• মঙ্গলবার, আগস্ট ০৪, ২০২০
  • সর্বশেষ আপডেট : ১২:০২ দুপুর

ধর্মীয় বিদ্বেষ ও মানবিধকার লঙ্ঘনের ঘটনায় আর্টিকেল নাইনটিনের তীব্র নিন্দা

  • প্রকাশিত ০৯:০৭ রাত জুলাই ১২, ২০২০
আর্টিকেল নাইনটিন
সংগৃহীত

জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ এবং ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের সুরক্ষায় ও অবাধে তাদের ধর্ম পালনের অধিকার সুনিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় আহমদিয়া সম্প্রদায়ের এক নবজাতক শিশুর লাশ কবর থেকে তুলে রাস্তায় ফেলে দেওয়ার ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানিয়েছে আর্টিকেল নাইনটিন। এই ঘটনাকে ঘৃণাপ্রসূত ধর্মীয় বিদ্বেষ ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের এক ন্যাক্কারজনক নজির হিসেবে অভিহিত করেছে সংগঠনটি।

আন্তর্জাতিক এই মানবাধিকার সংস্থাটির মতে, “ভিন্ন মত ও দৃষ্টিভঙ্গির প্রতি ক্রমবর্ধমান অসহিষ্ণুতা ও দমন-পীড়নের যে সংস্কৃতি দেশে চলমান, কবর থেকে তিন দিনের শিশুর লাশ তুলে রাস্তায় ফেলে দেওয়া সেটির চূড়ান্ত ও নগ্ন বহি:প্রকাশ। কেবলমাত্র ভিন্ন মতাবলম্বী পরিবারে জন্মগ্রহণ করার “অপরাধে” উগ্রবাদী গোষ্ঠী কর্তৃক এক  নবজাতকের লাশকে “শাস্তি” দেওয়া এবং এই ঘটনার প্রেক্ষিতে আইন-শৃঙ্ক্ষলা রক্ষাকারী বাহিনী ও স্থানীয় প্রশাসনের নতজানু ভূমিকা- উভয়ই আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার বিপরীত প্রবণতা।”

তাই আর্টিকেল নাইনটিন কবর থেকে লাশ তুলে ফেলার ঘটনায় জড়িতদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে।

যুক্তরাজ্যভিত্তিক আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠনটি থেকে গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে সংস্থাটির বাংলাদেশ ও দক্ষিণ এশিয়ার আঞ্চলিক পরিচালক ফারুখ ফয়সল বলেন, “বাংলাদেশে গত কয়েক দশক ধরে বিভিন্ন জেলায় হামলা ও সামাজিক নিগ্রহের শিকার হয়ে আসছেন আহমদিয়া সম্প্রদায়ের লোকেরা। কেবল ভিন্নমতাবলম্বী হওয়ায় তাদের উপাসনালয় ও বাড়িঘর পর্যন্ত আক্রান্ত হচ্ছে। অথচ বাংলাদেশের সংবিধানের ২৮ অনুচ্ছেদে বলা আছে, ধর্মীয় পরিচয়ের কারণে রাষ্ট্র কারও সাথে বৈষম্য করবে না। আবার সংবিধানের ৪১ অনুচ্ছেদে প্রত্যেক নাগরিকের যে কোন ধর্ম অবলম্বন, পালন বা প্রচারের অধিকারও দেয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ যথাযথ ভূমিকা নিলে ধর্মীয় বিদ্বেষপ্রসূত এসব হামলা ও নির্যাতনের ঘটনা ঘটতো না।’’

ফয়সল আরও বলেন, “ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের সুরক্ষা ও ধর্মীয়বিশ্বাস প্রসূত ঘৃণা, বিদ্বেষ ও সহিংসতা মোকাবেলায় ২০১১ সালে জাতিসংঘের মানবাধিকার পরিষদে (১৬/১৮) ও সাধারণ অধিবেশনে (৬৬/১৬৭) দু’টি রেজ্যুলেশন সদস্য রাষ্ট্রগুলোর সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত হয়। আন্তর্জাতিক পরিসরে দেওয়া এই প্রতিশ্রুতি পালনের নৈতিক বাধ্যবাধকতা বাংলাদেশের রয়েছে। কাজেই আইন-শৃঙ্ক্ষলা রক্ষাকারী বাহিনী ও স্থাানীয় প্রশাসন এ ঘটনায় স্বপ্রণোদিত ব্যবস্থা গ্রহণের দায় কোনভাবেই এড়াতে পারে না। তাই কবর থেকে শিশুর লাশ তুলে ফেলার ঘটনায় জড়িতদের চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নিতে এবং ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের সুরক্ষা ও অবাধে তাদের মত তথা ধর্ম পালনের অধিকার সুনিশ্চিত করতে আর্টিকেল নাইনটিন। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানাই।”

প্রসঙ্গত, বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবর অনুযায়ী, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার স্থানীয় একটি হাসপাতালে গত ৭ জুলাই আহমদিয়া সম্প্রদায়য়ের এক মেয়ে শিশুর জন্ম হয়। নির্ধারিত সময়ের আগে ভূমিষ্ঠ হওয়ায় নানা জটিলতার কারণে গত ৯ জুলাই শিশুটি মারা যায়। ওইদিনই শিশুটির পরিবার সদর উপজেলার সুহিলপুর ইউনিয়নের ঘাটুরা গ্রামের সরকারি কবরস্থানে লাশ দাফন করে। কিন্তু স্থানীয় কিছু লোক ওই কবরস্থানে আহমদিয়াদের কাউকে দাফন করা যাবে না জানিয়ে এলাকায় মাইকিং করে এলাকায় লোক জমায়েত ঘটায়। পরে ওই নবজাতকের মরদেহ কবর থেকে তুলে কবরস্থানের বাইরের সড়কে ফেলে রাখে। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে আসা পুলিশ লাশ তোলার ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা  না নিয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরে আহমদিয়াদের জন্য নির্দিষ্ট কবরস্থানে শিশুর লাশ পুনরায় দাফনের ব্যবস্থা করে। এ ঘটনায় শনিবার পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট থানায় কেউ কোন আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের করেনি।

50
50
blogger sharing button blogger
buffer sharing button buffer
diaspora sharing button diaspora
digg sharing button digg
douban sharing button douban
email sharing button email
evernote sharing button evernote
flipboard sharing button flipboard
pocket sharing button getpocket
github sharing button github
gmail sharing button gmail
googlebookmarks sharing button googlebookmarks
hackernews sharing button hackernews
instapaper sharing button instapaper
line sharing button line
linkedin sharing button linkedin
livejournal sharing button livejournal
mailru sharing button mailru
medium sharing button medium
meneame sharing button meneame
messenger sharing button messenger
odnoklassniki sharing button odnoklassniki
pinterest sharing button pinterest
print sharing button print
qzone sharing button qzone
reddit sharing button reddit
refind sharing button refind
renren sharing button renren
skype sharing button skype
snapchat sharing button snapchat
surfingbird sharing button surfingbird
telegram sharing button telegram
tumblr sharing button tumblr
twitter sharing button twitter
vk sharing button vk
wechat sharing button wechat
weibo sharing button weibo
whatsapp sharing button whatsapp
wordpress sharing button wordpress
xing sharing button xing
yahoomail sharing button yahoomail