• মঙ্গলবার, মার্চ ৩১, ২০২০
  • সর্বশেষ আপডেট : ০১:১২ দুপুর

কুড়িগ্রামের সাংবাদিককে সাজা: ৫ তথ্য জানতে চেয়েছে হাইকোর্ট

  • প্রকাশিত ০৭:১০ রাত মার্চ ১৫, ২০২০
হাইকোর্ট
হাইকোর্ট। ঢাকা ট্রিবিউন

অভিযান পরিচালনার কারণ এবং আইন অনুসারে ঘটনা কার সম্মুখে কখন সংঘটিত হলো তা জানাতে হবে

কুড়িগ্রামে সাংবাদিককে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে জেলা প্রশাসনের ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে কারাদণ্ড দেওয়ার ঘটনায় মধ্যরাতে অভিযান পরিচালনার কারণসহ রাষ্ট্রপক্ষের কাছে পাঁচটি বিষয়ে তথ্য জানতে চেয়েছে হাইকোর্ট।

এ বিষয়ে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিতে করা এক রিটের শুনানিকালে রবিবার (১৫ মার্চ) বিচারপতি মো. আশরাফুল কামাল ও বিচারপতি সরদার মো. রাশেদ জাহাঙ্গীরের হাইকোর্ট বেঞ্চ এসব তথ্য জানাতে মৌখিক নির্দেশ দেন। সোমবারের মধ্যে রাষ্ট্রপক্ষকে এসব তথ্য জানাতে নির্দেশনা দিয়ে সেদিন আদেশের জন্য রেখেছে।

রাষ্ট্রপক্ষের কাছে যে বিষয়গুলো হাইকোর্ট চেয়েছে তা হলো- সাংবাদিক আরিফুল ইসলামকে দেওয়া সাজা ও দণ্ড আদেশের অনুলিপি, অভিযান কারা পরিচালনা করেছে মোবাইল কোর্ট নাকি টাস্কফোর্স, রাতে অভিযান পরিচালনার বিষয়ে আইন অনুসারে পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে কিনা, অভিযান পরিচালনার কারণ এবং আইন অনুসারে ঘটনা কার সম্মুখে কখন সংঘটিত হলো তা জানাতে হবে।

এ বিষয়গুলো কুড়িগ্রামের জেলা প্রশাসকের সাথে যোগাযোগ করে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল দেবাশীষ ভট্টাচার্য্য সোমবার আদালতকে জানাবেন। 

আদালতে রিট আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী ইশরাত হাসান ও ব্যারিস্টার সৈয়দ সায়েদুল হক সুমন। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল দেবাশীষ ভট্টাচার্য্য।


আরও পড়ুন - সাধারণ মানুষকে নির্যাতন নাজিম উদ্দিনের জন্য নতুন নয় (ভিডিও)


এর আগে রবিবার সকালে বাংলা ট্রিবিউনের নির্বাহী সম্পাদক হারুন উর রশীদ জনস্বার্থে হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় এ রিট আবেদন করেন।

আবেদনে টাস্কফোর্সের নামে আরিফুল ইসলামকে অবৈধ সাজা ও আটক করা কেন সংবিধান পরিপন্থি হবে না, আরিফুল ইসলামকে ৫০ লাখ টাকা কেন ক্ষতিপূরণ দেয়া হবে না এ মর্মে রুল জারির আর্জি জানানো হয়েছে।

এছাড়া কুড়িগ্রামের ডিসি, সিনিয়র সহকারী কমিশনার, সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটকে তাদের ভূমিকার ব্যাখ্যা দেয়ার জন্য তলবের নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে। একইসাথে আরিফের বিরুদ্ধে করা ভ্রাম্যমাণ আদালতের মামলার নথি এবং টাস্কফোর্স পরিচালনার নথি তলব করা হয়েছে।

এদিকে সাংবাদিক আরিফুল ইসলাম রিগ্যানকে ২৫ হাজার টাকায় অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. সুজাউদ্দৌলা রবিবার জামিন দেন। তবে সাংবাদিকের পরিবারের পক্ষ থেকে কেউ ওই জামিন আবেদন করেননি বলে জানা গেছে।

শুক্রবার (১৩ মার্চ) নিজ বাড়ি থেকে আরিফুল ইসলামকে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে গভীর রাতে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে “ভ্রাম্যমাণ আদালত” তাকে এক বছরের জেল ও ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। অভিযোগ আনা হয়, আরিফুলের বাড়ি থেকে আধা বোতল মদ ও ১৫০ গ্রাম গাঁজা পাওয়া গেছে। যদিও আরিফুলের স্ত্রী ও স্থানীয়দের দাবি, আরিফুল মদ-গাঁজা তো দূরের থাক পানসেবী বা ধূমপায়ীও নয়।  

প্রসঙ্গত, কুড়িগ্রামের ডিসি সুলতানা পারভীনের বিরুদ্ধে নিজ নামে পুকুর খননের অভিযোগ ওঠায় সে বিষয়ে একটি প্রতিবেদন লেখেন আরিফুল। সম্প্রতি জেলা প্রশাসনের নিয়োগ অনিয়ম নিয়েও প্রতিবেদন করছিলেন তিনি। আরিফুলের পরিবার ও সহকর্মীদের দাবি, জেলা প্রশাসক মোছা. সুলতানা পারভীন ক্ষিপ্ত হয়ে তাকে ফাঁসিয়েছেন।


আরও পড়ুন - সাংবাদিক আরিফুলের সারা শরীরে নির্যাতনের চিহ্ন (ভিডিও)