• শনিবার, আগস্ট ১৫, ২০২০
  • সর্বশেষ আপডেট : ০২:১৪ দুপুর

করোনাভাইরাস: বাংলাদেশে প্রাকৃতিক হার্ড ইমিউনিটি অর্জন কতোটা কার্যকর হবে

  • প্রকাশিত ০৯:৪৫ রাত মে ১৭, ২০২০
করোনাভাইরাস
করোনাভাইরাসের সংক্রমণের আতঙ্কে রাজধানীতে অনেকেই মাস্ক ব্যবহার করছেন। সৈয়দ জাকির হোসেন/ঢাকা ট্রিবিউন

পরিচয় না প্রকাশের শর্তে একজন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ঢাকা ট্রিবিউনকে বলেন, বাংলাদেশ যদি প্রাকৃতিক হার্ড ইমিউনিটির দিকে যায় তাহলে যে কোনো সময়ে দেশের পুরো স্বাস্থ্য ব্যবস্থা ভেঙে পড়বে

বিশ্বজুড়েই চলছে করোনাভাইরাস মহামারি। প্রতিদিন আক্রান্ত হচ্ছেন হাজার হাজার মানুষ। বাংলাদেশেও দৈনিক আক্রান্তের সংখ্যা হাজার ছাড়িয়েছে। দুর্যোগপূর্ণ এমন পরিস্থির মধ্যে এখনও আবিষ্কৃত হয়নি পরীক্ষিত কোনো ভ্যাক্সিন। এক্ষেত্রে অনেক বিশেষজ্ঞই বলছেন করোনাভাইরাস মোকাবিলায় প্রাকৃতিক হার্ড ইমিউনিটির কথা।  

কোনো একটা জনগোষ্ঠীর অন্তত ৮০ শতাংশ মানুষের শরীরে কোনো রোগের বিরুদ্ধে অ্যান্টিবডি তৈরি হলে সেই জনপদে সেই রোগটি আর মানুষকে আক্রান্ত করতে পারে না। একে হার্ড ইমিউনিটি বলে।  দুইভাবে হার্ড ইমিউনিটি নিশ্চিত করা যায়। এক-বিপুল জনগোষ্ঠীকে টিকা দিয়ে। অথবা বিশাল সংখ্যক মানুষ আক্রান্ত হওয়ার পর তাদের শরীরে অ্যান্টিবডি তৈরি হয়ে, যাকে প্রাকৃতিক হার্ড ইমিউনিটি বলে। 

তবে বাংলাদেশের ক্ষেত্রে প্রাকৃতিক হার্ড ইমিউনিটি কতটুকু কার্যকর হতে পারে তা নিয়ে রয়েছে প্রশ্ন। কারণ, এ উপায়ে করোনাভাইরাস মোকাবিলায় দেশের একটি বড় সংখ্যক মানুষকে ভাইরাসতিতে আক্রান্ত হতে হবে। সেক্ষেত্রে আক্রান্তদের মধ্যে অনেকেরই মৃত্যুর সম্ভাবনা থাকবে, দেশের জনসংখ্যার ঘনত্বের বিবেচনায় যার পরিমাণটা হবে ভয়াবহ।   

এ বিষয়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) অধ্যাপক ডা. নজরুল ইসলাম ঢাকা ট্রিবিউনকে বলেন, “দুই উপায়ে হার্ড ইমিউনিটি অর্জন করা যেতে পারে, হয় প্রাকৃতিকভাবে অথবা ভ্যাক্সিনের মাধ্যমে। প্রাকৃতিক উপায়ে হার্ড ইমিউনিটি পেতে হলে স্বাস্থ্যগত বিপর্যয় নেমে আসবে, যেখানে বিশাল সংখ্যক মানুষ করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হবে এবং তাদের অনেকেই মারা যাবে। তবে ভাইরাসটির ভ্যাক্সিন আবিষ্কার হলে সেটি কৃত্রিম পদ্ধতিতে হার্ড ইমিউনিটি অর্জনে সহায়তা করবে।”

এই চিকিৎসক আরও জানান, পুরোপুরিভাবে লকডাউন নিশ্চিত করা হয়নি করোনাভাইরাস আক্রান্ত এমন অনেক জায়গার লোকজন ভ্যাক্সিনের অভাবে সীমিত আকারে প্রাকৃতিক হার্ড ইমিউনিটি অর্জন করেছেন।  

তিনি বলেন, সবকিছু যদি খুলে দেওয়া হয় এবং লোকজন সামাজিক দূরত্বের বিষয়গুলো না মেনে চলে তাহলে সংক্রমণের পরিমাণ বেড়েই যাবে। তাই ঢাকার স্বাভাবিক কার্যক্রম আগের মতো ফিরিয়ে আনতে সব খুলে দেওয়ার সিদ্ধান্তের আগে সরকারকে যথাযথ কৌশল অবলম্বন করতে হবে এবং লোকজনকে স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ অনুযায়ী পূর্বসতর্কতামূলক ব্যবস্থা নিতে হবে। 

অধ্যাপক ডা. নজরুল ইসলাম বলেন, ঢাকা শহরে সবচেয়ে বেশি করোনাভাইরাস আক্রান্ত রোগী রয়েছে। তাই লকডাউন তুলে নেওয়ার আগে নীতি নির্ধারকদের খুব সচেতন হতে হবে। লকডাউন কীভাবে কার্যকর করা যায়, সেক্ষেত্রে মিরপুরের টোলারবাগ ভালো উদাহরণ হতে পারে।  

