• মঙ্গলবার, জুলাই ০৭, ২০২০
  • সর্বশেষ আপডেট : ০৮:৫৮ রাত

পিপিই সঙ্কটে রেইনকোটে ভরসা রাখছে পুলিশ

  • প্রকাশিত ১২:৫২ দুপুর এপ্রিল ২৮, ২০২০
করোনাভাইরাস
লকডাউন কার্যকরে দায়িত্ব পালন করছেন পুলিশ সদস্যরা। রাজিব ধর/ঢাকা ট্রিবিউন

দেশের প্রায় প্রতিটি পুলিশ স্টেশনে পুলিশ সদস্যরা এভাবে নিজেদের মধ্যে সমন্বয় করে পিপিই ব্যবহার করতে বাধ্য হচ্ছন

রাজধানীতে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণকারীদের বেশিরভাগকেই সমাহিত করা হয়েছে খিলগাঁওয়ের একটি কবরস্থানে। আর এসব মৃতদেহের জানাজা, দাফন, এলাকায়-মহল্লায় গিয়ে লকডাউন, রাস্তায় চেকপোস্ট বসানোর কাজটি করছে খিলগাঁও থানা পুলিশ। নামে খিলগাঁও হলেও রামপুরা ও বনশ্রীর একাংশ নিয়ে গঠিত বৃহৎ এলাকার এই থানায় প্রায় ২০০ জন পুলিশ সদস্য কাজ করছেন। এতো সংখ্যক মানুষের বিপরীতে পিপিই আছে সর্বমোট ৪০টি।

খিলগাঁওয়ের পুলিশ সদস্যরা বলছেন, মূলত লাশ দাফনের ডিউটি, লকডাউন, চেকপোস্ট কিংবা সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিতকরণের ডিউটি করতে গেলেই কেবল তাদের একটি পিপিই থানা থেকে প্রদান করা হয়। ডিউটি শেষে এসব পিপিই থানায় জমা দেয়া হয়। পরে সুগুলো ধুয়ে পরিস্কার করে থানাতেই সংরক্ষণ করা হয়। একই পিপিই পরিস্কারের পর বিভিন্ন পুলিশ সদস্য ব্যবহার করেন।

শুধু খিলগাঁও নয়, দেশের প্রায় প্রতিটি পুলিশ স্টেশনে পুলিশ সদস্যরা এভাবে নিজেদের মধ্যে সমন্বয় করে পিপিই ব্যবহার করছেন। কারণ পুলিশ সদর দপ্তর থেকে এখনও পর্যাপ্ত সুরক্ষা সরঞ্জামাদি প্রদান করা হয়নি কিংবা সম্ভব হয়ে ওঠেনি।

পুলিশের বিভিন্ন রেঞ্জ বা ইউনিটের কর্মকর্তারা বলছেন, পিপিই সঙ্কট মেটাতে আপাতত নিজস্ব রেইনকোট ব্যবহার করতে ইউনিটগুলোয় নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। প্রত্যেক পুলিশ সদস্যকে প্রতি দুই বছর পরপর একটি রেইনকোট দেয়া হয়। ইতোমধ্যেই অনেক এলাকায় পুলিশ সদস্যরা রেইনকোট ব্যবহার শুরু করেছেন।

যদিও স্বাস্থ্য সংশ্লিষ্টরা বলছেন, পিপিই ব্যবহারের পর সেগুলো নষ্ট করা উচিত। কিন্তু রেইনকোট তো পুড়িয়ে ফেলা যাবে না। তাই এটি কতটুকু স্বাস্থ্যসম্মত তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তারা।

এ ব্যাপারে বাংলাদেশ পুলিশের অতিরিক্ত আইজিপি (প্রশাসন ও অপারেশন্স) ড. মো. মইনুর রহমান চৌধুরী ঢাকা ট্রিবিউনকে বলেন, “সবার ক্ষেত্রে পিপিই দরকার হওয়ার কথা না। তারপরও আমরা চেষ্টা করছি। এতো দ্রুত সময়ে স্থানীয়ভাবে তৈরি করা তো সম্ভব নয়।“

