• মঙ্গলবার, জুন ২২, ২০২১
  • সর্বশেষ আপডেট : ১১:২৪ রাত

‘ধর্ষিত-মৃত’ কিশোরীর ফিরে আসা: এবার ঘুষের টাকা ফেরত দিচ্ছে পুলিশ

  • প্রকাশিত ০৬:১০ সন্ধ্যা আগস্ট ২৭, ২০২০
নারায়ণগঞ্জ-আসামি
আসামি আব্দুল্লাহর স্বজনরা ঢাকা ট্রিবিউন

গ্রেফতারকৃতদের দ্রুত মুক্তির দাবিতে নারায়ণগঞ্জ আদালত প্রাঙ্গনে বিক্ষোভ করেছেন স্বজনরা

পুলিশি রিমান্ডে আসামিদের স্বীকারোক্তিতে “ধর্ষণ ও হত্যার শিকার” নারায়ণগঞ্জের স্কুলছাত্রীর জীবিত ফিরে আসার ঘটনায় উপ-পরিদর্শক শামীম আল মামুন ঘুষের টাকা ফেরত দিতে চাইছেন। টাকা ফেরত দেওয়ার জন্য তাদেরকে ফোন করে থানায় ডাকা হয়েছে বলেন বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) ওই আসামিদের স্বজনরা ঢাকা ট্রিবিউনকে জানান। এর আগে তিন আসামির স্বজনদের কাছ থেকে মোট ৪৭ হাজার টাকা ঘুষ নিয়েছিলেন এসআই শামীম।

আসামি আবদুল্লাহ্‌র বাবা আমজাদ হোসেন ও খলিলের স্ত্রী শারমিন বেগম অভিযোগ করেন, ওই স্কুলছাত্রী জীবিত ফিরে এলেও পুলিশ গ্রেফতারকৃত তিনজনকে না ছেড়ে উল্টো অন্য মামলায় ফাঁসানোর চেষ্টা করছে। 

নৌকার মাঝি খলিলের স্ত্রী শারমিন বেগম বলেন, “রিমান্ডে এনে মারধর করবে না বলে দুই দফায় কাগজপত্রসহ ৭ হাজার টাকা নিয়েছিল এসআই শামীম। মঙ্গলবার রাতে আমার ভাই শাকিলকে এসআই শামীম মোবাইল ফোন করে ডেকে নিয়ে ৬ হাজার টাকা ফেরত দিয়েছে।  পরে আজ (বৃহস্পতিবার) থানায় ডেকে আমাদেরকে বলেছে কারও সঙ্গে মুখ না খুলতে। এমনকি সে টাকা ফেরত দেওয়ার ব্যাপারেও কিছু না বলার জন্য শাসিয়েছে।”


আরও পড়ুন- রিমান্ডে স্বীকার করা ‘ধর্ষিত, মৃত’ কিশোরী উদ্ধার হলো জীবিত!


একই ধরনের কথা শোনা গেছে আরেক আসামি আব্দুল্লাহর বাবা আমজাদ হোসেনের মুখে, “এসআই শামীম আমাদের কাছ থেকে মোট ১০ হাজার টাকা নিয়েছিল। পরে মেয়েটিকে পাওয়া গেলে মঙ্গলবার কোর্টেই সে আমার উকিলের সামনে টাকা ফেরত দেওয়ার জন্য সেধেছিলো। কিন্তু আমি না করে দিয়েছি। তারপর আবার এসআই শামীমের সোর্স কিশলু ফোন করে টাকা নিয়ে যেতে বলেছে। এরপর আরেক আসামি রাকিবের ভাই সজিবের মাধ্যমে ফোন করেও আমাকে থানায় ডেকেছিলো।”

“আমার এ টাকার দরকার নাই। টাকা গেছে টাকা আসবে। আমি ছেলেকে ফেরত চাই।”

এদিকে, এদিন দুপুরে গ্রেফতারকৃতদের দ্রুত মুক্তির দাবিতে নারায়ণগঞ্জ আদালত প্রাঙ্গনে বিক্ষোভ করেছেন স্বজনরা।

