• মঙ্গলবার, মার্চ ৩১, ২০২০
  • সর্বশেষ আপডেট : ০১:১২ দুপুর

সেই চার নির্যাতনকারী কর্মকর্তার বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ করলেন সাংবাদিক আরিফুল

  • প্রকাশিত ০৬:২৬ সন্ধ্যা মার্চ ১৯, ২০২০
আরিফুল ইসলাম-কুড়িগ্রাম
ঢাকা ট্রিবিউনের কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি আরিফুল ইসলাম সংগৃহীত

কুড়িগ্রামের সাবেক ডিসি সুলতানা পারভীন, সিনিয়র সহকারি কমিশনার (রাজস্ব) নাজিম উদ্দিন, সহকারি কমিশনার রিন্টু বিকাশ চাকমা ও এস এম রাহাতুল ইসলামের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ করেছেন আরিফুল ইসলাম

কুড়িগ্রামের সদ্য প্রত্যাহারকৃত ডিসি সুলতানা পারভীনসহ চার জনের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ করেছেন নির্যাতনের শিকার হওয়া সাংবাদিক আরিফুল ইসলাম।

১৮ মার্চ, বুধবার কুড়িগ্রাম সদর থানায় সাবেক ডিসি সুলতানা পারভীন, সিনিয়র সহকারি কমিশনার, রাজস্ব (আরডিসি) নাজিম উদ্দিন, সহকারি কমিশনার রিন্টু বিকাশ চাকমা ও এস এম রাহাতুল ইসলামের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ করেন আরিফুল ইসলাম। এছাড়া এজাহারনামীয় চারজন ছাড়াও অজ্ঞাতনামা আরও ৩৫ থেকে ৪০ জন সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিরুদ্ধেও অভিযোগ আনা হয়েছে।    

এজাহারে বলা হয়, গত ১৩ মার্চ রাত ১২টার আরডিসি (সিনিয়র সহকারী কমিশনার-রাজস্ব) নাজিম উদ্দিনের নেতৃত্বাধীন লোকজন তার বাড়ির দরজা ভেঙে ঘরে ঢুকে মারতে মারতে টেনে-হিঁচড়ে গাড়িতে তুলে তার চোখ-হাত-পা বেঁধে ফেলেন। এরপর অজ্ঞাতস্থানে নিয়ে তাকে এনকাউন্টার দিতে চান। আরডিসি নাজিম এ সময় বারবার বলেন, “তুই কলেমা পড়ে ফেল তোকে এনকাউন্টার দেওয়া হবে”। পরে তাকে আরিফুলকে ডিসির কার্যালয়ে নিয়ে নাজিম উদ্দিনের নেতৃত্বে বিবস্ত্র করে আবারও বেধড়ক মারধর করা হয় এবং তাকে কারাগারে পাঠানো হয়। পরদিন, কারা কর্তৃপক্ষ মিথ্যা বলে কৌশলে তাকে দিয়ে একটি ওকালতনামায় স্বাক্ষর করিয়ে নেন যেটি আরিফুলের পরিবারের কেউ পাঠায়নি।


আরও পড়ুন - আরিফুলকে 'কলেমা পড়িয়ে এনকাউন্টারে' দিতে চান সহকারী কমিশনার!


এজাহারে আরও বলা হয়, ঘটনার সময় তিনি সুলতানা পারভীন ব্যাতীত উপরোক্ত তিন আসামিকে চিনতে পেরেছেন।   

প্রসঙ্গত, গত ১৩ মার্চ দিবাগত গভীর রাতে আরিফুলকে তুলে নিয়ে প্রথমে ‍“এনকাউন্টার” দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়। পরে তাকে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে নিয়ে বিবস্ত্র করে মারধরের পর ৪৫০ মিলিলিটার দেশি মদ ও ১০০ গ্রাম গাঁজা পাওয়ার নাটক সাজিয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

ব্যাপক সমালোচনার মুখে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের নির্দেশ রংপুরের অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার আবু তাহের মাসুদ বিষয়টির তদন্ত করেন এবং দেখতে পান, জেলা প্রশাসক সুলতানা পারভীন প্রতিহিংসাপরায়ণ হয়ে পুরো ঘটনা পরিকল্পিতভাবে ঘটিয়েছেন।

এ ঘটনায় ১৫ মার্চ, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে দেওয়া এক প্রজ্ঞাপনে, সাংবাদিক নির্যাতনের অপরাধে জেলা প্রশাসক সুলতানা পারভীন এবং জেলা প্রশাসনের তিন কর্মকর্তা সিনিয়র সহকারী কমিশনার নাজিম উদ্দিন, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রিন্টু বিকাশ চাকমা ও এস এম রাহাতুল ইসলামকে প্রত্যাহার করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে ন্যস্ত করে।


আরও পড়ুন - সাধারণ মানুষকে নির্যাতন নাজিম উদ্দিনের জন্য নতুন নয় (ভিডিও)