বিশ্বে বর্তমান জনসংখ্যা ও এর ঘনত্ব অনুযায়ী ২০২০ সালে এসে স্বাস্থ্য বিপর্যয় ছাড়া প্রাকৃতিক উপায়ে হার্ড ইমিউনিটি অর্জন সম্ভব না বলে জানিয়েছেন জন্স হপকিনস ব্লুমবার্গ স্কুল অব পাবলিক হেলথের দুই বিশেষজ্ঞ-জিপসিয়ামবার ডিসুজা ও ডেভিড ডউডি।  

তারা বলেন, করোনাভাইরাসে হার্ড ইমিউনিটি পেতে হলে ৭০ শতাংশ বা এর বেশি সংখ্যক মানুষকে এই ভাইরাসের বিরুদ্ধে ইমিউনিটি পেতে হবে। ভ্যাক্সিন ছাড়া প্রাকৃতিকভাবে এটি চাইলে যুক্তরাষ্ট্রের ২০ কোটির বেশি মানুষকে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হতে হবে, যা বিপর্যয় ডেকে আনবে। 

এদিকে ভ্যাক্সিন আবিষ্কার হলেও সবাইকে এই ভাইরাসটি থেকে সচেতন থাকতে হবে বলে জানিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডাব্লিউএইচও)। সংস্থাটির বিশেষজ্ঞ মাইক রেয়ান বৃহস্পতিবার এক অনলাইন ব্রিফিংয়ে বলেন, ভ্যাক্সিন আবিষ্কারের পরও হয়তো করোনাভাইরাস যাবে। অন্য অনেক রোগেরই ভ্যাক্সিন রয়েছে, যেমন-হাম। তবে বিশ্ব এখনো পুরোপুরি হাম মুক্ত হয়নি। 

ইউরোপের দেশগুলোর মধ্যে প্রাকৃতিক হার্ড ইমিউনিটির পথে হাঁটছে সুইডেন। দেশটিতে স্কুল, জিম ও রেস্টুরেন্টগুলো খোলা রেখে লোকজনকে সামাজিক দূরত্ব ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার নির্দেশ দিয়েছে সরকার। দেশটির এমন পদক্ষেপ সারা বিশ্বেই সমালোচিত হয়েছে। বিতর্কের পরও করোনাভাইরাস মোকাবিলায় তুলনামূলক ভালো অবস্থানে রয়েছে সুইডেন। শনিবার পর্যন্ত দেশটিতে ভাইরাসতিতে আক্রান্ত হয়েছে ২৯ হাজার ৬৭৭ জন। এর মধ্যে মারা গেছে ৩ হাজার ৬৭৪ জন। 

তবে সুইডেনের এই পদ্ধতি বাংলাদেশের ক্ষেত্রে কতোটুকু কার্যকর তা জানিয়েছেন কানাডার অ্যালবের্টা প্রদেশের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের নীতি নির্ধারক ডা. শাহরিয়ায় রোজেন। তিনি বাংলাদেশের আইসিডিডিআরবি’র গবেষক হিসেবেও কাজ করেছেন। 

ডা. শাহরিয়ায় বলেন, বাংলাদেশের ক্ষেত্রে করোনাভাইরাস রোধে সুইডেনের পদ্ধতি কয়েকটি কারণে ফলপ্রসু হবে না। কারণ, অনেক দেশের মতোই সুইডেনে স্বাস্থ্যবিধিগুলো কঠোরভাবে মেনে চলা হয় এবং দেশটির জনসংখ্যার ঘনত্বও বাংলাদেশের চেয়ে অনেক কম। আর সুইডেনের ১ কোটি ২৩ লাখ জনসংখ্যার বিপরীতে পর্যাপ্ত এবং উন্নতমানের স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থা রয়েছে, যা বাংলাদেশে নেই।

পরিচয় না প্রকাশের শর্তে একজন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ঢাকা ট্রিবিউনকে বলেন, বাংলাদেশ যদি প্রাকৃতিক হার্ড ইমিউনিটির দিকে যায় তাহলে যে কোনো সময়ে দেশের পুরো স্বাস্থ্য ব্যবস্থা ভেঙে পড়বে। যদিও বাংলাদেশে করোনাভাইরাসে মৃত্যূর হার কম, তারপরও যারা মারা যাবে তাদের পরিবারের লোকজন এর কষ্টটা ভোগ করবে।

105
50
blogger sharing button blogger
buffer sharing button buffer
diaspora sharing button diaspora
digg sharing button digg
douban sharing button douban
email sharing button email
evernote sharing button evernote
flipboard sharing button flipboard
pocket sharing button getpocket
github sharing button github
gmail sharing button gmail
googlebookmarks sharing button googlebookmarks
hackernews sharing button hackernews
instapaper sharing button instapaper
line sharing button line
linkedin sharing button linkedin
livejournal sharing button livejournal
mailru sharing button mailru
medium sharing button medium
meneame sharing button meneame
messenger sharing button messenger
odnoklassniki sharing button odnoklassniki
pinterest sharing button pinterest
print sharing button print
qzone sharing button qzone
reddit sharing button reddit
refind sharing button refind
renren sharing button renren
skype sharing button skype
snapchat sharing button snapchat
surfingbird sharing button surfingbird
telegram sharing button telegram
tumblr sharing button tumblr
twitter sharing button twitter
vk sharing button vk
wechat sharing button wechat
weibo sharing button weibo
whatsapp sharing button whatsapp
wordpress sharing button wordpress
xing sharing button xing
yahoomail sharing button yahoomail