ঘুষের টাকা ফেরত দেওয়ার বিষয়ে কথা বলতে মামলাটির সাবেক তদন্ত কর্মকর্তা এসআই শামীমের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।

সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আসাদুজ্জামান বলেন, “রিমান্ড ও ঘুষ নেওয়ার ঘটনাটি যখন ঘটেছে তখন আমি ছুটিতে ছিলাম। তখন দায়িত্বে ছিলেন মোস্তাফিজুর রহমান (ওসি, তদন্ত)। এর দায়ভার আমি নেব না।”


আরও পড়ুন- ‘ধর্ষিত-মৃত’ কিশোরীর জীবিত ফিরে আসা: এবার অপহরণের সম্পৃক্ততা পেলো পুলিশ


এদিকে, বুধবার এসআই শামীম আল মামুনকে সদর থানা থেকে প্রত্যাহার করে জেলা পুলিশ লাইন্সে সংযুক্ত করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন নারায়ণগঞ্জের পুলিশ সুপার (এসপি) মো. জায়েদুল আলম।

মামলার প্রকৃত রহস্য উদঘাটনের পাশাপাশি এ ঘটনায় তিন আসামির কাছ থেকে জোরপূর্বক স্বীকারোক্তি ও তাদের পরিবারের কাছ থেকে টাকা আদায়ের অভিযোগে এসআই শামীমের অভিযোগ তদন্তে দুটি কমিটি কাজ করেছে।

তদন্ত কমিটি যা বলছে

একটি তদন্ত কমিটির প্রধান অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিবি) জাহেদ পারভেজ চৌধুরী বলেন, “আমরা ওই কিশোরীর বাড়িতে গিয়ে তার ও তার বোনসহ পরিবারের অন্য সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেছি এবং ওই তিন আসামী তাদের স্বীকারোক্তিতে যে জায়গার কথা বলেছে সে জায়গায় পরিদর্শন করে এসেছি। এখন আমরা চাইছি ওই তিন আসামিকে জিজ্ঞাসাবাদ করে তাদেরকে স্কুলছাত্রীর মুখোমুখি করতে। এতে আমরা কিছু বিষয়ে নিশ্চিত হতে পারবো।”

“এখানে অপহরণ, অপহরণের পর ধর্ষণ, এরপর হত্যা, হত্যার পর লাশগুমসহ চারটি ঘটনা রয়েছে। এখন ওই তিন আসামি অন্য তিনটিতে ছাড় পেলেও অপহরণের ঘটনায় ছাড় পাবে না। কারণ স্কুলছাত্রী নাবালিকা। তাকে ফোনে ডেকে নিয়ে যাওয়া এটা অবশ্যই আইনানুযায়ী অপহরণ।”

স্কুলছাত্রীর স্বামী ইকবালকে কারাগারে পাঠানোর বিষয়টি উল্লেখ করে তিনি বলেন, “ইকবালকে কারাগারে পাঠানোর মূল কারণ তিনিও একই দোষে দোষী। কারণ একজন অপ্রাপ্তবয়স্ককে পরিবারের অমতে বিয়ে করাটাও আইনের চোখে অপহরণের সামিল। সেক্ষেত্রে ইকবালও শাস্তি পাবে।”


আরও পড়ুন- ‘গণধর্ষণের পর কিশোরীকে হত্যা করে শীতলক্ষ্যায় ভাসিয়ে দেয় কথিত প্রেমিক’


আরেকটি তদন্ত কমিটির প্রধান অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) এ টি এম মোশারফ হোসেন বলেন, “তদন্ত চলমান রয়েছে। এখনই আমরা কোনো কিছু নিশ্চিত করে বলতে পারছি না। আগে তিন আসামির সঙ্গে কথা বলে প্রকৃত ঘটনা জানতে হবে এবং জবানবন্দি দেওয়ার সময় তাদের ওপর কোনো চাপ ছিলো কিনা সেসব বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। তাহলেই এ বিষয়ে আমরা সুনির্দিষ্টাভাবে বলতে পারব।”

