• মঙ্গলবার, জুন ২২, ২০২১
  • সর্বশেষ আপডেট : ১১:২৪ রাত

রিমান্ডে ‘মৃত’, বাস্তবে জীবিত: পুলিশের দুটি তদন্ত কমিটি

  • প্রকাশিত ১০:২৫ রাত আগস্ট ২৫, ২০২০
নারায়ণগঞ্জ-পুলিশ
নারায়ণগঞ্জ পুলিশের প্রেস ব্রিফিং ঢাকা ট্রিবিউন

বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের অভিযোগ ওঠার পর মামলার তদন্ত কর্মকর্তার দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে সদর মডেল থানার এসআই শামীম আল মামুনকে

নারায়ণগঞ্জে “হারিয়ে যাওয়া” স্কুলছাত্রীকে গণধর্ষণের পর হত্যায় তিন আসামির জোরপূর্বক স্বীকারোক্তি নেওয়া ও অর্থ আদায়ের অভিযোগে তিন সদস্য বিশিষ্ট আরও একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে জেলা পুলিশ। এর আগে সোমবার (২৪ আগস্ট) বিকেলে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিবি) জাহেদ পারভেজ চৌধুরীকে প্রধান করে ৩ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়।

মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) সন্ধ্যায় জেলা পুলিশ সুপার জায়েদুল আলম এ তথ্য নিশ্চিত করেন। 

জায়েদুল জানান, মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সদর মডেল থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) শামীম হোসেনের বিরুদ্ধে জোরপূর্বক জবানবন্দি আদায় ও আসামিদের পরিবারের থেকে অর্থ আদায়ের অভিযোগ তদন্তের জন্য মঙ্গলবার গঠিত কমিটির প্রধান করা হয়েছে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) এ টি এম মোশারফ হোসেনকে। কমিটির অপর দুই সদস্য হলেন- অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর) মেহেদী ইমরান সিদ্দিকী ও জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) এসএম আলমগীর। 

আগামী তিন কর্মদিবসের মধ্যে এই কমিটিকে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

বিষয়টি নিশ্চিত করে পুলিশ সুপার জায়েদুল আলম বলেন, “ধর্ষণের পর হত্যার ঘটনায় তিন আসামির স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দির পর ওই স্কুলছাত্রীর ফিরে আসায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। তাই এ ঘটনার শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত অর্থাৎ রহস্য সমাধান না হওয়া পর্যন্ত কমিটির তিন সদস্য মামলার নতুন তদন্ত কর্মকর্তাকে সাহায্য করবে।”

কমিটি প্রধান মোশারফ হোসেন বলেন, “আমরা ইতোমধ্যেই কাজ শুরু করেছি। কমিটি আজকেই গঠন করা হয়েছে। এখনও আমরা অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিত হতে পারিনি। সময়সাপেক্ষ হলেও আশা করছি সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে আমরা শিগগিরই আপনাদের এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে জানাতে পারবো।”


আরও পড়ুন- রিমান্ডে স্বীকার করা ‘ধর্ষিত, মৃত’ কিশোরী উদ্ধার হলো জীবিত!


আরেকটি তদন্ত কমিটির প্রধান এএসপি জাহেদ পারভেজ চৌধুরী জানান, “আমরা কাজ করছি। ইতোমধ্যেই আমরা ওই স্কুলছাত্রীর জবানবন্দি অনুযায়ী প্রাথমিকভাবে অপহরণের বিষয়টি নিশ্চিত হয়েছি। তাকে ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে।”

এদিকে, বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের অভিযোগ ওঠার পর মামলার তদন্ত কর্মকর্তার দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে সদর মডেল থানার এসআই শামীম আল মামুনকে। নতুন করে মামলাটি তদন্তের দায়িত্ব পেয়েছেন উপ-পরিদর্শক (অপারেশন) আব্দুল হাই। ঢাকা ট্রিবিউনকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আসাদুজ্জামান।

তিনি বলেন, মামলার তদন্তের স্বার্থে এ নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার দুপুরে অপহরণের মামলায় মেয়েটির স্বামী ইকবাল পন্ডিতকে গ্রেফতার দেখিয়ে ৫ দিনের রিমান্ড চেয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে।

এ ঘটনায় নারায়ণগঞ্জ আদালত পুলিশের পরিদর্শক মো. আসাদুজ্জামান জানান, আগামী ২৭ আগস্ট ইকবালের রিমান্ডের শুনানি হবে।

এদিকে, মামলার আসামিপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট রোকন উদ্দিন অভিযোগ করেন, মামলার তদন্ত কর্মকর্তা আসামিদের শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করে মিথ্যা স্বীকারোক্তি আদায় করেছেন। এখন পুলিশ নিজেদের অপকর্ম ঢাকতে কিশোরীকে উদ্ধারের পরও আদালতে এফআরটি (চূড়ান্ত প্রতিবেদন) না দিয়ে উল্টো তিন আসামির ১৬৪ ধারায় আদালতে দেওয়া জবানবন্দি প্রদানের সূত্র ধরে অন্য মামলার আসামি হিসেবে ফাঁসানোর চেষ্টা করছে।

