• বৃহস্পতিবার, জুলাই ০২, ২০২০
  • সর্বশেষ আপডেট : ০৯:৪৩ রাত

খাবারের সাথে বিষ মিশিয়ে ১৫টি বানর হত্যা!

  • প্রকাশিত ০৯:৩৮ রাত মে ৬, ২০২০
মাদারীপুর-বানর-বন্যপ্রাণী
বিষ মাখানো খাবার খেয়ে মারা যাওয়া বানর মাটিচাপা দেওয়ার জন্য গর্ত খুড়ছে এক যুবক। ঢাকা ট্রিবিউন

খাবার খেয়ে মুহুর্তেই বানরগুলোর মুখ দিয়ে রক্ত বের হতে থাকে। কিছু সময়ের মধ্যেই ছটফট করে মাটিতে ঢলে পড়ে বেশ কয়েকটি বানর। বিষক্রিয়ার কয়েকটি বানর এদিক-ওদিক চলে যায়। ঘটনাস্থলে পড়ে থাকে ১৫টি বানরের মৃতদেহ

মাদারীপুরে খাবারের সাথে বিষ মিশিয়ে ১৫টি বানরকে হত্যা করা হয়েছে। মঙ্গলবার (০৫ মে) বিকেলে মাদারীপুর পৌরসভার ৯নং ওয়ার্ড এলাকার মধ্যখাগদি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। 

বুধবার (০৬ মে) সকালে সদর থানায় এ বিষয়ে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছে বন বিভাগ। অন্যদিকে, মৃত বানরগুলো উদ্ধার করে সুরতহাল শেষে ময়না তদন্তের জন্য মাদারীপুর সদর হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করেছে পুলিশ। 

এলাকাবাসী জানায়, বিকেলে ওই এলাকায় অপরিচিত বেশ কয়েকজন যুবক কলা, মুড়ি, চিড়া খাবার হিসেবে বানরদের খেতে দিয়ে চলে যায়। খাবার খেয়ে মুহুর্তেই বানরগুলোর মুখ দিয়ে রক্ত বের হতে থাকে। কিছু সময়ের মধ্যেই ছটফট করে মাটিতে ঢলে পড়ে বেশ কয়েকটি বানর। বিষক্রিয়ার কয়েকটি বানর এদিক-ওদিক চলে যায়। ঘটনাস্থলে পড়ে থাকে ১৫টি বানরের মৃতদেহ।

খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন বন বিভাগের কর্মকর্তারা। এ ঘটনায় সদর থানায় অভিযোগ দিয়েছে সামাজিক বন বিভাগ। চরমুগরিয়া এলাকায় প্রায় আড়াই হাজার বানরের বসবাস। বানরগুলো খাবার সংকটে এখন বিভিন্ন এলাকায় ছড়িয়ে ছিটিয়ে মূল শহরেও ঢুকে পড়েছে। দীর্ঘদিন ধরে বানরের খাবার সংকট চলমান থাকার পর ৩ মাস আগে ৭৬ দিনের একটি কর্মসূচি চালু করে সরকার। যা চলতি সপ্তাহে শেষ হয়েছে। 


আরও পড়ুন - মৌলভীবাজারে ‘আদালত’ বসিয়ে বানর হত্যা! 


স্থানীয়রা আরও জানান, খাবারের সংকট দেখা দেওয়ায় বানরগুলো দলে দলে ভাগ হয়ে লোকলয়ে বসবাস শুরু করে। এর মধ্যে কিছু বানরকে স্থানীয়রা স্বেচ্ছায় সকাল-বিকেল খাবার দেয়। তবে কিছু বানর খাবার না পেয়ে গ্রামের লোকজনের বাড়িতে প্রায়ই হানা দেয়। কখনো কখনো ঘরে ভিতরে প্রবেশ করে খাবার ছিনিয়ে খায়। 

মধ্যখাগদী এলাকার অপু হাওলাদার বলেন, বানর আমাদের বাড়িতেও জ্বালায়। উৎপাত সহ্য করতে না পেরে কখনো ইট-পাটকেল ছুঁড়ে মারি। আবার ঘর থেকে খাবার এনে ওদের খাওয়াই। কিন্তু বানরগুলোকে কেউ বিষ খাইয়ে একবারে মেরে ফেলতে পারে তা ভাবতেই কষ্ট হচ্ছে।

ইয়ারসিন হোসেন নামে এক তরুণ বলেন, যখন বানরগুলোকে বাঁচাতে ওদের মুখে পানি দেই তখন আমাদেরই চোখে পানি চলে আসে। আমরা বানরগুলোকে বাঁচাতে পৌরসভা ও বন বিভাগকে জানাই। কিন্তু তারা অনেক দেরি করে এখানে আসে। আর তখন ১৫টি বানর মরে যায়। সন্ধ্যার পরে আমরা ১১টি বানরকে মাটি চাপা দেই। এখনো অনেক বানর আছে যারা ওই খাবার খেয়ে অসুস্থ অবস্থায় বিভিন্ন স্থানে পড়ে রয়েছে। যারা বানরের সাথে এমন নিষ্ঠুর কাজটি করেছে আমরা তাদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানাই।