মাঠ পর্যায়ের পুলিশ সদস্যদের সঙ্গে আলাপ করে জানা গেছে, পিপিই ছাড়াও থানায় যেসব সুরক্ষা সরঞ্জামাদি আছে তার মধ্যে একটা অংশ স্থানীয়ভাবে বিভিন্ন ব্যবসায়ী, শিল্পপতি বা সমাজকর্মীদের কাছ থেকে নিজ উদ্যোগে সংগ্রহ করেছে বিভিন্ন থানার পুলিশ। অনেক পুলিশ কর্মকর্তা নিজ উদ্যোগে ব্যবস্থা নিয়েছেন। যদিও তা পর্যাপ্ত নয়। যে কারণে অনেকেই করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন।

পুলিশ বলছে, যেসব সদস্য আক্রান্ত হয়েছেন তাদের বেশিরভাগই সামাজিক দূরত্ব রক্ষার দায়িত্ব পালন করেছেন। এসব সদস্যরা কর্তব্যরত অবস্থায় কিংবা বসবাসের স্থানে সামাজিক দূরত্ব রক্ষা করতে পারছেন না। এ মুহূর্তে আক্রান্তদের মধ্যে বেশিরভাগই পুলিশ সদস্য রাজারবাগ পুলিশ লাইনসের ব্যারাকে বসবাস করতেন। সেখানে সামাজিক দূরত্ব মেনে চলার মতো পরিস্থিতি নেই।

রাজারবাগ কেন্দ্রীয় পুলিশ হাসপাতালের পুলিশ সুপার ডা. এমদাদুল হক ঢাকা ট্রিবিউনকে বলেন, “মাঠ পর্যায়ে পুলিশ সদস্যরা সাধারণ মানুষের মধ্যে সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিতে কাজ করায় তাদের ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি। একজন ফিল্ড পুলিশের জন্য বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নিদের্শনা অনুযায়ী প্রতিটি সুরক্ষা সরঞ্জামাদি নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি।“

এক পুলিশ সদস্য করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ায় ইতোমধ্যে গাজীপুরের কালীগঞ্জ পুলিশ স্টেশন লকডাউন করা হয়েছে। গাজীপুরের একজন পুলিশ কর্মকর্তা জানান, কালীগঞ্জ থানাটি নারায়ণগঞ্জের সীমান্তবর্তী। যেসব পুলিশ সদস্য আক্রান্ত হয়েছেন তারা নারায়ণগঞ্জ সীমান্তবর্তী রাস্তায় চেকপোস্টের দায়িত্ব পালন করছিলেন। কিন্তু তাদের কাছে পর্যাপ্ত সুরক্ষা সরঞ্জামাদি ছিল না। এরপর জেলা পুলিশের পক্ষ খেকে সীমিত সরঞ্জামাদি সরবরাহ করায় বর্তমানে সীমিত সংখ্যক পুলিশ সদস্য মাঠে সক্রিয় রয়েছেন।

ওই পুলিশ কর্মকর্তা জানান, বাহিনীর সুরক্ষার জন্য সরঞ্জামাদির চেয়েও নিজস্ব ব্যবস্থাপনাকে জোর দেয়া হয়েছে। এর মধ্যে ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজির নির্দেশে পুলিশকে চার ফোর্সে ভাগ করা হয়। একেকটি স্তরকে একেক ধাপে ডিউটি দেয়া হচ্ছে। তাদের মেস, খাবার আলাদা। এজন্য কিছু বাড়ি ভাড়া নেয়া হয়েছে। আবার যারা পুলিশ লাইনে ডিউটি করবে তারা সম্পূর্ণ আলাদা থাকবে সবসময়।

জীবানুনাশক টানেল। ঢাকা ট্রিবিউন

কেন্দ্রীয় পুলিশ হাসপাতালের পুলিশ সুপার ডা. এমদাদুল হক বলেন, “অনেকেই ধারণা করছে কম দূরত্বে হলেও করোনাভাইরাস বাতাসে ভেসে বেড়ায়। তাই মাঠ ডিউটিতে পুলিশ সদস্যদের নিজেদের মধ্যেও সামাজিক দূরত্ব রাখতে হবে। মাঠে কর্তব্যরতদেও সহ ট্রাফিক পুলিশকে সুরক্ষিত রাখা জরুরি।“

