• মঙ্গলবার, মার্চ ৩১, ২০২০
  • সর্বশেষ আপডেট : ০১:১২ দুপুর

সাংবাদিক নির্যাতন: যা বললেন কুড়িগ্রামের নতুন ডিসি

  • প্রকাশিত ০৭:০৫ রাত মার্চ ২০, ২০২০
কুড়িগ্রাম নতুন ডিসি রেজাউল করিম
কুড়িগ্রামের নতুন ডিসি রেজাউল করিম সংগৃহীত

নতুন এই জেলা প্রশাসক সাংবাদিকদের উদ্দেশে বলেন, ‘আপনারা বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ প্রকাশ করবেন। আমার কাজের সমালোচনা করবেন। সমালোচনা না করলে আমি ভালো কাজ করছি কিনা তা বুঝতে পারবো না’

“আর আইনের ব্যতয় ঘটতে দেব না। আমরা আইনের পথে হাঁটবো। এটাই হচ্ছে আমার প্রধান কাজ। কোনও ধরণের আইনের ব্যতয় ঘটতে দিন না।” বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) দুপুরে নতুন কর্মস্থলে যোগদানে পর সন্ধ্যায় ঢাকা ট্রিবিউনের কাছে এভাবেই প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন কুড়িগ্রামের নতুন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রেজাউল করিম।

এর আগে বৃহস্পতিবার দুপুরে কুড়িগ্রামের জেলা প্রশাসক হিসেবে তিনি যোগদান করেন। এ সময় জেলা প্রশাসনের অন্যান্য কর্মকর্তারা তাকে ফুল দিয়ে বরণ করে নেন। পরে সন্ধ্যায় ঢাকা ট্রিবিউনের সঙ্গে আলাপকালে মোহাম্মদ রেজাউল করিম বলেন, “আইন হচ্ছে জনগণের জন্য। পজিটিভলি (ইতিবাচকভাবে) আমরা কাজ করবো। আইন যেন নিজস্ব গতিতে চলে সেটাই আমি চেষ্টা করবো।”

২২তম বিসিএসের এই কর্মকর্তা চাকরির শুরুতেই কুড়িগ্রামে কর্মরত ছিলেন জানিয়ে ঢাকা ট্রিবিউনকে তিনি বলেন, “জেলা প্রশাসককে আপনারা যেভাবে দেখতে চান আমি সেভাবেই জনগণের কল্যাণের জন্য কাজ করে যাবো। যেন প্রত্যেকটি মানুষ যথাযথ সেবা পায়। ডিসিপ্লিন বা আইনের প্রয়োগটা যেন যথাযথ হয় সেভাবেই আমি কাজ করবো।”

জেলা প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ে দুর্নীতি দমনে কী করবেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, “আমি নতুন যোগদান করেছি। আমাদের কাছে সরকারের একটি স্পষ্ট নির্দেশনা রয়েছে যে, মানুষকে সেবা করতে গিয়ে যেন কোনও ধরনের অস্পষ্টতা তৈরি না হয়। সেরকম অস্পষ্টতার কোনও বিষয় যদি আমার কাছে আসে আমি ডেফিনিটলি (অবশ্যই) ব্যবস্থা নেব।”

তিনি বলেন, “সরকার আমাকে পোস্টিং দিয়েছে, সরকারের যে মোটিভ সেটি আমি বাস্তবায়ন করবো। সেটা করতে গিয়ে আমি আইনের যথাযথ প্রয়োগ করবো।”


আরও পড়ুন - সাধারণ মানুষকে নির্যাতন নাজিম উদ্দিনের জন্য নতুন নয় (ভিডিও)


সাংবাদিকদের উদ্দেশে করে নতুন এই জেলা প্রশাসক বলেন, “আপনারা বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ প্রকাশ করবেন। আমার কাজের সমালোচনা করবেন। সমালোচনা না করলে আমি ভালো কাজ করছি কিনা তা বুঝতে পারবো না। আমি গঠনমূলক সমালোচনাকে স্বাগত জানাই।”

গত শুক্রবার (১৩ মার্চ) মধ্যরাতে ঢাকা ট্রিবিউনের কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি সাংবাদিক আরিফুল ইসলাম রিগানকে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে নির্যাতন করে সাজানো মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে এক বছরের সাজা দেওয়া হয়। তৎকালীন জেলা প্রশাসক সুলতানা পারভীনের নির্দেশনায় আরডিসি নাজিম উদ্দীনের নেতৃত্বে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রিন্টু বিকাশ চাকমা ও রাহাতুল ইসলামসহ অন্তত ৩৫-৪০ জন রিগানকে তুলে নিয়ে প্রথমে ‘এনকাউন্টার’ দেওয়ার চেষ্টা করে। পরে তাকে জেলা প্রশাসনের কার্যালয়ে নিয়ে বিবস্ত্র করে মারধর করে। পরবর্তীতে ৪৫০ গ্রাম মিলিলিটার মদ ও ১০০ গ্রাম গাঁজা সঙ্গে দিয়ে মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

এ ঘটনায় দেশজুড়ে তোলপাড় শুরু হলে একদিন পর চাপের মুখে তৎকালীন জেলা প্রশাসক ‍সুলতানা পারভীন নিজেই উদ্যোগ নিয়ে পরিবারের সঙ্গে কথা না বলেই আরিফুলের জামিনের ব্যবস্থা করেন। তবে ঘটনার পরপরই রংপুরের অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার তদন্ত করে সাংবাদিক নির্যাতন এবং সাজানো মোবাইল কোর্টের সত্যতা পান। ওই তদন্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী জেলা প্রশাসক সুলতানা পারভীন, আরডিসি নাজিম উদ্দীন, দুই ম্যাজিস্ট্রেট রিন্টু বিকাশ চাকমা ও রাহাতুল ইসলামকে প্রত্যাহার করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে ন্যস্ত করা হয়।


আরও পড়ুন - এবার ফেসবুককে অস্ত্র বানিয়ে ডিসি সুলতানার মিথ্যাচার!


ঘটনার পর জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহদা হোসেন বলেছেন, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা করার প্রক্রিয়া চলছে। তদন্ত শেষে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এদিকে বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) নির্যাতিত সাংবাদিক আরিফুর রহমান সদ্য প্রত্যাহার হওয়া জেলা প্রশাসক সুলতানা পারভীন, আরডিসি নাজিম উদ্দীন, দুই ম্যাজিস্ট্রেট রিন্টু বিকাশ চাকমা ও রাহাতুল ইসলামসহ অজ্ঞাতনামা ৩৫-৪০ জনের বিরুদ্ধে কুড়িগ্রাম সদর থানায় একটি অভিযোগ দাখিল করেছেন।

এ বিষয়ে কুড়িগ্রাম সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহাফুজার রহমান ঢাকা ট্রিবিউনকে বলেন, “অভিযোগটির বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে পরবর্তী আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।”