• রবিবার, মার্চ ২৯, ২০২০
  • সর্বশেষ আপডেট : ০৯:২৩ রাত

জরুরি অবস্থা ঘোষণা করতে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর কাছে আবেদন

  • প্রকাশিত ০৩:৩৪ বিকেল মার্চ ১৯, ২০২০
করোনাভাইরাস
রয়টার্স

আবেদনে উল্লেখ করা হয়, দেশে করোনা শনাক্তকারী কিটস এর সংখ্যা মাত্র ১,৭৩২। এই ১৮ কোটি জনগোষ্ঠীর জন্য শনাক্তকারী কিটসের এই সংখ্যা খুবই অপ্রতুল

করোনাভাইরাস কোভিড-১৯ -এর সংক্রমণ থেকে রক্ষা পেতে সংবিধানের ১৪১ এ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী দেশে জরুরি অবস্থা ঘোষণার জন্য রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর কাছে আবেদন করা হয়েছে. বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) সুপ্রিম কোর্টের তিন আইনজীবী রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী বরাবর এই আবেদন করেন বলে নিশ্চিত করেছেন আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির।

আবেদনে বলা হয়, মরণব্যাধি রোগ করোনাভাইরাসের কারণে এরই মধ্যে বিশ্বের সাতটি দেশে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হয়েছে। দিন দিন করোনা ভাইরাস যেভাবে ছড়িয়ে পড়ছে বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে সংবিধানের ১৪১ এ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি প্রধানমন্ত্রীর সাথে পরামর্শ করে দেশে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করতে পারেন।

আবেদনে আরও বলা হয়, করোনা এখন বৈশ্বিক মহামারি। এরই মধ্যে এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন দুই লক্ষাধিক মানুষ। আক্রান্তদের মধ্যে প্রায় নয় হাজার মৃত্যু বরণ করেছেন। এটি অতিমাত্রায় সংক্রামক ভাইরাস। এ ভাইরাস নিয়ন্ত্রণে হিমশিম খাচ্ছে পুরো বিশ্ব। এরই মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র, অস্ট্রেলিয়া, ইতালি, স্পেন, কানাডা ও বেলজিয়ামে জাতীয় ও আঞ্চলিক পর্যায়ে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের প্রায় সকল দেশ মসজিদে নামাজ আদায় বন্ধ করে দিয়েছে।

বাংলাদেশও এই সংক্রামক ভাইরাসের কবল থেকে মুক্ত নয়। এ পর্যন্ত ১৭ জন করোনা আক্রান্ত রোগীকে শনাক্ত করা হয়েছে এবং আক্রান্তদের মধ্যে থেকে একজন মৃত্যুবরণ করেছেন। হাজার হাজার মানুষকে কোয়ারেন্টাইনে রাখার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। সরকার সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দিয়েছে এবং সব খেলাধুলা স্থগিত করেছে।

আবেদনে উল্লেখ করা হয়, দেশে করোনা শনাক্তকারী কিটস এর সংখ্যা মাত্র ১,৭৩২। এই ১৮ কোটি জনগোষ্ঠীর জন্য শনাক্তকারী কিটসের এই সংখ্যা খুবই অপ্রতুল। সরকার বিদেশ ফেরতদের হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকার নির্দেশ দিচ্ছে। কিন্তু অনেকেই নিয়ম না মেনে জনসম্মুখে ঘুরে বেড়াচ্ছে। নিয়ম না মানার কারণে এই ভাইরাস এখন কমিউনিটিতে সংক্রমিত হচ্ছে। হাসপাতালের অব্যবস্থাপনা পরিলক্ষিত হচ্ছে। কিছু কিছু এলাকায় করোনা আতঙ্কে স্থানীয় লোকজন বিদেশ ফেরত লোকদের বাড়িঘর ঘেরাও করছে।

এদিকে প্রশাসনের নির্দেশ অমান্য করে সভা, সমাবেশ ও মাহফিল অব্যাহত আছে। করোনা আতঙ্ক কাজে লাগিয়ে গুজব ছড়ানো হচ্ছে। ফলে বাজারে চরম অস্থিরতা বিরাজ করছে। দেশ ও জাতি একটি অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলাহীনতা এবং সংকটের দিকে ধাবিত হতে চলেছে।

আবেদনে আরও বলা হয়, বিদেশি ক্রেতারা পোশাক খাতের ক্রয় আদেশ বাতিল করছে এবং অর্থনীতির সূচক নিম্নমুখী হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে দেশের হিউম্যান বায়ো সিকিউরিটি এবং অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড চরম হুমকির সম্মুখীন। এই পরিস্থিতিতে জরুরি অবস্থা জারি করা হলে দেশ ও জাতি আসন্ন বিপর্যয় থেকে রক্ষা পাবে।

পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে রাষ্ট্রপতির পরবর্তী ঘোষণার মাধ্যমে ১৪১ ক(২) (ক) এর অধীনে জরুরি অবস্থা প্রত্যাহার করা যেতে পারে বলেও আবেদনে উল্লেখ করা হয়।