ্রামে জনগণের কাছে টাকা হাতিয়ে নেবার অভিযোগে বগুড়ার চতুর্থ আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) শাহাদত হোসেনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

দিনাজপুর থেকে আসা পুলিশের একটি দল সোমবার (২ মার্চ) রাতে তাকে সদর থানা থেকে গ্রেফতার করে। বগুড়া সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সনাতন চক্রবর্তী গ্রেফতারের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, এএসআই শাহাদত হোসেন দিনাজপুর সদর থানায় কর্মরত ছিলেন। অনৈতিক কাজের সাথে জড়িয়ে পড়ায় সম্প্রতি তাকে বগুড়ার চতুর্থ এপিবিএনে বদলি করা হয়। তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলাও হয়েছে। এরপরও শাহাদত নিজেকে বদলাতে পারেননি। রবিবার সন্ধ্যার দিকে মাইক্রোবাস নিয়ে দিনাজপুরের হাকিমপুর উপজেলার মহড়াপাড়া গ্রামে যান তিনি। সাদা পোশাকে থাকা সেখানে তিনি নিজেকে ডিবি পুলিশের কর্মকর্তা পরিচয়ে কয়েকজনকে আটক করে মাইক্রোবাসে তোলেন। পরে টাকার বিনিময়ে তাদের ছেড়েও দেন। আটকদের মধ্যে আরমান নামে একজন নগদ টাকা দিতে ব্যর্থ হন। তিনি শাহাদাতের দেওয়া একটি নম্বরে ১০ হাজার টাকা বিকাশ করে মুক্তি পান। রাতে ঘটনাটি জানাজানি হলে আরমানের স্ত্রী তারামনি বেগম হাকিমপুর থানায় অজ্ঞাত ব্যক্তিদের আসামি করে মামলা দায়ের করেন।

হাকিমপুর সার্কেলের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) আখিউল ইসলাম জানান, তদন্ত করতে গিয়ে নিশ্চিত হওয়া যায় যে পুলিশ পরিচয়ধারীদের দেওয়া ওই বিকাশ নম্বরটি বগুড়া সদর থানা সংলগ্ন মার্কেটের বিকাশ এজেন্ট সাজুর। তিনি বগুড়া পুলিশকে অবহিত করে সোমবার রাতে ফোর্স নিয়ে বিকাশ এজেন্ট সাজুর কাছে আসেন। সেখানে আসার পর জানাতে পারেন, ওইদিন দুপুরে এপিবিএনের এএসআই শাহাদত হোসেন স্বাক্ষর করে ১০ হাজার টাকা উত্তোলন করেছেন। এরপর দিনাজপুর পুলিশ দল বগুড়া সদর থানা চত্বরে সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সনাতন চক্রবর্তীর রুমে বসেন। রাত ১০টার দিকে তারা কৌশলে ফোনে শাহাদত হোসেনকে সেখানে ডেকে আনেন। জিজ্ঞাসাবাদের এক পর্যায়ে শাহাদত টাকা নেওয়ার সত্যতা স্বীকার করেন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বগুড়ার চতুর্থ এপিবিএনের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ফারহানা ইয়াসমিন ঢাকা ট্রিবিউনকে বলেন, "এএসআই শাহাদত হোসেনকে গ্রেফতারের বিষয়টি আমি জেনেছি। যেই অপরাধ করুক, তার বিরুদ্ধে আমরা ব্যবস্থা নেবো।"