• রবিবার, সেপ্টেম্বর ২৭, ২০২০
  • সর্বশেষ আপডেট : ১১:৫০ রাত

১১ বছরেও শুকায়নি আইলার ক্ষত, এবার আম্ফানের আতঙ্কে কয়রাবাসী

  • প্রকাশিত ০৪:৩১ বিকেল মে ২০, ২০২০
আইলা-ঘূর্ণিঝড়
আইলায় বিধ্বস্ত একটি বাড়ি। ঢাকা ট্রিবিউন

‘চরম আতঙ্কের মধ্যে আছি। সত্যি সত্যি যদি ঘূর্ণিঝড় আসে, তবে আবারও আমাদের সব শেষ হয়ে যাবে’


২০০৯ সালের ২৫ মে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিম উপকূলীয় জনপদে আঘাত হেনেছিল সর্বনাশা ঘূর্ণিঝড় “আইলা”। মুহুর্তেই লণ্ডভণ্ড হয়ে যায় উপকূলবর্তী বিস্তীর্ণ এলাকা। মানুষ, গবাদিপশুর মৃতদেহ, ভাঙা বাড়িঘর আর ভেঙে যাওয়া গাছপালায় যেন নরক নেমে আসে। 

আইলার আঘাতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছিল খুলনার কয়রা অঞ্চল। ঘূর্ণিঝড়ের ১১ বছর পেরিয়ে গেছে, অথচ এখনও খাবার পানির জন্য কয়রাবাসীকে ছুটতে হয় মাইলের পর মাইল। মেরামত হয়নি বেশিরভাগ রাস্তাঘাট-বেড়িবাঁধ, আজও নেই চিকিৎসার সুব্যবস্থা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ধর্মীয় উপাসনালয়ের ভগ্নদশা। সব মিলিয়ে কয়রার সর্বত্রই এখনও রয়ে গেছে আইলার দংশনের চিহ্ন। 

আইলার ক্ষয়ক্ষতি এখনও কাটিয়ে উঠতে না উঠতেই গত বছরের ৯ নভেম্বর ঘূর্ণিঝড় বুলবুল ব্যাপক ক্ষতি করে কয়রা অঞ্চল। আইলার মতো মে মাসেই ধেয়ে আসছে সুপার সাইক্লোন “আম্ফান”।  

আম্ফানের প্রভাবে উপকূলীয় উপজেলা কয়রা, দাকোপসহ খুলনা শহরে বৈরী আবহাওয়া বিরাজ করেছে। মঙ্গলবার (১৯ মে) দুপুর থেকে থেমে থেমে মাঝারি বৃষ্টিপাত শুরু হয়। এর প্রভাবে স্বাভাবিক জোয়ারের চেয়ে নদীর পানি কিছুটা বৃদ্ধি পায়। এর ফলে ঝুঁকিপূর্ণ বেড়ীবাঁধ নিয়ে আতংকে রয়েছেন উপজেলার বাসিন্দারা।


আরও পড়ুন - আইলাবিধ্বস্ত বেড়িবাঁধ ‘জোড়াতালি দিয়ে সংস্কার’


আবহাওয়া অফিসের তথ্য মতে, ঘূর্ণিঝড় আম্ফানের কারণে বৃষ্টি অব্যাহত থাকবে এবং সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বাতাসের গতিবেগও বাড়বে।

কয়রার হরিণখোলার স্থানীয়রা জানিয়েছেন, গ্রামটির মানুষ খুবই উৎকন্ঠায় রয়েছেন। তারা আশঙ্কা করছেন, ঘূর্ণিঝড় আম্ফান আঘাত হানলে গ্রামের সামনের ছোট্ট বেড়িবাঁধটি ভেঙে যেতে পারে। তাহলে লোনা পানিতে পুরো এলাকা ভেসে যাবে। একইসাথে তারা দড়ি দিয়ে শক্ত করে ঘর-বাড়ি বেঁধে রাখার চেষ্টা করছেন। অনেকে গরু –ছাগল নিয়ে নিরাপদ আশ্রয়ে যাচ্ছেন।

নামেমাত্র সংস্কার করা কাঁচা মাটির বাঁধটিই কয়রাবাসীর একমাত্র ভরসা। ইউএনবি

হরিণখোলা এলাকার আব্দুল হাকিম শেখ বলেন, চরম আতঙ্কের মধ্যে আছি। সত্যি সত্যি যদি ঘূর্ণিঝড় আসে, তবে আবারও আমাদের সব শেষ হয়ে যাবে।

