• রবিবার, মার্চ ২৯, ২০২০
  • সর্বশেষ আপডেট : ০৯:৪০ রাত

সাতক্ষীরায় তিন সন্তানসহ স্ত্রীকে পুড়িয়ে হত্যাচেষ্টা

  • প্রকাশিত ০৯:৪৩ সকাল মার্চ ১৪, ২০২০
হত্যা
প্রতীকী ছবি

দ্বিতীয় বিয়েসহ শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগে স্বামীর বিরুদ্ধে মামলা করায় এমন ঘটনা ঘটানো হয়েছে বলে অভিযোগ ঘটনার শিকার গৃহবধূর

তিন সন্তানসহ স্ত্রী আছিয়া খাতুনকে আগুনে পুড়িয়ে হত্যা চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে আনিছুর রহমান নামের এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। দ্বিতীয় বিয়েসহ শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগে স্বামীর বিরুদ্ধে মামলা করায় এমন ঘটনা ঘটিয়েছে বলে অভিযোগ ঘটনার শিকার গৃহবধূর। দুই শিশুকে নিয়ে আহত আছিয়া খাতুন বর্তমানে শ্যামনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্ষে চিকিৎসাধীন। 

রোমহর্ষক ঘটনাটি ঘটেছে গত বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) দুপুরে শ্যামনগর উপজেলার মুন্সিগঞ্জ ইউনিয়নের চুনকুড়ি গ্রামে।  

আহত গৃহবধূ আছিয়া খাতুন জানায় সংসারে ১১ মাস এবং তিন ও সাতবছর বয়সী তিনটি সন্তান থাকা সত্ত্বেও তার স্বামী আনিছুর রহমান কয়েক মাস আগে পাশের গ্রামের এক নারীকে বিয়ে করেন। দ্বিতীয় বিয়ের পর থেকে শারীরিক নির্যাতেনর মাত্রা বাড়িয়ে দিয়ে একপর্যায়ে তিনি সীমান্ত এলাকা দিয়ে ভারতে চলে যান। সম্প্রতি বাড়িতে ফিরে আসার পর সন্তানসহ তার খোঁজ নেওয়া বন্ধ করে দিলে আছিয়া বাদী হয়ে সাতক্ষীরা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে মামলা করেন।

আছিয়া খাতুনের অভিযোগ বিজ্ঞ আদালত তদন্ত প্রতিবেদন দেওয়ার জন্য শ্যামনগর উপজেলা চেয়ারম্যানের উপর দায়িত্ব দেওয়ায় মামলার বিষয়টি আনিছুর জানতে পারে। এঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে বৃহস্পতিবার দুপুরে সন্তানদের নিয়ে ঘুমিয়ে থাকার সুযোগে স্বামী আনিছুর তার শোবার ঘরে আগুন লাগিয়ে দেয়।

আছিয়ার মা মজিদা বেগম অভিযোগ করেন, আগুনের ঘটনা বুঝতে পেরে চিৎকার করে লোকজন ডাকার চেষ্টা করলে তারা আছিয়াকে বেধড়ক মারপিট করে। এসময় নিচের পেটে মারাত্মক আঘাতপ্রাপ্ত হয়ে অবিরাম রক্তক্ষরণ হওয়ায় তৎক্ষণাৎ স্থানীয়দের সহায়তায় আছিয়াকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

আনিছুরের মুটোফোনে যোগাযোগ করা হলে এক নারী নিজেকে আনিছুরের বোন পরিচয় দিয়ে জানায় আছিয়াকে কেউ মারেনি। সে নিজেই ঘরে আগুন দিয়ে হাসপাতালে যেয়ে ভর্তি হয়েছে। 

স্থানীয় সংরক্ষিত নারী ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য সেলিনা সাইদ বলেন, আনিছুর আবারও বিয়ে করার পর থেকে আছিয়ার ওপর অত্যাচার নির্যাতন চালিয়ে আসছে। স্থানীয়ভাবে একাধিকবার মিমাংসার চেষ্টা করেও সফল হওয়া যায়নি।

কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. কল্লোল বলেন, আছিয়ার রক্তক্ষরণ আগের তুলনায় কমে গেছে। আরও কিছু পরীক্ষার পর তার শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে নিশ্চিত ধারনা দেওয়া যাবে।

শ্যামনগর থানার অফিসার ইনচার্জ মো. নাজমুল হুদা জানান, নুতন করে কেউ কোন অভিযোগ করেনি। অভিযোগ পেলেই আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।