• সোমবার, এপ্রিল ০৬, ২০২০
  • সর্বশেষ আপডেট : ০৬:০৫ সন্ধ্যা

করোনাভাইরাস মোকাবেলায় উত্তরায় পৃথক হাসপাতাল

  • প্রকাশিত ০৩:২০ বিকেল মার্চ ৯, ২০২০
কুয়েত বাংলাদেশ মৈত্রী সরকারি হাসপাতাল
কুয়েত বাংলাদেশ মৈত্রী সরকারি হাসপাতাল। সংগৃহীত

এছাড়াও দেশের প্রতিটি হাসপাতালে কোয়ারেন্টাইন ওয়ার্ডের ব্যবস্থা করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক

করোনাভাইরাসে (কোভিড-১৯) আক্রান্তদের চিকিৎসায় রাজধানীর উত্তরার "কুয়েত বাংলাদেশ মৈত্রী সরকারি হাসপাতাল"কে বিশেষভাবে প্রস্তুত রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক। সোমবার (৯ মার্চ) বার্তা সংস্থা ইউএনবি'কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি একথা জানান।

এছাড়াও দেশের প্রতিটি হাসপাতালে কোয়ারেন্টাইন (ভাইরাস সংক্রমণ হওয়া রোধে পৃথক করে রাখার বিশেষ ব্যবস্থা) ওয়ার্ড রাখা হবে বলে জানান তিনি।

জাহিদ মালেক বলেন, "হাসপাতালগুলোর উপরতলাগুলোতে কোয়ারেন্টাইন ওয়ার্ডগুলো স্থাপন করা হয়েছে। রোগী বেশি হয়ে গেলে কমিউনিটি সেন্টারসহ বিভিন্ন ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। প্রতিটি জেলার হাসপাতালে দু'টি করে আইসিইউ (নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র) যাতে থাকে, সেই বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। কোনো রোগীর খোঁজ পেলেই কোয়ারেন্টাইনে রেখে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।"

স্বাস্থ্যমন্ত্রী আরও বলেন, "করোনাভাইরাস নিয়ে সরকারের পূর্ণ প্রস্তুতি রয়েছে। দেশের প্রতিটি বিমানবন্দর ও স্থলবন্দরে আমাদের মেডিকেল টিম রয়েছে। বিভিন্ন দেশ থেকে যারাই আসছেন তাদের তদারকির আওতায় আনা হচ্ছে এবং পরীক্ষা করা হচ্ছে।"

জাহিদ মালেক বলেন, "বাংলাদেশি যারা বিদেশে চাকুরি করেন, তারা জরুরি প্রয়োজন ছাড়া দেশে আসবেন না বা যাবেন না। যাতায়াতটা সীমিত করতে হবে। করোনাভাইরাসের কারণে পৃথিবীতে অনেক অনুষ্ঠান বাদ দেওয়া হয়েছে।"

করোনাভাইরাসে আক্রান্তদের চিকিৎসা পদ্ধতি প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, "অন্য দেশ যেভাবে চিকিৎসা দিচ্ছে, আমরাও সেভাবে ব্যবস্থা নেবো। তবে এটি যাতে ছড়িয়ে না পড়তে পারে সে ব্যাপারে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছি আমরা।"

ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব ছড়ানো রোধে সরকারের ব্যবস্থা প্রসঙ্গে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, "যেহেতু একটি স্পেশাল হাসপাতাল তৈরি রেখেছি। সে হাসপাতাল থেকে চিকিৎসা দিলে ভাইরাসটি ছড়াবে না। সেখানে অন্য কোনো ধরনের রোগী যেতে পারবেন না। ফলে করোনাভাইরাস বাংলাদেশে ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা কম।"

করোনাভাইরাস পরীক্ষার জন্য চীন বাংলাদেশকে শুভেচ্ছাস্বরূপ ৫০০ কিটস দিয়েছে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, "আমাদেরও ২ হাজার কিটস রয়েছে। সবমিলিয়ে আড়াই হাজার কিটস হলো। কিটসের কোনো অভাব হবে না।"

আরও কিটস পাইপলাইনে আছে এবং করোনাভাইরাস পরীক্ষার জন্য সরকারের কাছে ৮টি মেশিন রয়েছে বলেও জানান তিনি।

করোনাভাইরাসে আক্রান্তদের চিকিৎসায় চীনের অভিজ্ঞতা কাজে লাগানোর বিষয়ে জানতে চাইলে জাহিদ মালেক বলেন, "করোনাভাইরাস মোকাবেলায় আমরা একটি ট্রিটম্যান্ট প্রটোকল তৈরি করেছি। চীন সরকারও তাদের দেশের ট্রিটমেন্ট প্রটোকল আমাদের দিয়েছে। সে অভিজ্ঞতাও আমরা কাজে লাগাবো।"

"এছাড়াও সংকট মোকাবেলায় চিকিৎসকদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। দেশের সকল ডিসি, এসপি, সিভিল সার্জনদের এলার্ট থাকতে বলা হয়েছে। আমরা এবিষয়ে সার্বক্ষণিক তদারকি করছি," যোগ করেন তিনি।

প্রসঙ্গত, দেশে তিনজন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয়েছে বলে রবিবার জানিয়েছে রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউট (আইইডিসিআর)। আক্রান্ত তিনজনের মধ্যে দু’জন পুরুষ ও একজন নারী, তাদেরকে কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়েছে।