হরিণখোলা এলাকাটি পানি উন্নয়ন বোর্ডে ১৩-১৪/২ পোল্ডারের আওতায়। ১১ বছর আগে ঘূর্ণিঝড় আইলায় এখানে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছিল। সে স্মৃতি এখনো মানুষের মনে গেঁথে আছে। তাই প্রতিটি মানুষ আতঙ্কের মধ্য আছেন। এছাড়া ঘূর্ণিঝড়ে ব্যাপক ক্ষয়-ক্ষতির আশঙ্কায় রয়েছেন দক্ষিণ বেদকাশি ইউনিয়নের আংটিহারা, খাসিটানা, জোড়শিং, মাটিয়াভাঙ্গ, উত্তর বেদকাশি ইউনিয়নের গাতিরঘেরি, গাববুনিয়া, গাজিপাড়া, কাটকাটা, কয়রা সদর ইউনিয়নের ৬নং কয়রা, ৪নং কয়রার পুরাতন লঞ্চঘাট সংলগ্ন এলাকা, মদিনাবাদ লঞ্চ ঘাট, ঘাটাখালি, হরিণখোলা, মহারাজপুর ইউনিয়নের উত্তর মঠবাড়ি, দশালিয়া, লোকা, মহেশ্বরীপুর ইউনিয়নের কালিবাড়ি, নয়ানি, শেখেরটেকের বেড়ীবাঁধ এলাকা।


আরও পড়ুন - ২০ বছরে আঘাত হানা ভয়ংকরতম ঘূর্ণিঝড় হতে পারে ‘আম্ফান’


কয়রার দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা নিয়ন্ত্রণ কক্ষের দায়িত্বরত কর্মকর্তা উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিসার মো. জাফর রানা বলেন, “অতীতে আমরা দেখেছি, যারা দুর্যোগের আশঙ্কার মধ্যে থাকেন, তাদের একটি অংশ নানা কারণে সাইক্লোন সেন্টারে যেতে চান না বা যান না। এবার উপজেলা প্রশাসন, পুলিশ এবং ভলান্টিয়ারদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে তাদেরকেও নিয়ে যাওয়ার জন্য।”

কয়রা উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শিমুল কুমার সাহা বলেন, “আম্ফানের ক্ষয়ক্ষতি মোকাবিলায় সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। উপজেলা প্রশাসন ও সিপিপিসহ বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের স্বেচ্ছাসেবকরা ঘূর্ণিঝড়ের বিষয়ে সতকর্তামূলক প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছে। ১২টি মেডিকেল টিম গঠন করা হয়েছে। কয়রা উপজেলা জুড়ে ১১৬টি সাইক্লোন সেল্টারসহ বিভিন্ন বিদ্যালয়ভবনসহ পাকা ও নিরাপদ স্থাপনা প্রস্তুত রাখা হয়েছে আশ্রয়ের জন্য। পাশাপাশি ৭টি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও থানা পুলিশদের নিয়ে আলাদা টিম গঠন করা হয়েছে। নিরাপদ পানি ও খাদ্য মজুত করা হয়েছে।

তিনি বলেন, “কয়রার আশ্রয়কেন্দ্র গুলোতে স্থানীয় বাসিন্দাদের সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।”


আরও পড়ুন - সুন্দরবন কী এবারও বাংলাদেশকে রক্ষা করবে?

51
50
blogger sharing button blogger
buffer sharing button buffer
diaspora sharing button diaspora
digg sharing button digg
douban sharing button douban
email sharing button email
evernote sharing button evernote
flipboard sharing button flipboard
pocket sharing button getpocket
github sharing button github
gmail sharing button gmail
googlebookmarks sharing button googlebookmarks
hackernews sharing button hackernews
instapaper sharing button instapaper
line sharing button line
linkedin sharing button linkedin
livejournal sharing button livejournal
mailru sharing button mailru
medium sharing button medium
meneame sharing button meneame
messenger sharing button messenger
odnoklassniki sharing button odnoklassniki
pinterest sharing button pinterest
print sharing button print
qzone sharing button qzone
reddit sharing button reddit
refind sharing button refind
renren sharing button renren
skype sharing button skype
snapchat sharing button snapchat
surfingbird sharing button surfingbird
telegram sharing button telegram
tumblr sharing button tumblr
twitter sharing button twitter
vk sharing button vk
wechat sharing button wechat
weibo sharing button weibo
whatsapp sharing button whatsapp
wordpress sharing button wordpress
xing sharing button xing
yahoomail sharing button yahoomail