• বৃহস্পতিবার, সেপ্টেম্বর ২৪, ২০২০
  • সর্বশেষ আপডেট : ০৪:২০ বিকেল

ধলা বালিহাঁস ডিম পাড়বে তাই...

  • প্রকাশিত ০৪:৪৩ বিকেল আগস্ট ১৪, ২০২০
বাইক্কা বিল-হাইল হাওর-বালিহাঁস-ধলা বালিহাঁস
ধলা বালিহাঁসের ডিম পাড়ার জন্য বাইক্কা বিল হাইল হাওরে নির্মিত কাঠের বক্স ঢাকা ট্রিবিউন

এবারও প্রজনন মৌসুমের শুরুতেই অন্তত ৬টি বাসায় ডিম পেড়েছে বালিহাঁস। একটি থেকে ইতোমধ্যে সবগুলো ছানা ফুটে বেরিয়ে পড়েছে হাওর অভিযানে

মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল উপজেলা শহর থেকে ১৫ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত মাছের অভয়াশ্রম বাইক্কা বিল হাইল হাওর। সেখানে মানুষের তৈরি কৃত্রিম কাঠের বক্সে ডিম থেকে ছানা ফুটছে ধলা বালিহাঁসের।

২০০৬ সাল থেকে বালিহাঁসের প্রাকৃতিক প্রজননস্থলের বিকল্প হিসেবে কৃত্রিম কাঠের বাসা তৈরি করে পরীক্ষামূলকভাবে ডিম থেকে ছানা ফোটানো হয়। এরপর থেকে প্রতিবছরই এসব বাসায় বালিহাঁস ডিম পাড়ছে। তা থেকে ছানা ফুটছে। ছানারা নিরাপদেই বড় হয়ে বিলের জলে নেমে পড়ছে। 

এবারও প্রজনন মৌসুমের শুরুতেই অন্তত ৬টি বাসায় ডিম পেড়েছে বালিহাঁস। একটি থেকে ইতোমধ্যে সবগুলো ছানা ফুটে বেরিয়ে পড়েছে হাওর অভিযানে।

বাইক্কাবিলে হাইল হাওরে পর্যবেক্ষণের দায়িত্বে রয়েছে বেসরকারি সংস্থা সেন্টার ফর ন্যাচারাল রিসোর্স স্টাডি (সিএনআরএস)।

প্রতিষ্ঠানটির শ্রীমঙ্গল অফিস সূত্রে জানা গেছে, বেসরকারি সংস্থা ম্যানেজমেন্ট অব অ্যাকুয়াটিক সিস্টেম থ্রো কমিউনিটি হাজবেনট্রি (ম্যাচ) প্রকল্পে পরীক্ষামূলক হাইল হাওরের বাইক্কাবিল এলাকায় ২০০৬ সালে প্রথম ১০ থেকে ২০ ফিট উঁচু ১০টি পাকা খুঁটির সঙ্গে ১০টি কাঠের বক্স স্থাপন করা হয়। এরপর থেকে এসব বক্সে বালিহাঁস বাসা বাঁধতে শুরু করে। প্রথমবার বালিহাঁসেরা ওইসব বক্সে আশ্রয় নেয়নি। তবে পরের বছর (২০০৭ সাল) প্রথম দেখা যায়, ৩-৪টি বাক্সে বালিহাঁস বাসা বেঁধে ডিম পেড়েছে এবং বাচ্চাও ফুটিয়েছে। বাচ্চাগুলো লাফিয়ে লাফিয়ে নেমে গেছে বিলের পানিতে।

বাইক্কা বিল হাইল হাওর। ছবি: ঢাকা ট্রিবিউন

সেই থেকে প্রজননের জন্য নিরাপদ আশ্রয় নিশ্চিত হওয়ায় প্রতিবছরই কিছু না কিছু কৃত্রিম কাঠের বাসায় বালিহাঁস ডিম দিয়ে আসছে। আর কৃত্রিম বাসায় বালিহাঁসের ডিম পাড়ার জন্য দেশের একমাত্র স্থান বাইক্কাবিল হাইল হাওর।

সিএনআরএস শ্রীমঙ্গলের সাইট অফিসার মো. মনিরুজ্জামান চৌধুরী ঢাকা ট্রিবিউনকে বলেন, বালিহাঁসের ডিম পাড়ার মৌসুম হচ্ছে জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর মাস। কখনও কখনও এরা অক্টোবর পর্যন্ত ডিম দেয়। প্রজনন মৌসুমের শুরু থেকে এ পর্যন্ত ৬টি কৃত্রিম বাসায় বালিহাঁসকে ডিম পাড়তে দেখা গেছে। এর মধ্যে একটি থেকে ছানা ফুটে বেরিয়ে গেছে। ১৫ দিন পর পর বাসাগুলো পর্যবেক্ষণ করা হয়। আবার বেশি পর্যবেক্ষণ করলে অনেক সময় ডিম ফোটানো ব্যাহত হয়। বালিহাঁসের বাসা এলাকায় প্রচুর সাপ গাছের পাতায় ঝুলে থাকে। তাই কাজটি ঝুঁকিপূর্ণও।