এ ব্যাপারে ঢাকা মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (ট্রাফিক) মফিজ উদ্দিন আহমেদ বলেন, “আমাদের আইজিপি স্যার কমিশনার স্যারকে ইতোমধ্যে বলেছেন কিভাবে ট্রাফিক পুলিশের ডিউটি কমিয়ে আনা যায়। সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করা যায়। আমরা সেভাবেই তাদের ডিউটির ব্যবস্থা করিয়েছি। কিভাবে তাদের আবাসন ব্যবস্থায় সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করা যায় সেসব উদ্যোগ নিয়েছি।“

মাঠ পুলিশের অনেক সদস্য জানান, ঢাকার বাইরেও করোনাভাইরাস পরীক্ষায় জটিলতা রয়েছে। আবার বেশিরভাগ পুলিশ কনস্টেবলদের নিজস্ব পরিবহন ব্যবস্থা নেই। তারা আগের মতোই একসঙ্গে অনেকে চলাফেরা করতে বাধ্য হচ্ছেন।

রংপুর বিভাগের একজন পুলিশ কর্মকর্তা জানান, “পিপিই সঙ্কটে শুরু থেকেই আমরা মাঠ সদস্যদের রেইনকোট ব্যবহারের মাধ্যমে সেলফ প্রোটেকশনের নির্দেশ দিয়েছি। এখন পুলিশ বাহিনী থেকে কিছু পিপিই পেয়েছি। পাশাপাশি ব্যক্তিগতভাবে পিপিই সংগ্রহ করা হয়েছে। পুলিশের স্বাস্থ্য সুরক্ষার বিষয়ের পাশাপাশি চিকিৎসা সুরক্ষা নিয়েও ভাবা উচিত।“

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) সাবেক উপাচার্য ডা. নজরুল ইসলাম বলেন, “এই মুহুর্তে পুলিশ সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত হচ্ছে। কারণ তারা সাধারণ মানুষের মাঝে গিয়ে সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিতে কাজ করে থাকে। তাই সবার আগে তাদের নিজেদের মধ্যেও সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করতে হবে। জীবন-যাপন, পুষ্টিকর খাবার গ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে। নয়তো আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় বিঘ্ন ঘটতে পারে।

পুলিশ সদর দপ্তরের ডিআইজি (মিডিয়া ও পরিকল্পনা) এস এম রুহুল আমিন বলেন, “পুলিশ সদস্যরা আগে নিজস্ব সুরক্ষা নিবে। এরপর দায়িত্ব পালন করবে। যারা আক্রান্ত হবে কেন্দ্রীয়ভাবে ও বিভাগীয় হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। প্রয়োজনে হাসপাতাল আরও বাড়ানো হবে। মাঠ পুলিশ সদস্যদের শরীরে ইমুইনিটি বাড়ানোর চেষ্টা করছি। এজন্য তাদের মধ্যে ভিটামিন সি, ডি ও জিঙ্ক ট্যাবলেট সরবরাহ করা হচ্ছে।“

পিপিই সহ সুরক্ষা সামগ্রী সঙ্কট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “এগুলো কিনতে বা তৈরি করতে সময় লাগে। অনেকে নিজ উদ্যোগে সংগ্রহ করছে। যারা ফ্রন্টলাইনে আছে আমরা এ মুহূর্তে তাদের দেয়ার চেষ্টা করছি।“

108
50
blogger sharing button blogger
buffer sharing button buffer
diaspora sharing button diaspora
digg sharing button digg
douban sharing button douban
email sharing button email
evernote sharing button evernote
flipboard sharing button flipboard
pocket sharing button getpocket
github sharing button github
gmail sharing button gmail
googlebookmarks sharing button googlebookmarks
hackernews sharing button hackernews
instapaper sharing button instapaper
line sharing button line
linkedin sharing button linkedin
livejournal sharing button livejournal
mailru sharing button mailru
medium sharing button medium
meneame sharing button meneame
messenger sharing button messenger
odnoklassniki sharing button odnoklassniki
pinterest sharing button pinterest
print sharing button print
qzone sharing button qzone
reddit sharing button reddit
refind sharing button refind
renren sharing button renren
skype sharing button skype
snapchat sharing button snapchat
surfingbird sharing button surfingbird
telegram sharing button telegram
tumblr sharing button tumblr
twitter sharing button twitter
vk sharing button vk
wechat sharing button wechat
weibo sharing button weibo
whatsapp sharing button whatsapp
wordpress sharing button wordpress
xing sharing button xing
yahoomail sharing button yahoomail