• রবিবার, অক্টোবর ২৫, ২০২০
  • সর্বশেষ আপডেট : ১০:৪৮ রাত

মিথ্যা অভিযোগে মামলা: বিনাদোষে ২০ বছর কারাভোগের পর মুক্ত জাহিদ

  • প্রকাশিত ১১:২৬ সকাল সেপ্টেম্বর ১, ২০২০
খুলনা
২০ বছর কনডেম সেলে থাকার পর সোমবার (৩১ আগস্ট) খুলনা জেলা কারাগার থেকে মুক্তিলাভ করেন জাহিদ। ঢাকা ট্রিবিউন

বিনা দোষে জীবনের মূল্যবান ২০টি বছর নষ্ট হয়ে গেলেও শেখ জাহিদ এ জন্য কাউকে দায়ী করেন না বা কারও শাস্তি চান না। বরং বাকি জীবন আল্লাহর ইবাদত-বন্দেগী করেই পার করতে চান তিনি

স্ত্রী ও শিশু সন্তান হত্যার মিথ্যা অভিযোগে দীর্ঘ ২০টি বছর কেটেছে কারাগারের অন্ধকার প্রকোষ্ঠে, দেখতে পাননি মুক্ত আকাশ, মিষ্টি রোদ বা ফুরফুরে হাওয়ার। অবশেষে নির্দোষ প্রমাণিত হয়ে কারাগার থেকে মুক্তি পেয়েছেন খুলনার একটি আলোচিত হত্যা মামলার আসামি শেখ জাহিদ (৫০)।

সোমবার (৩১ আগস্ট) সন্ধ্যা ৬টা ২৫ মিনিটে শেখ জাহিদ খুলনা জেলা কারাগার থেকে মুক্তিলাভ করেন। এ সময় তার স্বজনরা তাকে পেয়ে আবেগ-আপ্লুত হয়ে পড়েন।

তবে, বিনা দোষে জীবনের মূল্যবান ২০টি বছর নষ্ট হয়ে গেলেও শেখ জাহিদ এ জন্য কাউকে দায়ী করেন না বা কারও শাস্তি চান না। বরং বাকি জীবন আল্লাহর ইবাদত-বন্দেগী করেই পার করতে চান তিনি।

এর আগে সোমবার দুপুরে শেখ জাহিদের মুক্তির নির্দেশনা বাগেরহাট আদালত থেকে খুলনা জেলা কারাগারে এসে পৌঁছালে তার মুক্তির কার্যক্রম শুরু হয়। আদালতের নির্দেশনা হাতে পাওয়ার পরই সন্ধ্যায় শেখ জাহিদকে মুক্তি দেওয়া হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন খুলনা জেলা কারাগারের সুপার মো. ওমর ফারুক। 

তিনি বলেন, “স্ত্রী ও দেড় বছরের শিশু কন্যা হত্যার দায়ে ২০০০ সালের ২৫ জুন মৃত্যুদণ্ড হয় যুবক জাহিদের। তারপর থেকেই তিনি কারাগারের কনডেম সেলে টানা ২০ বছর ধরে মৃত্যুর প্রহর গুণছিলেন। কিন্তু মৃত্যুদণ্ড প্রাপ্ত সেই আসামি শেখ জাহিদকে ২৫ আগস্ট খালাসের রায় দেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ। সুপ্রিম কোর্ট থেকে দণ্ড ঘোষিত বাগেরহাট আদালতে তার খালাসের নির্দেশ প্রেরণ করা হয়। সেখান থেকে ওই নির্দেশনা সোমবার খুলনা কারাগারে এসে পৌঁছানোর পরই তাকে মুক্তি দেওয়া হয়।”

এদিকে, দীর্ঘ ২০ বছর পর শেখ জাহিদের মুক্তির খবরে তার স্বজনরা আগে থেকেই জেলা কারাগারের প্রধান ফটকের সামনে অবস্থান নেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন তার চাচা শেখ আশরাফুজ্জামান, ভগ্নিপতি আজিজুর রহমান ও আব্দুস সালাম এবং তার ছোট বোন। 

মুক্তির পর শেখ জাহিদ বলেন, ফাঁসির কনডেম সেলে প্রতি মুহূর্তেই আমি মৃত্যু কামনা করেছি। কখনও ভাবতেই পারেননি কোনো দিন মুক্তি পাব।”

তিনি তার মুক্তির জন্য আল্লাহর কাছে শুকরিয়া আদায় করেন এবং যারা তার মুক্তির জন্য সহযোগিতা করেছেন তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। মুক্তির পর তাকে খুলনা মহানগরীর মিয়াপাড়া এলাকায় তার বোনের বাসায় নেওয়া হয়। 

কারাফটকে জাহিদের ভগ্নিপতি আজিজুর রহমান জানান, প্রথমে জাহিদের নামে নারী নির্যাতন আইনে ফকিরহাট থানায় মামলা দায়ের হলে মামলার তৎকালীন তদন্তকারী কর্মকর্তা জাহিদের পরিবারের কাছে ৫০ হাজার টাকা উৎকোচ দাবি করেন এবং সেই টাকা দিতে না পারায় জাহিদকে উক্ত মামলায় একতরফা দোষী সাব্যস্ত করে চার্জশিট প্রদান করা হয় বলে তিনি দাবি করেন। ২০টি বছর নষ্ট হওয়ায় জাহিদের বাকি জীবন কিছু করে খেতে পারে- তার ব্যবস্থা করতে তিনি সরকারের কাছে দাবি জানান। 

জাহিদের চাচা আকরাম হোসেন শেখ আক্ষেপ করে বলেন, জাহিদের ২০ বছরের জীবন ফেরত দিবে কে? কে দেবে তার জবাব, মাতৃহীন পিতৃহীন ও সম্বলহীন জাহিদের দায়িত্ব নেবে কে? 

