• মঙ্গলবার, মার্চ ৩১, ২০২০
  • সর্বশেষ আপডেট : ০১:২৭ দুপুর

সাবেক ডিসিসহ চারজনের বিরুদ্ধে হত্যাচেষ্টা মামলা নেওয়ার নির্দেশ

  • প্রকাশিত ১০:৩৪ রাত মার্চ ২৩, ২০২০
কুড়িগ্রাম
বাঁ থেকে কুড়িগ্রামের সাবেক জেলা প্রশাসক সুলতানা পারভীন, সহকারী কমিশনার (এসি) রিন্টু বিকাশ চাকমা, সিনিয়র সহকারী কমিশনার-রাজস্ব (আরডিসি) নাজিমউদ্দিন, সহকারী কমিশনার (এসি) এসএম রাহাতুল ইসলাম।

কুড়িগ্রামের সাবেক জেলা প্রশাসক সুলতানা পারভীন ও তিন ম্যাজিস্ট্রেটসহ অজ্ঞাতনামা ৩৫-৪০ জনের বিরুদ্ধে হত্যা চেষ্টার যে অভিযোগ করেছেন সাংবাদিক আরিফুল, সেটিকেই মামলার এজাহার হিসেবে নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট


মধ্যরাতে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে ঢাকা ট্রিবিউনের কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি আরিফুল ইসলামকে নির্যাতনের ঘটনায় হত্যাচেষ্টা মামলা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। 

সোমবার (২৩ মার্চ) কুড়িগ্রামের সাবেক জেলা প্রশাসক সুলতানা পারভীন ও তিন ম্যাজিস্ট্রেটসহ অজ্ঞাত ৩৫-৪০ জনের বিরুদ্ধে হত্যা চেষ্টার অভিযোগে থানায় করা আরিফুলের অভিযোগকে এজাহার হিসেবে নেওয়ার দেন হাইকোর্ট। 

এছাড়া, একইসঙ্গে তাকে দেওয়া এক বছরের সাজা ছয় মাসের জন্য স্থগিত করা হয়েছে। 

সোমবার এক রিট আবেদনের শুনানি করে বিচারপতি মো. আশরাফুল কামাল ও বিচারপতি সরদার মো. রাশেদ জাহাঙ্গীরের হাইকোর্ট বেঞ্চ রুলসহ এ আদেশ দেন।

রুলে আরিফুলকে দেওয়া সাজার প্রক্রিয়া কেন অবৈধ ও বাতিল করা হবে না তা জানতে চেয়েছেন আদালত।

এর আগে, সোমবার সকালে আদালতে উপস্থিত হন আরিফুল। পরে আদালত তাকে রিট আবেদনকারী হতে বলে। সে অনুসারে রিটের আবেদনকারী হন আরিফুল। এরপর আদালত এ আদেশ দেয়।


আরও পড়ুন - আরিফুলকে 'কলেমা পড়িয়ে এনকাউন্টারে' দিতে চান সহকারী কমিশনার!


আদালতে সাংবাদিক আরিফের পক্ষে শুনানিতে অংশ নেন সিনিয়র আইনজীবী এএম আমিন উদ্দিন ও ইশরাত হাসান। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল প্রতিকার চাকমা।

শুনানির শুরুতে আইনজীবী ইশরাত হাসান সাংবাদিক আরিফকে সাজা প্রদান সংক্রান্ত নথিপত্রের অসঙ্গতিগুলো তুলে ধরেন এবং এভাবে অসঙ্গতিপূর্ণ নথি দিয়ে হাইকোর্টে উপস্থাপন কতটুকু আইনসম্মত তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তিনি বলেন, সাংবাদিক আরিফকে সাজা দেওয়া হয়েছে ১৩ মার্চ, অথচ সাজার কপিতে স্বাক্ষর করা হয়েছে ১৪ মার্চ। আবার সাজা দেওয়ার আগেই তাকে জেলে পাঠানো হলো, এটা কিভাবে সম্ভব? ১৬৪ ধারায় দোষ স্বীকারোক্তিতে আসামির নাম ও পিতার নাম একই লেখা হয় কিভাবে?

