• মঙ্গলবার, মার্চ ৩১, ২০২০
  • সর্বশেষ আপডেট : ০১:১২ দুপুর

কক্সবাজারে আরডিসি নাজিমের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু

  • প্রকাশিত ০২:৩২ দুপুর মার্চ ১৯, ২০২০
কুড়িগ্রাম-আরডিসি নাজিম
কুড়িগ্রামের সদ্য সাবেক সিনিয়র সহকারী কমিশনার (রাজস্ব) নাজিম উদ্দিন। সংগৃহীত

আরডিসি নাজিমের বিরুদ্ধে দুর্নীতি, অনিয়ম ও জনগণকে হয়রানির বিষয়ে দ্রুত তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়

কুড়িগ্রামে ঢাকা ট্রিবিউনের সাংবাদিক আরিফুল ইসলাম রিগ্যানকে নির্যাতনের অপরাধে কর্মস্থল থেকে প্রত্যাহার হওয়া সহকারী কমিশনার (রাজস্ব) নাজিম উদ্দিনের বিরুদ্ধে কক্সবাজারে তদন্ত শুরু হয়েছে। সহকারী কমিশনার (ভূমি) হিসেবে সদর উপজেলায় দায়িত্ব পালনের সময় নাজিম উদ্দিনের তার বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতি এবং এক বৃদ্ধকে নির্যাতনের ঘটনা তদন্ত নেমেছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। 

বুধবার (১৮ মার্চ) সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ মাহমদুল্লাহ মারুফের নেতৃত্বে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে দেন কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক। বৃহস্পতিবার তারা সরেজমিনে গিয়ে ভুক্তভোগী ও স্বাক্ষীদের সাক্ষ্য নিয়েছেন।

এর আগে আরডিসি নাজিমের বিরুদ্ধে দুর্নীতি, অনিয়ম ও জনগণকে হয়রানির বিষয়ে দ্রুত তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেয় জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়।


আরও বলুন- সাধারণ মানুষকে নির্যাতন নাজিম উদ্দিনের জন্য নতুন নয় (ভিডিও)


প্রসঙ্গত, ২০১৮ সালে নাজিম উদ্দিন কক্সবাজার সদরের সহকারী কমিশনার (ভূমি) হিসেবে দায়িত্বরত থাকা অবস্থায় মোহাম্মদ আলী প্রকাশ ওরফে নফু মাঝি নামে এক স্থানীয় এক বৃদ্ধকে কান ও জামার কলার ধরে টানতে টানতে নিয়ে যাওয়ার একটি ভিডিও অনলাইনে ছড়িয়ে পড়েছিল। এছাড়াও, দুর্নীতি-অনিয়মের একাধিক অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে তাকে কক্সবাজার থেকে স্ট্যান্ড রিলিজ করে রাঙ্গামাটির জুড়াছড়ি উপজেলায় বদলি করা হয়। 

সেখান থেকে সিনিয়র সহকারী কমিশনার (রাজস্ব) পদে পদোন্নতি পেয়ে কুড়িগ্রাম জেলা প্রশাসনের রেভেনিউ ডেপুটি কালেক্টর (আরডিসি) পদে যোগদেন তিনি। সেখানেই জেলা প্রশাসকের নির্দেশে ঢাকা ট্রিবিউনের সাংবাদিককে নির্যাতন চালিয়ে দেশজুড়ে ফের আলোচনায় আসেন নাজিমউদ্দিন। যার জের ধরেই আবার অনলাইনে ভাইরাল হয় কক্সবাজারে কৃষক নির্যাতনের সেই ভিডিওটি। 


আরও পড়ুন- আরিফুলকে 'কলেমা পড়িয়ে এনকাউন্টারে' দিতে চান সহকারী কমিশনার!


ইতোমধ্যে নাজিমউদ্দিকে কুড়িগ্রাম থেকে প্রত্যাহার করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে ন্যস্ত করা হয়েছে। ফের তার নানা অনিয়ম-দুর্নীতি ও নির্যাতন তদন্ত শুরু করেছে সরকার। 

কক্সবাজার সদর উপজেলায় নাজিমউদ্দিনের অপকর্মের তদন্তের দায়িত্ব পেয়েছেন ইউএনও মোহাম্মদ মাহমদুল্লাহ মারুফ। বুধবার দুপুরে তার নেতৃত্বাধীন তদন্তদল শহরতলীর দরিয়ানগরে গিয়ে নির্যাতিত কৃষক নফু মাঝিসহ ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শীদের মৌখিক ও লিখিত সাক্ষ্য নেয়। ভাইরাল হওয়া সেই ভিডিও ধারণকারী স্থানীয় সাংবাদিক আহমদ গিয়াসও ঘটনার লিখিত সাক্ষ্য দেন। 

তদন্ত রিপোর্টটি বৃহস্পতিবার জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে জমা দেওয়া হবে বলে জানান ইউএনও মোহাম্মদ মাহমদুল্লাহ মারুফ। সেখান থেকে প্রতিবেদনটি পাঠানো হবে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে।


আরও পড়ুন- আরডিসি নাজিম: কোন প্রধানমন্ত্রী তোমাকে বাঁচায় দেখা যাবে


নাজিম উদ্দিনের নির্যাতনের শিকার নফু মাঝি জানান, ‘‘ইউএনও'র নেতৃত্বে তদন্তদল আমার কাছে এসেছিলেন। আমি পুরো ঘটনার বিবরণ দিয়েছি। তুচ্ছ ঘটনায় আমাকে জনসম্মুখে নির্যাতনের তার সমস্ত বিবরণ ও প্রমাণ আমি তুলে ধরেছি। ওই ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শীদেরও জবানবন্দি নেওয়া হয়েছে।’’