• শনিবার, জানুয়ারি ১৬, ২০২১
  • সর্বশেষ আপডেট : ১২:০২ দুপুর

হাউমাউ করে কাঁদলেন খাদ্য গুদাম কর্মকর্তা

  • প্রকাশিত ০৫:৩৭ সন্ধ্যা জুলাই ২২, ২০২০
গোপালগঞ্জ
গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী উপজেলার রামদিয়া খাদ্য গুদাম কর্মকর্তা মো. জাহাঙ্গীর আলম হাওলাদার। ঢাকা ট্রিবিউন

‘সরকারি খাদ্য গুদামে ধান দিতে ব্যর্থ হয়ে পিস্তল দেখিয়ে খাদ্য গুদাম কর্মকর্তাকে হত্যার হুমকি দেন কাশিয়ানী উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান খাজা নেওয়াজ ও তার লোকজন’

গোপালগঞ্জের কাশিয়ানীতে রাতের আঁধারে খাদ্য গুদাম কর্মকর্তাকে পিস্তলের দেখিয়ে গুদামে ধান সরবরাহের অপচেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। কাশিয়ানী উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান খাজা নেওয়াজ ও তার লোকজনের বিরুদ্ধে এ অভিযোগ করেছেন উপজেলার রামদিয়া খাদ্য গুদাম কর্মকর্তা মো. জাহাঙ্গীর আলম হাওলাদার। 

গত সোমবার (২০ জুলাই) দিবাগত রাত সাড়ে ১১টার দিকে কাশিয়ানী উপজেলার রামদিয়া সরকারি খাদ্য গুদামে এ ঘটনা ঘটেছে।

এ ঘটনার সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে ওই খাদ্য গুদামের নিরাপত্তা প্রহরী মশিউর রহমান মিথুনকে তাৎক্ষণিক রিলিজ করা হয়েছে। তার বাড়ি কাশিয়ানী উপজেলার ফললি গ্রামে। 

মঙ্গলবার (২১ জুলাই) উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে মৌখিক অভিযোগ করতে গিয়ে হাউমাউ করে কেঁদে ওঠেন ওই খাদ্য গুদাম কর্মকর্তা।

পরে উপজেলা নির্বাহী পরামর্শে খাদ্যগুদাম কর্মকর্তা মো. জাহাঙ্গীর আলম কাশিয়ানী থানায় একটি সাধারণ ডায়রি করেছেন। ঘটনার পর থেকে খাদ্য গুদামের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মাঝে চরম আতংক বিরাজ করছে।

খাদ্য গুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. জাহাঙ্গীর আলম হাওলাদার বলেন, “খাদ্য গুদামে সরকারিভাবে ধান-চাল সংগ্রহ অভিযান চলছে। কৃষি কার্ডধারী কৃষকের কাছ থেকে আমি প্রায় ৪০০ মেট্রিকটন ধান কিনেছি। আমার খাদ্য গুদামের নিরাপত্তা প্রহরী ও উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান খাজা নেওয়াজের ভাতিজা মশিউর রহমান মিথুন গুদামের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে নানা অভিযোগ তুলে আমার সাথে দুর্ব্যবহার ব্যবহার করে আসছিল। সোমবার (২০ জুলাই) বিকাল সাড়ে ৩টার দিকে মশিউর ৭-৮ জন বহিরাগত লোক নিয়ে খাদ্য গুদামে ঢুকে আমাকে বলেন- ‘আপনি কিভাবে ধান চাল সংগ্রহ করছেন। আপনি কি জানেন এখানে একজন নেতা আছে। যার কথায় এখানের লোকজন চলে। সে হলো আমার চাচা উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান খাজা নেওয়াজ’। এরপর রাত ১১টার দিকে নিরাপত্তা প্রহরীর সহযোগিতায় ভাইস চেয়ারম্যান খাজা নেওয়াজ পাঁচজন লোক নিয়ে খাদ্যগুদামে প্রবেশ করেন। আমাকে ও আমার অফিস সহকারি দেলোয়ার হোসেনকে মোবাইল ফোন করে ঘুম থেকে ডেকে অফিসে নিয়ে যান। আমাকে চেয়ারে বসিয়ে সবাই চারপাশে দাঁড়িয়ে ও বসে থাকে। এক পর্যায় ভাইস চেয়ারম্যান খাজা নেওয়াজ গুদামে ধান সরবরাহের জন্য আমার কাছে ২০০ বস্তা চান। আমি বলি কৃষি কার্ডের মাধ্যমে আমি ধান কিনছি। আপনি কৃষি কার্ডের মাধ্যমে আপনার এলাকার কৃষকের ধান দিতে পারেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে ভাইস চেয়ারম্যানের পাশে দাঁড়িয়ে থাকা এক সমর্থক কোমড় থেকে পিস্তল বের করে আমাকে দেখিয়ে বলে আমাদের কথা না শুনলে তোকে দুনিয়া থেকে বিদায় করে দেব। তোর মতো দু’চারটা ফেলে দিলে কিছুই হবে না। ওরা আমাকে মেরে ফেলবে, আমার জীবনের নিরাপত্তা নাই। আমি চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।”