জবাবে আদালত বলেন, “আমি নিজেও এসব নথি পড়েছি। প্রতিটা শব্দ পড়েছি। অনেক কিছু এখানে অসঙ্গতি পেয়েছি। যখন কেউ কোনো কাজ (অপরাধ) করে তখন তার ফুটপ্রিন্ট (পদচিহ্ন) রেখে যায়।”

ইশরাত হাসান বলেন, স্বীকারোক্তিতে আসামির আর বাবার নাম একই। সেখানে আসামির নাম নেই। তাহলে কেন তাকে সাজা দেওয়া হবে? তাহলে আরিফ তো সেই ব্যক্তি না। এমনকি স্বীকারোক্তিতে আরিফের কি অপরাধ, তারও কোনো বর্ণনা নেই। এরপরও এ মামলায় আর কি থাকতে পারে? এ মামলায় এখন যদি নতুন করে আর কোনো নথি আসে তাহলে তার দ্বারা আদালত মিস লিড হতে পারে। অ্যাটর্নি জেনারেল এই বিষয়ে তার বক্তব্যে বলেছেন, বাড়ি থেকে ধরে তুলে নিয়ে সাজা দেওয়া আইনসম্মত নয়। এছাড়াও দুজন সাক্ষী তাদের সাক্ষ্যে একই বক্তব্য দিয়েছেন। আবার মদ ও গাঁজা একসাথে খাওয়া হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। কিন্তু একসাথে মদ ও গাঁজা কিভাবে খাওয়া যেতে পারে? এমনকি ঠিকানাও টেম্পারিং করা হয়েছে। ভ্রাম্যমাণ আদালত মদ খাওয়ার অপরাধে সাজা দিয়েছে। কিন্তু গাঁজার অপরাধে সাজা দেয়নি। তাহলে গাজা কোথায় গেলো? এ মামলায় প্রতিটি বিষয় সাজানো হয়েছে। ভ্রাম্যমাণ আদালতের সাজায় এমন কোনো জায়গা নেই যেখানে আরিফের মৌলিক অধিকার লঙ্ঘন হয়নি।


আরও পড়ুন - ঢাকা ট্রিবিউনের সাংবাদিককে চোখ বেঁধে বিবস্ত্র করে নির্যাতনের অভিযোগ


আইনজীবীর শুনানি শেষ হলে আদালত বলেন, “যেহেতু তিনি (সাংবাদিক আরিফ) হাইকোর্টে এসেছেন। সেহেতু তিনি পিটিশনার হলে ভালো হবে। আপনারা তাকে পিটিশনার হিসাবে অন্তর্ভুক্ত করুন। আমরা আদেশ দিতে চাই, নইলে অনেক কিছু মিস হয়ে যাবে।”

আইনজীবী ইশরাত হাসান বলেন, “ওনার (সাংবাদিক আরিফ) হাত ভাঙ্গা। তখন আদালত বলেন, প্রয়োজনে উনি টিপসই দিয়ে মামলার পিটিশনে স্বাক্ষর করুক। আমরা বিশেষ নির্দেশনা দিয়ে দিচ্ছি। এটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়, আমরা মামলাটি শুনতে চাই।”     

প্রসঙ্গত, গত ১৩ মার্চ মধ্যরাতে বাড়িতে হানা দিয়ে মারধর করে তুলে নিয়ে যাওয়া হয় ঢাকা ট্রিবিউনের কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি আরিফুল ইসলামকে। তার বাসায় আধা বোতল মদ ও দেড়শ’ গ্রাম গাঁজা পাওয়া গেছে বলে দাবি করা হয়। এরপর গভীর রাতে জেলা প্রশাসকের অফিসে ভ্রাম্যমাণ আদালত বসিয়ে এক বছরের কারাদণ্ড দিয়ে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।

জানা যায়, জেলা প্রশাসক মোছা. সুলতানা পারভীন একটি পুকুর সংস্কার করে নিজের নামে নামকরণ করতে চেয়েছিলেন। আরিফুল এ বিষয়ে একটি প্রতিবেদন করার পর থেকেই তার ওপর ক্ষুব্ধ ছিলেন ডিসি। এছাড়া, সম্প্রতি জেলা প্রশাসনের বিভিন্ন অনিয়ম নিয়ে রিপোর্ট করতে চেয়েছিলেন সাংবাদিক আরিফ। এ বিষয়ে জানতে পেরে জেলা প্রশাসকের অফিস থেকে তাকে বেশ কয়েকবার ডেকে নিয়ে সতর্ক করা হয়।

এই ঘটনায় কুড়িগ্রামের ডিসি সুলতানা পারভীন, আরডিসি নাজিম উদ্দিন, সহকারী কমিশনার রিন্টু বিকাশ চাকমা ও এসএম রাহাতুল ইসলামকে প্রত্যাহার করা হয়েছে।


আরও পড়ুন - সাধারণ মানুষকে নির্যাতন নাজিম উদ্দিনের জন্য নতুন নয় (ভিডিও)