• রবিবার, এপ্রিল ০৫, ২০২০
  • সর্বশেষ আপডেট : ০১:১৮ দুপুর

করোনাভাইরাস: নওগাঁয় মোকামে চালের দাম বেড়েছে কেজিতে ৫-৭ টাকা

  • প্রকাশিত ০৮:১১ রাত মার্চ ২০, ২০২০
চাল
ফাইল ছবি। রাজীব ধর/ঢাকা ট্রিবিউন

বাজারে চালের চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় কয়েক দিনের ব্যবধানে  চালের দাম অস্বাভাবিক বেড়েছে

দেশের অন্যতম বৃহৎ চালের মোকাম নওগাঁয় গত ছয়-সাত দিন ধরে প্রতি কেজিতে চালের দাম বেড়েছে ৫ থেকে ৭ টাকা। অন্য সময়ের তুলনায় গত কয়েক দিন মোকামে চালের বিক্রি বেড়েছে প্রায় পাঁচ গুণ।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, নওগাঁয় মোটা জাতের স্বর্ণা চালের দাম প্রতি বস্তায় (৫০ কেজি) বেড়েছে ৪০০ টাকা। এক সপ্তাহ আগেও প্রতি বস্তা স্বর্ণা চাল যেখানে ১ হাজার ৫৫০ টাকায় বিক্রি হতো, এখন সেই চাল বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার ৯০০ টাকা। কেজিতে মোটা চালের দাম বেড়েছে ৭ টাকা। চিকন জাতের জিরা চালের দাম কেজিতে বেড়েছে ৬ টাকা। এক সপ্তাহের ব্যবধানে ২ হাজার ১০০ টাকায় প্রতি বস্তা জিরা চাল বিক্রি হলেও এখন বিক্রি হচ্ছে ২ হাজার ৪০০ টাকায়। এছাড়া কাটারিভোগ ও নাজিরশাইল চালের দাম কেজিতে বেড়েছে ৫ টাকা।

চাল ব্যবসায়ীদের দাবি, করোনাভাইরাস আতঙ্কে কৃত্রিম সঙ্কট তৈরি হতে পারে এমন আশঙ্কায় মানুষের মাঝে খাদ্যপণ্য মজুদের প্রবণতা বেড়েছে। এর ফলে বাজারে চালের চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় কয়েক দিনের ব্যবধানে  চালের দাম অস্বাভাবিক বেড়েছে। মোকামে চালের চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় বেশি বেশি চাল উৎপাদন করছেন মিল মালিকেরা। ফলে বাজারে ধান কেনার প্রতিযোগিতাও তৈরি হয়েছে। প্রকারভেদে প্রতি মণ ধানের দাম বেড়েছে ১৫০-২০০ টাকা পর্যন্ত।

নওগাঁ ধান-চাল আড়তদার সমিতির সভাপতি নিরোধ বরণসাহা বলেন, অন্য বছরগুলোতে এই সময়ে নওগাঁর চালের মোকামগুলো থেকে দিনে খুব বেশি হলেও ১০০ গাড়ি (ট্রাক) চাল ঢাকা, চট্টগ্রামসহ বিভিন্ন জায়গায় যেত। কিন্তু গত ছয়-সাত দিন থেকে প্রতি দিন প্রায় ৫০০ গাড়ি চাল দেশের বড় বড় বাজারগুলোতে যাচ্ছে। অর্থাৎ মোকামে চালের বিক্রি বেড়েছে পাঁচগুণ। চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় যোগান ঠিক রাখার জন্য মিল মালিকদের মাঝে ধান কেনার প্রবণতা বেড়ে গেছে। ফলে ধানের দাম বেড়েছে প্রতি মণে ১৫০ থেকে ২০০ টাকা পর্যন্ত। ধানের দাম বেড়ে যাওয়ায় চালের দাম প্রতি বস্তায় ২০০ থেকে ৩০০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে।

নওগাঁ পৌর চাল বাজার সমিতির সাধারণ সম্পাদক উত্তম সরকার বলেন, সব ধরনের চালের দাম বেড়েছে। তবে দেশে বড় ধরণের কোনো দুর্যোগ না হলে চালের সঙ্কটের কোনো সম্ভাবনা নেই। করোনাভাইরাস আতঙ্কের কারণে মানুষের মাঝে খাদ্যপণ্য কেনার যে প্রবণতা তৈরি হয়েছে এটা সাময়িক।

মের্সাস ফারিহা অটো মিলের মালিক সরদার ফরিদ উদ্দিন বলেন, এক সপ্তাহ আগেও আমার মিল থেকে খুব বেশি হলে তিন গাড়ি চাল বিক্রি হতো। কিন্তু গত ছয়-সাত দিন ধরে ছয় থেকে আট গাড়ি চাল বিক্রি হচ্ছে। চাহিদা অনুযায়ী চালের যোগান দিতে পারছি না।

নওগাঁ জেলা চাউল কল মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক ফরহাদ হোসেন চকদার বলেন, চালের বাজার ৫-৭ টাকা পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে। বছরের এই সময়ে বাজারে ধানের সরবরাহ কম থাকায় চালের দাম একটু বাড়ার প্রবণতা থাকে। কিন্তু করোনাভাইরাস আতঙ্কে চাল কেনার হিড়িকের কারণে চালের বাজারে এই ধরণের অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। তবে সরকারের হাতে প্রচুর চাল রয়েছে। এই মুহুর্তে খোলা বাজার চাল বিক্রি করা উচিত। খোলা বাজারে চাল বিক্রি শুরু হলেই চালের দাম কমে যাবে।