মাদারীপুর পরিবেশবাদী সংগঠন “ফ্রেন্ডস অব নেচার”-এর প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক রাজন মাহমুদ বলেন, “বিষ প্রয়োগে ১৫টি বন্যপ্রাণী মেরে ফেলা অত্যন্ত দুঃখজনক এবং দণ্ডনীয় অপরাধ। পরিবেশ ধ্বংস করার জন্য কিছু দুষ্ট প্রকৃতির মানুষ এখনো তৎপর। অপরাধীদের খুঁজে বের করে আইনের আওতায় আনার জন্য আমি কর্তৃপক্ষের কাছে দাবি জানাচ্ছি।” 


আরও পড়ুন - পদ্মা সেতুর চীনা শ্রমিকদের জন্য নিয়ে যাওয়া হচ্ছিলো সজারু


মাদারীপুর সামাজিক বন বিভাগের দায়িত্বরত কর্মকর্তা ইদ্রিস মিয়া বলেন, “মাদারীপুর চরমুগরিয়ায় দুই থেকে আড়াই হাজার বানর বসবাস করে। বন বিভাগের পক্ষ থেকে নিয়মিত বানরগুলোকে খাবারও দেওয়া হয়। কিন্তু মঙ্গলবার বিকেলে ওই এলাকার ১৫টি বানর মারা গেছে। তার মধ্যে স্থানীয়রা ১১টি বানরকে মাটি দিলেও নমুনা হিসেবে পরীক্ষার জন্য একটি বানরকে প্রাণী সম্পদ অফিসে নিয়ে আসা হয়েছে। এদিকে এ ঘটনায় থানায় অভিযোগ দেওয়া হয়েছে।”

মাদারীপুর সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. কামরুল ইসলাম মিঞা বলেন, “বানার মারার কথা শুনে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে বানরগুলো উদ্ধার করে সুরাতহাল শেষে ময়না তদন্তের জন্য হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ বিষয়ে বন বিভাগ থেকে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছে। বানর মারা যাওয়ার ঘটনাটি আমরা তদন্ত করে দেখছি। বানর মারার সাথে জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়ার সাথে সাথেই তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেব।”


আরও পড়ুন - বাঘের সংখ্যা দ্বিগুণ করতে বাংলাদেশ কি ব্যর্থ হতে যাচ্ছে?


জেলা ভারপ্রাপ্ত বন কর্মকর্তা তাপস কুমার সেনগুপ্ত বলেন, “আমরা আজও বিকেলে বানরদের খাবার দিয়েছি। গত তিন মাস ধরে খাবার দেওয়া হচ্ছে। খাবারের কোনো সমস্যা নেই। কিন্তু যারা বিষ প্রয়োগ করে বানরগুলোকে মেরেছে তারা জঘন্যতম অপরাধ করেছে। রাতে আমাদের বন বিভাগের লোক ঘটনাস্থল পরিদর্শনে গেছেন। যা এ কাজটি করেছে তাদের বিরুদ্ধে আমরা আইনি ব্যবস্থা নিব। এছাড়া আমি বিষয়টি স্থানীয় এমপি শাজাহান খান, জেলা প্রশাসকসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে অবগত করেছি।”

এ বিষয়ে বাংলাদেশ বন বিভাগের বন্যপ্রাণী অপরাধ দমন ইউনিটের পরিচালক জহির আকন ঢাকা ট্রিবিউনকে বলেন, এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সাথে কথা বলেছি। তারা জানিয়েছেন, বন্যপ্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) আইন, ২০১২ অনুযায়ী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন, তারা মাঠে কাজ করে যাচ্ছেন। আমি এই ন্যাক্কারজনক ঘটনায় বন্যপ্রাণী অপরাধ দমন ইউনিটের পক্ষ থেকে নিন্দা জানাচ্ছি এবং অপরাধীদের আইনানুগ চরম শাস্তির ব্যবস্থা করা হবে এ প্রত্যাশা করছি।”


আরও পড়ুন - শকুন সংরক্ষণে বাংলাদেশ, কী করছে সরকার?


55
50
blogger sharing button blogger
buffer sharing button buffer
diaspora sharing button diaspora
digg sharing button digg
douban sharing button douban
email sharing button email
evernote sharing button evernote
flipboard sharing button flipboard
pocket sharing button getpocket
github sharing button github
gmail sharing button gmail
googlebookmarks sharing button googlebookmarks
hackernews sharing button hackernews
instapaper sharing button instapaper
line sharing button line
linkedin sharing button linkedin
livejournal sharing button livejournal
mailru sharing button mailru
medium sharing button medium
meneame sharing button meneame
messenger sharing button messenger
odnoklassniki sharing button odnoklassniki
pinterest sharing button pinterest
print sharing button print
qzone sharing button qzone
reddit sharing button reddit
refind sharing button refind
renren sharing button renren
skype sharing button skype
snapchat sharing button snapchat
surfingbird sharing button surfingbird
telegram sharing button telegram
tumblr sharing button tumblr
twitter sharing button twitter
vk sharing button vk
wechat sharing button wechat
weibo sharing button weibo
whatsapp sharing button whatsapp
wordpress sharing button wordpress
xing sharing button xing
yahoomail sharing button yahoomail