তিনি আরও বলেন, এখন খুঁটি আছে ৩০টির বেশি। এবার ২৮টি বক্স বসানো হয়েছে। তারমধ্যে ২৫টি কাঠের এবং ৩টি পাকা। এসব বক্সের ১৫টি পাকা খুঁটিতে, আর বাকিগুলো বসানো হয়েছে গাছের ডালে। এ বছর ২৫টি বক্সই নতুন করে বানানো হয়েছে। এতে খরচ হয়েছে ২৭ হাজার ৫০০ টাকা।

কাঠের বক্সে বালিহাঁসের ডিম। ছবি: ঢাকা ট্রিবিউনবাংলাদেশ বার্ড ক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা ও পাখি গবেষক ইনাম আল হক এ বিষয়ে বলেন, “শুধু বাংলাদেশ নয়, সম্ভবত বিশ্বের মধ্যে একমাত্র বাইক্কাবিল হাইল হাওরে বালিহাঁস কাঠের বাক্সে সফলভাবে প্রতিবছর ছানা তুলতে পারছে। ওদের ডিম পাড়ার জায়গায়ই নেই দেশে। পুরনো বড় গাছ, জলাশয় সংলগ্ন পুরাতন মঠ-মন্দির প্রভৃতির অভাবে প্রাণীটির প্রজনন বাধাগ্রস্ত। এজন্যই এখানে কাঠের বক্স পেয়ে ধলা-বালিহাঁস প্রতি বছর বর্ষামৌসুমে তার বংশবৃদ্ধি করে চলেছে।”

প্রসঙ্গত, ধলা-বালিহাঁসের জন্য কৃত্রিম কাঠের বাক্স হাকালুকি হাওরেও দেওয়া হয়েছিল। তবে সেখানে সাফল্য মেলেনি। সে তুলনায় ধারাবাহিকভাবে সফল একমাত্র বাইক্কা বিল হাইল হাওর। 

ইনাম আল হক বলেন, “ধলা-বালিহাঁসের সঙ্গে আকার-আকৃতি ও স্বভাবগত অনেকটা মিল আছে বলে এই কাঠের বক্সের ডিজাইনটা আমরা ‘আমেরিকান উড ডাক’-এর সঙ্গে তুলনা করি। কাঠের বক্স বানাতে ভুল করলে হাঁস ডিম পাড়বে, কিন্তু বাচ্চাগুলো বাঁচবে না। কারণ বাচ্চা ডিম থেকে বেরিয়ে লাফিয়ে পানিতে পড়তে পারে ঠিক এমন সঠিক মাপের গর্ত থাকতে হবে।”

তিনি আরও বলেন, ২০০৩ সালের দিকে ছোট উদ্যোগ হিসেবে স্বেচ্ছাশ্রমের মাধ্যমে শুরুটা হয়েছিল। তবে প্রকল্পের উদ্যোগে এ কার্যক্রম ২০০৬ সাল থেকে।

52
50
blogger sharing button blogger
buffer sharing button buffer
diaspora sharing button diaspora
digg sharing button digg
douban sharing button douban
email sharing button email
evernote sharing button evernote
flipboard sharing button flipboard
pocket sharing button getpocket
github sharing button github
gmail sharing button gmail
googlebookmarks sharing button googlebookmarks
hackernews sharing button hackernews
instapaper sharing button instapaper
line sharing button line
linkedin sharing button linkedin
livejournal sharing button livejournal
mailru sharing button mailru
medium sharing button medium
meneame sharing button meneame
messenger sharing button messenger
odnoklassniki sharing button odnoklassniki
pinterest sharing button pinterest
print sharing button print
qzone sharing button qzone
reddit sharing button reddit
refind sharing button refind
renren sharing button renren
skype sharing button skype
snapchat sharing button snapchat
surfingbird sharing button surfingbird
telegram sharing button telegram
tumblr sharing button tumblr
twitter sharing button twitter
vk sharing button vk
wechat sharing button wechat
weibo sharing button weibo
whatsapp sharing button whatsapp
wordpress sharing button wordpress
xing sharing button xing
yahoomail sharing button yahoomail