এদিকে ওই কিশোরীর বাবা জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, “আজকে তদন্ত কর্মকর্তারা আমাদের বাসায় এসেছিলেন। এছাড়া, পুলিশ কিংবা আসামির পরিবারের সদস্যরা কোনো হুমকি বা চাপ দিচ্ছে কিনা সেটাও জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে।”

“সত্যি বলতে আমাদের ওপর কোনো চাপ নেই বা হুমকি-ধামকির কোনো বিষয় নেই। এখন আমরা ভালো আছি।”

তিনি আরও বলেন, “আমরাই এখন মেয়েকে কারও সঙ্গে কথা বলতে না করেছি। কারণ ও এখন অসুস্থ, কী বলতে কি বলে ফেলে।”

উল্লেখ্য, গত ৪ জুলাই নিখোঁজ হয় ওই স্কুলছাত্রী। এ ঘটনায় তার বাবা ১৭ জুলাই একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। পরে ৬ আগস্ট তিনি বাদী হয়ে নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানায় একটি অপহরণ মামলা করেন। এই মামলায় ৭ আগস্ট পুলিশ মামলার প্রধান আসামি কথিত প্রেমিক আব্দুল্লাহ্, নৌকার মাঝি খলিল ও ইজিবাইকচালক রাকিবকে গ্রেফতার করে পুলিশ। পরে মামলার তৎকালীন তদন্ত কর্মকর্তা সদর মডেল থানার এসআই শামীম আল মামুন তিনজনকে আদালতের মাধ্যমে রিমান্ডে নেয়।

৯ আগস্ট সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মিল্টন হোসেন ও জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আহমেদ হুমায়ুন কবিরের পৃথক আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেয় আসামিরা। স্বীকারোক্তিতে তারা জানায়, পঞ্চম শ্রেণির ওই ছাত্রীকে গণধর্ষণের পর হত্যা করে লাশ গুম করতে শীতলক্ষ্যা নদীতে লাশ ভাসিয়ে দিয়েছে তারা।

এদিকে, নিখোঁজের ৫১ দিন পর রবিবার (২৩ আগস্ট) মুঠোফোনে ওই ছাত্রীর মায়ের কাছে ফোন করে জানানো হয়ে যে তার মেয়ে জীবিত ও সুস্থ আছে। খবর পেয়ে বন্দর উপজেলার নবীগঞ্জ এলাকা থেকে স্বামী ইকবালসহ ওই স্কুলছাত্রীকে জীবিত উদ্ধার করা হয়। বর্তমানে স্কুলছাত্রীর স্বামীসহ অন্য তিন আসামি কারাগারে আছে।

57
Facebook 50
blogger sharing button blogger
buffer sharing button buffer
diaspora sharing button diaspora
digg sharing button digg
douban sharing button douban
email sharing button email
evernote sharing button evernote
flipboard sharing button flipboard
pocket sharing button getpocket
github sharing button github
gmail sharing button gmail
googlebookmarks sharing button googlebookmarks
hackernews sharing button hackernews
instapaper sharing button instapaper
line sharing button line
linkedin sharing button linkedin
livejournal sharing button livejournal
mailru sharing button mailru
medium sharing button medium
meneame sharing button meneame
messenger sharing button messenger
odnoklassniki sharing button odnoklassniki
pinterest sharing button pinterest
print sharing button print
qzone sharing button qzone
reddit sharing button reddit
refind sharing button refind
renren sharing button renren
skype sharing button skype
snapchat sharing button snapchat
surfingbird sharing button surfingbird
telegram sharing button telegram
tumblr sharing button tumblr
twitter sharing button twitter
vk sharing button vk
wechat sharing button wechat
weibo sharing button weibo
whatsapp sharing button whatsapp
wordpress sharing button wordpress
xing sharing button xing
yahoomail sharing button yahoomail