• সোমবার, এপ্রিল ০৬, ২০২০
  • সর্বশেষ আপডেট : ০৫:১৮ সন্ধ্যা

যৌতুকের দাবিতে নারীকে হত্যা, স্বামী-শ্বশুর গ্রেফতার

  • প্রকাশিত ১১:২১ সকাল মার্চ ১২, ২০২০
মৃত্যু
প্রতীকী ছবি

মেয়ে সন্তানের জন্ম দেওয়ায় ক্ষিপ্ত হয়ে গত মঙ্গলবার তাকে মারধর শুরু করেন স্বামী

গাজীপুরে যৌতুকের দাবিতে এক নারীকে হত্যার অভিযোগ উঠেছে তার স্বামী ও শ্বশুর বাড়ির লোকজনের বিরুদ্ধে। এই ঘটনায় পুলিশ নিহতের স্বামী ও শ্বশুড়কে গ্রেফতার করেছে। নিহত নারীর নাম হাজেরা (১৭)। সে জামালপুরের ইসলামপুর থানার আগড়াখালী এলাকার আব্দুল হাকিমের মেয়ে।

বুধবার (১১ মার্চ) নিহতের বাবা বাদী হয়ে একটি মামলা করেছেন। ঢাকা ট্রিবিউনকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন গাজীপুর মেট্রাপলিটন (জিএমপি) কোণাবাড়ী থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) উদয়ন বিকাশ বড়ুয়া।

পুলিশ ও নিহতের স্বজনদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গাজীপুরে একটি পোশাক কারখানায় চাকরির সুবাদে হাজেরার সঙ্গে পরিচয় হয় মামুন (২৩) নামে এক যুবকের। মামুনের বাড়ি ময়মনসিংহের ফুলবাড়ীয়া থানার এনায়েতপুরে। পরিচয় থেকে এক পর্যায়ে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। দেড় বছর আগে তারা পালিয়ে বিয়ে করেন।

বিয়ের পরে ওই দম্পতি গাজীপুর মহানগরের কুনিয়াপাছর এলাকার একটি বাড়িতে ভাড়া থাকতেন। 

নিহতের স্বজনদের অভিযোগ, বিয়ের পর থেকেই যৌতুকের দাবিতে পরিবারের লোকজনসহ মামুন স্ত্রী হাজেরাকে নির্যাতন করতে শুরু করেন। এরই মাঝে হাজেরা অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়ে। তবুও তাকে প্রায়ই মারধর করা হতো। গর্ভের সন্তানকে নষ্ট করার জন্য খাওয়ানো হতো ওষুধ। ক্রমাগত নির্যাতনে সে অসুস্থ হয়ে পড়ে।

গত ১০-১১ দিন আগে হাজেরা একটি মেয়ে শিশুর জন্ম দেয়। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে আবারও স্ত্রীকে মারধর করে মামুন। স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজনের নির্যাতনে অসুস্থ হয়ে মঙ্গলবার রাতে মারা যায় হাজেরা। 

খবর পেয়ে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য শহীদ তাজউদ্দীন আহমেদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠায়।

কোণাবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইসমাইল হোসেন জানান, বুধবার নিহতের বাবা বাদী হয়ে যৌতুকের দাবিতে নির্যাতন ও হত্যার অভিযোগে একটি মামলা করেছেন। পুলিশ নিহতের স্বামী মামুন (২৩) ও শ্বশুর রমজান আলীকে (৫০) গ্রেফতার করেছে। বিষয়টির তদন্ত চলছে। ওই নারীর গর্ভের সন্তান নষ্ট করার চেষ্টায় অভিযুক্ত চিকিৎসককে ধরতেও অভিযান চলছে।