সাংবাদিকদের সুমনের সাথে দেখা করার বিষয়টি সীমিত করা হয়েছে বলে মিটফোর্ড হাসপাতাল থেকে জানানো হয়েছে
সদরঘাটের কাছে বুড়িগঙ্গায় সম্প্রতি মর্মান্তিক লঞ্চ দুর্ঘটনা থেকে স্পষ্টতই “অলৌকিকভাবে” বেঁচে যাওয়া সুমন বেপারীকে শনিবার (৫ জুলাই) রাজধানীর মিটফোর্ড হাসপাতালের অন্য একটি অংশে খুঁজে পাওয়া গেছে। বুধবার তিনি হাসপাতাল থেকে পালিয়ে গেছেন বলে জানানো হয়েছিল।
তবে হাসপাতালে সুমনের সাথে থাকা তার ভাতিজা ফয়সাল আহমেদ শাকিব হাসপাতাল থেকে পালিয়ে যাওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করে দাবি করেন যে, তারা শুধুমাত্র ওই হাসপাতালের ভবন পরিবর্তন করেছেন।
এদিকে টঙ্গীবাড়ী উপজেলাধীন মুন্সিগঞ্জের আবদুল্লাপুর ইউনিয়নে সুমনের বাড়ির ঠিকানায় গিয়ে সামনে এসেছে একদমই ভিন্ন এক চিত্র।
সেখানকার ইউপি চেয়ারম্যান আবদুর রহিম বেপারী এবং সুমনের বড় ভাই শাহজাহানসহ অন্যান্য স্থানীয়রা বলছেন, সুমন সত্যিই বুধবার গ্রামে ফিরেছিলেন। বৃহস্পতিবার সারাদিনই গ্রামেই অবস্থান করেন সুমন। তবে পরের দিন “ঢাকা থেকে এক জরুরি ফোন কল” পেয়ে তিনি ফিরে গিয়ে শুক্রবার রাতে পুনরায় মিটফোর্ড হাসপাতালে ভর্তি হন বলে জানান তারা। তবে, সুমনকে কে কল করেছিল সেটি জানা যায়নি।
এদিকে সাংবাদিকদের সুমনের সাথে দেখা করার বিষয়টি সীমিত করা হয়েছে বলে মিটফোর্ড হাসপাতাল থেকে জানানো হয়। সুমনের সাথে দেখা করতে চাইলে মিটফোর্ড হাসপাতালের চিকিৎসক ডা. ইসহাক মজুমদার বলেন, “কোনো মিডিয়ার কেউ এখন সুমনের সাথে দেখা করতে পারবে না। কোনো চিকিৎসকও সুমনের অবস্থার বিষয়ে কথা বলতে পারবেন না।”
এই নির্দেশ খুব সম্প্রতি "উচ্চমহল" থেকে দেয়া হয়েছে বলেও ইউএনবিকে নিশ্চিত করেছেন ডা. মজুমদার। তিনি বলেন, “হাসপাতালে সুমনের সাথে দেখা করার বিষয়ে একটি নির্দিষ্ট গ্রুপের লোকদের ওপর নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। চিকিৎসক হিসেবে, আমাদেরও এ বিষয়ে বিবৃতি দেয়ার ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে।”
তবে ইউএনবি সুমনের ভাতিজা ফয়সাল আহমেদ শাকিবের সাথে ফোনে কথা বলতে সক্ষম হয়েছে। তিনি বলেন, তার চাচা কখনোই হাসপাতাল থেকে পালিয়ে যাননি। শাকিব বলেন, “আমরা পুরো সময়ই হাসপাতালে ছিলাম, তবে এখানকার দুই নম্বর বিল্ডিং থেকে তিন নম্বর ভবনে স্থানান্তরিত হয়েছি।”
যদিও মুন্সিগঞ্জের আবদুল্লাপুরে সুমনের গ্রামের বেশিরভাগ মানুষ দাবি করেছেন যে, বুধবার সুমন বাড়ি গিয়েছিল। তাদের মধ্যে একজন আবদুল্লাহপুর ইউপি চেয়ারম্যান আবদুর রহিম বেপারি বলেন, “সুমন কীভাবে ১৩ ঘণ্টা পানির নিচে বেঁচে ছিল, সে সম্পর্কে আল্লাহ ভালো জানেন।”
“বুধবার রাতে সুমন বাড়িতে ছিল। শুক্রবার ঢাকা ফিরে আবারও হাসপাতালে ভর্তি হয় সে,” যোগ করেন তিনি।
ইউপি চেয়ারম্যান আরও বলেন, “পুরো বিষয়টি একটি রহস্য। ১৩ ঘণ্টা পানির নিচে থাকার কোনো লক্ষণ সুমনের মধ্যে ছিল না।”
আবদুল্লাহপুরের উত্তর পাইকপাড়ার গ্যাস সিলিন্ডার বিক্রেতা আবু বকর মৃধা ইউএনবিকে বলেন, “সুমন বৃহস্পতিবার বাজারে এসেছিল এবং এখানে সবার সাথে কথা বলেছে।”
এদিকে “লঞ্চ দুর্ঘটনায় উদ্ধার নাটক মঞ্চস্থ করা হয়েছে” বলে গণমাধ্যমে যে অভিযোগ উঠেছে তা প্রত্যাখ্যান করেছেন বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) যুগ্ম পরিচালক একেএম আরিফ উদ্দিন এবং সদরঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রেজাউল করিম ভূঁইয়া।
তারা জানান, সুমন কীভাবে পানির নিচে ১৩ ঘণ্টা বেঁচে ছিলেন এ বিষয়ে তিনি নিজেই আরও ভালো বলতে পারবেন।
উল্লেখ্য, গত ৩০ জুন রাজধানীর পুরান ঢাকার শ্যামবাজারের কাছে “ময়ূর-২” নামক একটি লঞ্চের ধাক্কায় মুন্সীগঞ্জ থেকে আসা “এমএল মর্নিং বার্ড” নামে একটি লঞ্চ বুড়িগঙ্গা নদীতে ডুবে যায়। এই ঘটনায় ৩৩ জনের মৃত্যু হয়। ওই দিন রাত সাড়ে ১০টার দিকে সুমন ব্যাপারীকে লঞ্চ থেকে উদ্ধার করা হয় বলে জানানো হয়। উদ্ধারের পর থেকেই মিটফোর্ড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন তিনি।
তবে, দীর্ঘ ১৩ ঘণ্টা সুমন কীভাবে পানির নিচে বেঁচে ছিলেন তা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করে দেশের বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। পরে বুধবার তিনি হাসপাতাল থেকে পালিয়ে গেছেন বলে জানা যায়।
মতামত দিন