• রবিবার, এপ্রিল ০৫, ২০২০
  • সর্বশেষ আপডেট : ১১:০৭ সকাল

সন্ধান মিললো নতুন গ্যাসকূপের

কুমিল্লা
শ্রীকাইলে পাওয়া নতুন গ্যাসকূপ। ঢাকা ট্রিবিউন

বাপেক্সের মহাব্যবস্থাপক মো. আলমগীর হোসেন বলেন, ‘নতুন এই গ্যাসকূপটি মুজিববর্ষে দেশীয় কোম্পানি বাপেক্সের পক্ষ থেকে জাতির জন্য উপহার’


কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার শ্রীকাইলে নতুন গ্যাসকূপের সন্ধান পেয়েছে রাষ্ট্রীয় তেল গ্যাস অনুসন্ধান উত্তোলন প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম এক্সপ্লোরেশন অ্যান্ড প্রডাকশন কোম্পানি লিমিটেড (বাপেক্স)।

মঙ্গলবার (৩ মার্চ) রাতে নতুন কূপে লাভজনক পরিমাণ গ্যাসের উপস্থিতির বিষয়ে নিশ্চিত হয় বাপেক্স। 

কূপটি থেকে গ্যাস উত্তোলন করতে গ্যাসের পরিমাণ, গ্যাসের সাথে মিশ্রিত পানির পরিমাণ এবং গ্যাসের চাপ পরীক্ষা-নিরীক্ষার কাজ চলছে। আগামী পাঁচদিন এসব বিষয়ে বিভিন্ন পরীক্ষা চালিয়ে গ্যাস উত্তোলনের কাজ হাতে নেওয়া হবে।

নতুন এই কূপ খননের (শ্রীকাইল পূর্ব-১) প্রকল্প পরিচালক সৈয়দ মুহাম্মদ কবীর ঢাকা ট্রিবিউনকে জানান, ২০১৭ ও ২০১৮ সালে ত্রি-মাত্রিক ভূ-তাত্ত্বিক জরিপের পর ওই স্থানে গ্যাসের অস্তিত্ব জানতে পারে বাপেক্স। পরে ২০১৯ সালের ২৮ অক্টোবর নবীনগর উপজেলার প্রত্যন্ত এলাকা হাজীপুর গ্রামে কৃষিজমির মধ্যে রিগ বসিয়ে প্রকল্পের খনন কাজ শুরু করে বাপেক্স। ২০২০ সালের ৩১ জানুয়ারি খনন কাজ শেষ হয়। এরপর নানা খুঁটিনাটি পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর গতকাল মঙ্গলবার (৩ মার্চ) রাত থেকে পরীক্ষামূলকভাবে পাইপের মুখে আগুন দিয়ে গ্যাসের চাপ পরীক্ষা কার্যক্রম শুরু করা হয়।

গ্যাস উত্তোলন বিষয়ে নানা পরীক্ষা-নিরীক্ষা চলছে। ঢাকা ট্রিবিউন

প্রকৌশলীরা জানান, কূপটিতে বর্তমানে গ্যাসের প্রেশার দুই হাজার পিএসআর। অন্যান্য ক্ষেত্রের তুলনায় এই কূপে গ্যাসের প্রেশার তুলনামূলক বেশি।

গ্যাস খননক্ষেত্রের ইনচার্জ মহসিনূর আলম বলেন, “পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে ৩ হাজার ৬৫ মিটার গভীরে অবস্থিত এই গ্যাস ফিল্ড থেকে দৈনিক ১২ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস উত্তোলন করা সম্ভব হবে। কাছাকাছি প্রসেস প্লান্ট রয়েছে। শুধু ১০ কিলোমিটার পাইপলাইন স্থাপন করে গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। গ্যাস ফুরিয়ে যাওয়ার হতাশার খবরের মধ্যেই এটি আমাদেরকে নতুন করে আশার আলো দেখাচ্ছে।”

বাপেক্সের মহাব্যবস্থাপক (ভূ-তত্ত্ব) মো. আলমগীর হোসেন ঢাকা ট্রিবিউনকে বলেন, “মাটির নিচে প্রায় তিন হাজার ৮০ মিটার গভীরে গ্যাসের অস্তিত্ব পাওয়া গেছে। গ্যাসের রিজার্ভ পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হচ্ছে। আশা করা হচ্ছে, এই কূপ থেকে দৈনিক ১২ থেকে ১৫ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা সম্ভব হবে। নতুন এই গ্যাসকূপটি মুজিববর্ষে দেশীয় কোম্পানি বাপেক্সের পক্ষ থেকে জাতির জন্য উপহার।”

শ্রীকাইল পূর্ব-১ গ্যাস কূপটি খননে ৭০ কোটি টাকা ব্যয় ধরা হয়েছে বলে জানান প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা।