• মঙ্গলবার, মার্চ ৩১, ২০২০
  • সর্বশেষ আপডেট : ০১:৪৭ দুপুর

করোনাভাইরাস: টাঙ্গাইলের যৌনপল্লী সাময়িক বন্ধ

  • প্রকাশিত ১০:২৪ রাত মার্চ ২০, ২০২০
যৌনপল্লী
টাঙ্গাইল কান্দারপাড় যৌনপল্লী। ঢাকা ট্রিবিউন

আগামী ৩১ মার্চের পর্যন্ত কোনো যৌনকর্মী বাইরে যেতে পারবেন না এবং খদ্দের বা বাইরের কেউ যৌনপল্লীতে প্রবেশ করতে পারবেন। এ সময় যৌনকর্মীদের খাওয়া-দাওয়াসহ যাবতীয় খরচ সরকার বহন করবে

করোনাভাইরাস প্রতিরোধে টাঙ্গাইল শহরের কান্দাপাড়ায় অবস্থিত দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম যৌনপল্লী সাময়িক বন্ধ করা হয়েছে। 

শুক্রবার (২০ মার্চ) সন্ধ্যায় জেলা প্রশাসক শহীদুল ইসলামের নেতৃত্বে একটি টিম যৌনপল্লী পরিদর্শন করে এই নির্দেশনা জারি করেন। আগামী ৩১ মার্চ পর্যন্ত এই নির্দেশনা অব্যহত থাকবে। 

এ সময় যৌন পল্লীতে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জনপ্রতি ৩০ কেজির করে মোট ৫০০ বস্তা চাল বিতরণ করা হয়। এছাড়া আগামী ৩১ মার্চ পর্যন্ত যৌনকর্মীদের খাওয়া-দাওয়াসহ যাবতীয় খরচ সরকার বহন করবে বলেও তাদেরকে জানানো হয়। 

 এ ব্যাপারে টাঙ্গাইলের পুলিশ সুপার সঞ্জিত কুমার রায় ঢাকা ট্রিবিউনকে বলেন, “৩১ মার্চের পর্যন্ত কোনো যৌনকর্মী বাইরে যেতে পারবে না এবং একই সাথে কোনো খন্দের বা বাইরের কেউ যৌনপল্লীতে প্রবেশ করতে পারবে না। কেউ এই নির্দেশ অমান্য করলে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

চাল বিতরণের সময় উপস্থিত ছিলেন টাঙ্গাইলের জেলা প্রশাসক শহীদুল ইসলাম, পুলিশ সুপার সঞ্জিত কুমার রায়, সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ ওয়াহীদুজ্জামানসহ প্রশাসনের অন্যান্য কর্মকর্তাবৃন্দ।

প্রায় ২০০ বছরের পুরোনো এই যৌনপল্লীতে এখন বর্তমানে প্রায় ৪০০ জনের মতো যৌনকর্মী রয়েছে। বিভিন্ন কারণে প্রতিনিয়তই কমছে যৌনকর্মীর সংখ্যা। 

জানা গেছে, ২০০৬ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর টাঙ্গাইল পৌরসভার তৎকালীন চেয়ারম্যান জামিলুর রহমান মিরন টাঙ্গাইলের আলেমদের নিয়ে যৌনপল্লী উচ্ছেদের ঘোষণা দেন। “পতিতাপল্লী উচ্ছেদ কমিটি”র আহ্বায়ক ছিলেন তিনি নিজে (জামিলুর রহমান মিরন)। ওই বছরের ৭ অক্টোবর যৌনপল্লী ঘেরাও করার উদ্দেশ্যে টাঙ্গাইল কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ থেকে গণমিছিল বের হয়। এর প্রতিবাদে সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা টাঙ্গাইল শহিদ মিনারে সভা করেন। মুসুল্লিদের গণমিছিলটি সেখানে গিয়ে তাদের উপর আক্রমণ চালায়। এতে কয়েকজন আহত হন। পরে প্রশাসনের উচ্চ পর্যায়ের নির্দেশে উচ্ছেদ আন্দোলন বন্ধ হয়ে যায়। 

পরে ২০১৪ সালের রমজানে আবার উচ্ছেদের আন্দোলন শুরু হয়। যৌনকর্মীদের অভিযোগ,  আলেম সমাজকে ভুল বুঝিয়ে একশ্রেণির স্বার্থবাদী মহল এ আন্দোলন শুরু করে। ২০১৪ সালের ১১ জুলাই সন্ত্রাসীরা যৌনপল্লীতে এসে রাতের অন্ধকারে সবাইকে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে মারার হুমকি দেয়। পরদিন জীবনের ভয়ে যৌনকর্মীরা তাদের দীর্ঘ দিনের পল্লী ছেড়ে চলে যান। অনেকে ময়মনসিংহ যৌনপল্লীতে আবার কেউ কেউ টাঙ্গাইলের বিভিন্ন জায়গায় অবস্থান করে মানবেতর জীবনযাপন করতে থাকেন। পরে হাইকোর্টের রায়ের ফলে যৌনকর্মীরা আবার তাদের পল্লী ফিরে পান এবং চলে যাওয়া যৌনকর্মীরা আস্তে আস্তে এ যৌনপল্লীতে ফিরতে শুরু করেন।