কাশিয়ানী উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান খাজা নেওয়াজ বলেন, “অভিযোগের বিষয় আমি কিছুই জানি না। ওই গুদামে কি ঘটনা ঘটেছে তা আমার জানা নেই। তবে গুদামের নিরাপত্তা প্রহরীর সাথে ওই কর্মকর্তার বিরোধ রয়েছে। এটিকে কেন্দ্র করে কোনো ঘটনা ঘটলেও ঘটতে পাবে। ওই রাতে আমি খাদ্য গুদামে যাইনি। স্থানীয় কিছু লোক সিন্ডিকেট করে খাদ্য গুদামে ধান দিচ্ছিল। এ বিষয়ে কৃষকরা অভিযোগ করলে আমি এ অনিয়মের প্রতিবাদ করেছি মাত্র। আমি সেখানে কখনোই ধান দিতে যাইনি।”

কাশিয়ানী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাব্বির আহমেদ বলেন, “খাদ্য কর্মকর্তা আমার অফিসে এসে জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন। ঘটনার সাথে জড়িত নিরাপত্তা প্রহরী মশিউর রহমানকে বদলির জন্য ফোনে বলা হলে জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক তাকে স্ট্যান্ড রিলিজ করেন। ওই কর্মকর্তা আইনি সহায়তা চাইলে তাকে সহায়তা করা হবে।”

গোপালগঞ্জ জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মো. শেফাউর রহমানের মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও তার ফোন বন্ধ পাওয়া গেছে। ফলে কারণে তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।  

67
Facebook 50
blogger sharing button blogger
buffer sharing button buffer
diaspora sharing button diaspora
digg sharing button digg
douban sharing button douban
email sharing button email
evernote sharing button evernote
flipboard sharing button flipboard
pocket sharing button getpocket
github sharing button github
gmail sharing button gmail
googlebookmarks sharing button googlebookmarks
hackernews sharing button hackernews
instapaper sharing button instapaper
line sharing button line
linkedin sharing button linkedin
livejournal sharing button livejournal
mailru sharing button mailru
medium sharing button medium
meneame sharing button meneame
messenger sharing button messenger
odnoklassniki sharing button odnoklassniki
pinterest sharing button pinterest
print sharing button print
qzone sharing button qzone
reddit sharing button reddit
refind sharing button refind
renren sharing button renren
skype sharing button skype
snapchat sharing button snapchat
surfingbird sharing button surfingbird
telegram sharing button telegram
tumblr sharing button tumblr
twitter sharing button twitter
vk sharing button vk
wechat sharing button wechat
weibo sharing button weibo
whatsapp sharing button whatsapp
wordpress sharing button wordpress
xing sharing button xing
yahoomail sharing button yahoomail