• মঙ্গলবার, মার্চ ৩১, ২০২০
  • সর্বশেষ আপডেট : ১২:৩৬ দুপুর

`পরিস্থিতি খারাপ হলে' বাস-ট্রেন-নৌ চলাচল বন্ধ করবে সরকার

  • প্রকাশিত ১২:০৯ দুপুর মার্চ ২০, ২০২০
বাস
ফাইল ছবি/ঢাকা ট্রিবিউন

করোনাভাইরাস সংক্রমণ যদি খারাপ পরিস্থিতিতে গেলে সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী প্রয়োজনে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য গণপরিবহন চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হবে

দেশে ইতোমধ্যে কোভিড-১৯ রোগে একজনের মৃত্যু হয়েছে এবং নভেল করোনাভাইরাসসৃষ্ট এই রোগে আক্রান্ত আরও ১৭ জন চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তবে পরিস্থিতি আরও খারাপ হলে সংক্রমণ রোধে সারাদেশে বাস, ট্রেন ও নৌ চলাচল বন্ধ করে দেবে সরকার।

রেলপথমন্ত্রী নুরুল ইসলাম সুজন জানান, ‘‘স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী আমরা প্রতিটি ট্রেন ও স্টেশনে সতর্কতা ব্যবস্থা নিয়েছি। এই মুহূর্তে কমলাপুর, বিমানবন্দর, চট্টগ্রাম, রাজশাহী, খুলনা, সিলেটসহ বড় বড় রেল স্টেশনে যাত্রী প্রবেশ করার আগে হ্যান্ড মেশিনে যাত্রীর শরীরের তাপমাত্রা মাপা হচ্ছে, তারপর ট্রেনে উঠতে বলা হচ্ছে। এসব স্টেশনগুলোতে চিকিৎসকসহ রেলওয়ে স্টাফরা সহযোগিতা করছেন।’’

ট্রেনগুলো জীবাণুমুক্ত করতে যাত্রী ওঠার আগে আসন ও হাতলগুলো পরিষ্কার করা হচ্ছে দাবি করে মন্ত্রী বলেন, ‘‘তবে ট্রেনগুলো জীবাণুমুক্ত করতে পর্যাপ্ত জীবাণুনাষক ঔষধ নেই। এ বিষয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে কথা বলা হবে।’’

তিনি আরও বলেন, ‘‘ট্রেনে যাতায়াত করার আগে যাত্রীদের মাস্ক ব্যবহার করার জন্য আহবান করা হচ্ছে। সচেতনতা সৃষ্টিতে স্টেশনে স্টেশনে মাইকিং করা হচ্ছে।’’

এক প্রশ্নের জবাবে রেলপথমন্ত্রী বলেন, করোনাভাইরাস সংক্রমণ যদি খুবই খারাপ অবস্থায় যায়, তখন সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী প্রয়োজনে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য ট্রেন চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হবে।

যোগাযোগ করা হলে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘‘স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী প্রতিটি বাসে যাত্রী চলাচলে সতর্ক করা হচ্ছে। প্রতিটি বাস মালিককে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। তাদের এখন প্রতিটি বাস জীবাণুমু্ক্ত করে যাত্রী পরিবহন করতে বলা হবে।’’

অপর এক প্রশ্নের জবাবে কাদের বলেন, ‘‘যদি করোনাভাইরাসের সংক্রমণ বেশি হয় সেক্ষেত্রে প্রয়োজনে আন্তজেলা যাত্রীবাহী যান চলাচল বন্ধের ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’’

সেতুমন্ত্রী আরও বলেন, ‘‘পরিবহন মালিকরা হতাশ প্রকাশ করেছেন, তাদের যাত্রী কমে গেছে। এগুলো অটোমেটিকালি কমে যাবে। পরিস্থিতি কমিয়ে ফেলবে। তারপরও যদি প্রয়োজন হয়, আমরা ব্যবস্থা নেব।’’

এ বিষয়ে বাংলাদেশ বাস পরিবহন মালিক সমিতির মহাসচিব এনায়েত উল্লাহ বলেন, ‘‘সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী আন্তঃজেলা বাস সার্ভিসে প্রতিটি বাসে হ্যান্ড স্যানিটাইজার রেখেছে, সাথে টিস্যু পেপারও রাখা আছে। যে সকল যাত্রী গাড়িতে উঠবে তারা আগে হ্যান্ড স্যানিটাইজার দিয়ে হাত জীবাণুমুক্ত করবে।’’

প্রতিটি বাসের সিট জীবাণুমু্ক্ত রাখতে যতটুকু পরিষ্কার রাখা যায়, ততটুকু ব্যবস্থা করা হচ্ছে দাবি করে তিনি বলেন, ‘‘পরিস্থিতি খারাপের দিকে গেলে সরকার যদি সিদ্ধান্ত নেয় বাস বন্ধ রাখার, তাহলে আমরা বন্ধ করে দেব।’’

একই বিষয়ে নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালেদ মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ‘‘ইতোমধ্যে সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী প্রতিটি নৌ বন্দর ও স্টিমারে গত ১ মাস আগে থেকেই সচেতনতামূলক প্রচারণা চালাচ্ছি।’’

সদরঘাটসহ প্রতিটি স্টিমারে মেডিকেল টিম আছে উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘‘করোনাভাইরাস থেকে মুক্ত থাকতে প্রতিটি স্টিমার আমরা জীবাণুমুক্ত রাখতে ব্যবস্থা নিচ্ছি। ইতোমধ্যে সকল স্টিমার মালিকদের সঙ্গে মিটিং করে নির্দেশনা দিয়েছি।’’

বর্তমানে লঞ্চ বা স্টিমারে ভ্রমণে নিরুৎসাহিত করা হচ্ছে উল্লেখ করে নৌপ্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, ‘‘করোনাভাইরাসের কারণে যদি নাজুক পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়, তাহলে প্রয়োজন হলে নৌ চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হবে।’’

যোগাযোগ করা হলে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক বলেন, ‘‘যদি কারও জ্বর, সর্দি ও কাশি থাকে তাহলে কোনো ধরনের ট্রান্সপোর্ট (গণপরিবহন) ব্যবহার করা যাবে না। সর্দি কাশি মুক্ত হলে ট্রান্সপোর্ট ব্যবহার করতে পারবেন।’’

সকল পরিবহন সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়কে এ বিষয়ে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘‘প্রতিটি পরিবহন- বাস, ট্রেন ও স্টিমার যাত্রী পরিবহনের আগে অবশ্যই পরিবহন জীবাণুমুক্ত করতে হবে। পরিবহন জীবাণুমুক্তকরণ ছাড়া যাত্রী পরিবহন করা যাবে না।’’

তিনি আরও বলেন, ‘‘যেসব যাত্রী গণপরিবহন ব্যবহার করবেন তাদেরকে অবশ্যই হাত হ্যান্ড স্যানিটাইজার বা হ্যাক্সাসল দিয়ে জীবাণুমুক্ত করে গাড়ি বা ট্রেন ও স্টিমারে উঠতে হবে।’’

মন্ত্রী আরও বলেন, জীবাণুমুক্ত করার কারণ হলো পরিবহনে কে কোথায় থেকে এসেছে সেটি আপনার জানা নাই। তাই নিজেকে মুক্ত রাখতে হলে সতর্কভাবে গণপরিবহনে চলাচল করতে হবে। তবে জরুরি প্রয়োজন ছাড়া এ মুহুর্তে গণপরিবহন ব্যবহার না করাই ভালো।