তিনি জানান, জাহিদ জেলে থাকা অবস্থায় তার বাবা ইলিয়াস শেখ হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে এবং মাতা হামিদা বেগম বিভিন্ন রোগে-শোকে ভুগে মৃত্যুবরণ করেছেন। তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তপূর্বক যারা জাহিদের জীবন নষ্ট করে দিয়েছে তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবির করেন।

প্রসঙ্গত, ১৯৯৪ সালে বাগেরহাটের ফকিরহাট থানার উত্তর পাড়ার ময়েন উদ্দিনের মেয়ে রহিমার সঙ্গে খুলনার রূপসা উপজেলার নারিকেলি চাঁদপুরের ইলিয়াছ শেখের ছেলে জাহিদ শেখের বিয়ে হয়। জাহিদ শেখ শ্বশুর বাড়িতে ঘরজামাই থাকতেন। পরে তাদের সংসারে কন্যা সন্তানের জন্ম হয়। তার নাম রাখা হয় রেশমা খাতুন। ১৯৯৭ সালের ১৫ জানুয়ারি হত্যাকাণ্ডের তিন মাস আগে রহিমার বাবার বাড়ি থেকে ৫০০ গজ দূরে একটি পাকা ঘরে বসবাস শুরু করে ওই দম্পতি। ১৬ জানুয়ারি বিকালে রহিমার মা আনজিরা বেগম মেয়ের বাড়ির দরজা বন্ধ অবস্থায় দেখতে পান। বাইরে থেকে ডাকাডাকি করে সাড়া না পেয়ে ভেতরে ঢুকে খাটের ওপর কাঁথা ও লেপের নিচে বাচ্চাসহ রহিমার লাশ পান তিনি। ওই ঘটনায় রহিমার বাবা ময়েন উদ্দিন বাদী হয়ে জাহিদের বিরুদ্ধে ফকিরহাট থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। ওই মামলায় ১৯৯৮ সালের ১৯ নভেম্বর এ মামলার অভিযোগপত্র দেয় পুলিশ। তার আগেই ওই বছরের ১৮ জানুয়ারি আদালতে আত্মসমর্পণ করেন জাহিদ। 

হত্যাকাণ্ডের তিন বছরের মাথায় ২০০০ সালের ২৫ জুন বাগেরহাটের জেলা ও দায়রা জজ আদালত আসামি শেখ জাহিদকে মৃত্যুদণ্ড দেন। রায়ের বিরুদ্ধে ওই বছরের ২ সেপ্টেম্বর জেল আপিল করেন তিনি। সে হিসাবে আসামি জাহিদ শেখ ২০ বছর ধরে কনডেম সেলে ছিলেন। ডেথ রেফারেন্স (মৃত্যুদণ্ডাদেশ অনুমোদনের আবেদন) ও জেল আপিলের শুনানি শেষে ২০০৪ সালের ৩১ জুলাই ফাঁসির রায় বহাল রাখেন হাইকোর্ট। ওই বছর ২৯ ডিসেম্বর হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল বিভাগে জেল আপিল করেন আসামি জাহিদ। গত ২৫ আগস্ট সেই আপিলের শুনানি শেষে রায় দেন দেশের সর্বোচ্চ আদালত।

52
50
blogger sharing button blogger
buffer sharing button buffer
diaspora sharing button diaspora
digg sharing button digg
douban sharing button douban
email sharing button email
evernote sharing button evernote
flipboard sharing button flipboard
pocket sharing button getpocket
github sharing button github
gmail sharing button gmail
googlebookmarks sharing button googlebookmarks
hackernews sharing button hackernews
instapaper sharing button instapaper
line sharing button line
linkedin sharing button linkedin
livejournal sharing button livejournal
mailru sharing button mailru
medium sharing button medium
meneame sharing button meneame
messenger sharing button messenger
odnoklassniki sharing button odnoklassniki
pinterest sharing button pinterest
print sharing button print
qzone sharing button qzone
reddit sharing button reddit
refind sharing button refind
renren sharing button renren
skype sharing button skype
snapchat sharing button snapchat
surfingbird sharing button surfingbird
telegram sharing button telegram
tumblr sharing button tumblr
twitter sharing button twitter
vk sharing button vk
wechat sharing button wechat
weibo sharing button weibo
whatsapp sharing button whatsapp
wordpress sharing button wordpress
xing sharing button xing
yahoomail sharing button yahoomail