তিনি আরও জানান, পুলিশ আদালতে এফআরটি (ফাইনাল রিপোর্ট) প্রদান না করলে আমরা ন্যায়বিচারের জন্য উচ্চ আদালতে আপিল করা হবে।

তবে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী (পিপি) ওয়াজেদ আলী খোকন দাবি করেন, মামলা প্রত্যাহারের কোনো সুযোগ নেই। মামলার বাদী উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে মামলাটি করেছেন কিনা বা কেন এই আসামিরা আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছে সেটি একটি রহস্য। এ কারণে পুরো বিষয়টি তদন্ত করে রহস্য উন্মোচন করতে হবে।

গণধর্ষণের পর হত্যার ৫১ দিন পর স্কুলছাত্রী জীবিত ফেরতের ঘটনায় হাইকোর্টে মামলা

গণধর্ষণের পর হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে ৩ আসামির স্বীকারোক্তির ঘটনায় হাইকোর্টে মামলা করা হয়েছে। মঙ্গলবার সুপ্রিমকোর্টের আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির বিচারপতি এম. ইনায়েতুর রহিম এবং মো. মোস্তাফিজুর রহমানের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চে রিভিশন মামলাটি দায়ের করেন।

মামলায় নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসক, চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট, পুলিশ সুপার, সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা, মামলার তদন্ত কর্মকর্তা, বাদী এবং আসামিদেরকেও বিবাদী করা হয়েছে।

এদিকে, মেয়েকে ফিরে পাওয়ার পর মামলা প্রত্যাহারের বিষয়ে ওই স্কুলছাত্রীর বাবা জানান, আসামিদের বিরুদ্ধে এখন তাদের আর কোনো অভিযোগ নেই। তারা মামলাটি প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নিলেও আইনি জটিলতার কারণে এখন তা সম্ভব না। 

“আমি সত্যিকার অর্থেই আর কোনো ঝামেলা চাই না। আর ওই তিনজন যদি কিছু নাই করে তাহলে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিলো কেন? আমি এ ব্যাপারে কিছুই জানি না। তবে আব্দুল্লাহ্ আমার মেয়েকে ডেকে নিয়ে গেছে এটা সত্য। আমার মেয়ে এমনিতেই প্রতিবন্ধী। ওর শারীরিক এবং মানসিক সমস্যাও আছে। ও কিছু না বুঝেই এ কাজ করছে।”

তিনি আরও বলেন, “এখন যদিও ওর বিয়ে হয়েছে কিন্তু ও এখনও প্রাপ্তবয়স্ক হয়নি। তাহলে ওই ছেলে কিভাবে বিয়ে করলো? এটাও অপরাধ।”

প্রসঙ্গত, চলতি মাসের শুরুতে নারায়ণগঞ্জে নৌকায় করে বেড়াতে নিয়ে গিয়ে ৫ম শ্রেণির এক ছাত্রীকে গণধর্ষণের পর হত্যা করে মরদেহ শীতলক্ষ্যা নদীতে ফেলে দেওয়ার কথা স্বীকার করে ১৬৪ ধারায় আদালতে জবানবন্দি দেয় মেয়েটির কথিত প্রেমিক ও তার সহযোগীরা।

কিন্তু রবিবার (২৩ আগস্ট) রাতে বন্দর উপজেলার নবীগঞ্জ এলাকার একটি ফেক্সিলোডের দোকান থেকে ওই স্কুলছাত্রী ও তার স্বামী ইকবাল পন্ডিতকে উদ্ধার করে পুলিশ।

55
Facebook 50
blogger sharing button blogger
buffer sharing button buffer
diaspora sharing button diaspora
digg sharing button digg
douban sharing button douban
email sharing button email
evernote sharing button evernote
flipboard sharing button flipboard
pocket sharing button getpocket
github sharing button github
gmail sharing button gmail
googlebookmarks sharing button googlebookmarks
hackernews sharing button hackernews
instapaper sharing button instapaper
line sharing button line
linkedin sharing button linkedin
livejournal sharing button livejournal
mailru sharing button mailru
medium sharing button medium
meneame sharing button meneame
messenger sharing button messenger
odnoklassniki sharing button odnoklassniki
pinterest sharing button pinterest
print sharing button print
qzone sharing button qzone
reddit sharing button reddit
refind sharing button refind
renren sharing button renren
skype sharing button skype
snapchat sharing button snapchat
surfingbird sharing button surfingbird
telegram sharing button telegram
tumblr sharing button tumblr
twitter sharing button twitter
vk sharing button vk
wechat sharing button wechat
weibo sharing button weibo
whatsapp sharing button whatsapp
wordpress sharing button wordpress
xing sharing button xing
yahoomail sharing button yahoomail