• মঙ্গলবার, মার্চ ৩১, ২০২০
  • সর্বশেষ আপডেট : ১১:৪৮ সকাল

‘হত্যার পর বস্তায় ভরে’ লাশ ফেলে গেল বাড়িতে

  • প্রকাশিত ০৯:৪৪ রাত মার্চ ৫, ২০২০
ঠাকুরগাঁও
নিহত রিপনের মায়ের (মাঝে বসা) আহাজারি। ঢাকা ট্রিবিউন

নিহতের মায়ের অভিযোগকে সাজানো দাবি করে ভাটা মালিক জানান, বস্তায় ভরে তার লাশ ফেলে যাওয়া হয়নি। মারা গেছে এ জন্য পাগলুতে করে রিপনের লাশ বাড়িতে রেখে আসা হয়েছে

ঠাকুরগাঁওয়ে এক ইটভাটার শ্রমিককে হত্যার পর তার লাশ বস্তায় ভরে বাড়িতে ফেলে যাবার অভিযোগ উঠেছে।

বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গীত উপজেলায় এ ঘটনা ঘটেছে।

নিহত ট্রাক্টর শ্রমিক রিপন আলী (১৯) জেলার বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার মৃত নজরুল ইসলামের ছেলে। সে স্থানীয় দানেশ নামে এক ব্যক্তির ইট ভাটায় ট্রাক্টর শ্রমিক হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে কর্মরত ছিল।

নিহতের মা আনোয়ারা বেগম অভিযোগ করে বলেন, বৃহস্পতিবার ভোরবেলা তার ছেলেকে হত্যার পর বস্তায় ভরে পাগলু গাড়িতে (থ্রি-হুইলার) করে বাড়ির পাশে ফেলে যায় ইটভাটার লোকজন। পরে প্রতিবেশীরা খবর দিলে রিপনকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান তারা। তবে তার অনেক আগেই রিপন মারা গেছে বলে জানান চিকিৎসক। এর আগে বুধবার (৪ মার্চ) সকালে বাড়ি থেকে বেরিয়েছিল রিপন। সারাদিন বাড়ি ফেরেনি।

তবে, এটি হত্যাকাণ্ড নয় বরং সড়ক দুর্ঘটনায় ওই শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে বলে দাবি করছেন ইটভাটার মালিক দানেশ আলী। তিনি জানান, বুধবার গভীর রাতে খড়ি (কাঠ) আনার সময় সদর উপজেলার ভেলাজান নামক স্থানে প্রতিবন্ধী স্কুলের সামনে ট্রাক্টর উল্টে খড়ির নিচে চাপা পড়ে রিপন ও আল আমিন। পরে দুইজনকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলে রিপন মারা যায়। কিন্তু কোন হাসপাতালে তাদেরকে নিয়ে যাওয়ার হয়েছিল সে বিষয়ে কিছু জানাতে পারেননি ইটভাটার মালিক।

রিপনের মায়ের অভিযোগকে সাজানো দাবি করে তিনি জানান, বস্তায় মুড়ে তার লাশ ফেলে যাওয়া হয়নি। মারা গেছে এ জন্য পাগলুতে করে রিপনের লাশ বাড়িতে রেখে আসা হয়েছে।

বালিয়াডাঙ্গী থানার উপ-পরিদর্শক ইসাহাক আলী বলেন, “পুলিশ ঘটনা তদন্ত করছে। সড়ক দুর্ঘটনার একটি প্রসঙ্গ উঠেছে। পুলিশ ওই ঘটনাস্থলে গেছে। তদন্ত শেষেই প্রকৃত ঘটনা বলা যাবে।”

এদিকে, ঘটনায় আরেক ইটভাটা শ্রমিক আল আমিন বালিয়াডাঙ্গী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তবে তার জ্ঞান এখনো ফেরেনি।