• শুক্রবার, অক্টোবর ৩০, ২০২০
  • সর্বশেষ আপডেট : ০৬:০১ সন্ধ্যা

মাটি খুঁড়তেই বেড়িয়ে এলো দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের বিমানের ধ্বংসাবশেষ!

  • প্রকাশিত ০৫:৩২ সন্ধ্যা অক্টোবর ১৭, ২০২০
লালমনিরহাট
উদ্ধারকৃত বিমানের ধ্বংসাবশেষ। ঢাকা ট্রিবিউন

লালমনিরহাট বিমানবন্দর রানওয়ে থেকে প্রায় ৫ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে একটি কৃষিজমির মাটির নিচ থেকে যুদ্ধবিমানের ধ্বংসাবশেষ আবিষ্কৃত হয়

লালমনিরহাটে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়ে ব্যবহৃত একটি যুদ্ধ বিমানের মূল ইঞ্জিনসহ বিমানের বিভিন্ন ধ্বংসাবশেষ উদ্ধার করেছে স্থানীয় জনতা। 

শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) দুপুরে লালমনিরহাট বিমানবন্দর রানওয়ে থেকে প্রায় ৫ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে একটি কৃষিজমির মাটির নিচ থেকে যুদ্ধবিমানের ধ্বংসাবশেষ আবিষ্কৃত হয়। পরে শনিবার (১৭ অক্টোবর) লালমনিরহাট জেলা প্রশাসনের নেতৃত্বে স্থানীয় পুলিশ ও বিমান বাহিনীর সদস্যরা উদ্ধার কার্যক্রম ও ওই এলাকা নিয়ন্ত্রণে নেয়।

শনিবার সকাল ৮টা থেকে উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনা শুরু করে এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত উদ্ধার কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। যুদ্ধবিমানের ধ্বংসাবশেষ এবং উদ্ধার কার্যক্রম দেখতে লালমনিরহাট সদর উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে শত শত উৎসুক জনতার ভিড় সামলাতে স্থানীয় পুলিশ ও বিমান বাহিনীর সদস্যদের বেগ পেতে হচ্ছে।    

উদ্ধারকাজে অংশ নেওয়া বিমান বাহিনীর কর্মকর্তাদের সূত্রে জানা গেছে, শনিবার সকাল ৮টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত একটি যুদ্ধ বিমানের মূল ইঞ্জিন (প্রপেলার) ১টি, ২টি ল্যান্ডিং গিয়ার, ওয়েল বার্নিং এক্সজস্ট (সাইল্যান্সার), এমিউনেশন্স, ৫টি গান ও বিমানের টুকরো টুকরো কিছু যন্ত্রাংশ উদ্ধার করা হয়েছে। তবে উল্লিখিত যন্ত্রাংশের নাম নিশ্চিত হতে এবং কোন দেশের তৈরি বা কোন দেশের যুদ্ধবিমান ছিল এই মুহুর্তে কিছু বলতে পারেনি উপস্থিত বিমান বাহিনীর কর্মকর্তারা।  

লালমনিরহাট বিমানবন্দর রানওয়ে থেকে প্রায় ৫ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে একটি চাষের জমির মাটির নিচ থেকে একটি যুদ্ধবিমানের মুল ইঞ্চিন (প্রপেলার) সহ বেশ কিছু জিনিসপত্র উদ্ধার করা হয়। তবে উদ্ধার কার্যক্রম এখনও শেষ ঘোষণা করা হয়নি। দুপুর ১২টায় নেজারত ডেপুটি কালেক্টর (এনডিসি) ঘটনাস্থল থেকে ফিরে গেলেও সেখানে বিমান বাহিনীর ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মাহমুদুল হাসান মাসুদ সহ অন্যান্য কর্মকর্তাগণ উপস্থিত রয়েছে।

জমির মালিক রেজাউল করিম জানান, তার আবাদি উঁচু জমির উপরের মাটি কেটে নিচু করার জন্য কিছু মাটি কাটা শ্রমিক কাজ করছিল। শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) দুপুরের পর সোহেল মিয়া নামে একজন শ্রমিক ৮-১০ কেজি ওজনের কিছু গুলি সদৃশ বস্তু প্রথমে দেখতে পান। এরপর আমাকে বিষয়টি অবহিত করলে থানায় খবর দেই। পরে পুলিশ এসে সেগুলো নিয়ে যায়। এরপর শনিবার সকালে বিমান বাহিনীর লোকজন, পুলিশ ও ডিসি অফিসের কর্মকর্তারা নিজেরা উপস্থিত থেকে স্থানীয় শ্রমিকদের মাধ্যমে মাটি খুঁড়ে পাঁচফুট মাটির নিচ থেকে যুদ্ধ বিমানের বেশ কিছু জিনিস উদ্ধার করেছে। এখনও কাজ চলছে।

বিমান মূল ইঞ্জিনসহ বেশ কিছু খুচরা যন্ত্রপাতিও পাওয়া গেছে। ঢাকা ট্রিবিউন

লালমনিরহাট সদর থানার ওসি শাহা আলম বলেন, “কৃষক রেজাউল হকের জমির মাটি কেটে নিচু করার কাজ করছিলেন কিছু শ্রমিক। সোহেল মিয়া নামে এক শ্রমিক প্রথম কিছু গুলি দেখতে পান। এরপর ওই শ্রমিক জমির মালিককে বিষয়টি অবহিত করলে তিনি থানায় বিষয়টি অবহিত করেন। থানার উপ-পরিদর্শক(এসআই) হাফিজুর রহমানকে ঘটনাস্থলে সরজমিনে পাঠানে তিনি ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করলে আমরা রাতেই লালমনিরহাট বিমানবাহিনীকে বিষয়টি অবহিত করি। এরপর আজ শনিবার(১৭ অক্টোবর) সকাল থেকে লালমনিরহাট বিমান বাহিনীর রক্ষণাবেক্ষণ ও তত্তাবধান ইউনিটের একটি দল, পুলিশ, স্থানীয় লোকজনকে সাথে নিয়ে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের নেজারত ডেপুটি কালেক্টর (এনডিসি) টি এম রাহসিন কবির স্যারের উপস্থিতিতে বিমানের ধ্বংসাবশেষ উদ্ধার কাজ শুরু করে। তবে এখন পর্যন্ত উদ্ধার কার্যক্রম চলমান রয়েছে। শনিবারই উদ্ধার কার্যক্রম শেষ হতেও পারে আবার নাও হতে পারে।”

জানতে চাইলে লালমনিরহাট বিমান বাহিনীর রক্ষণাবেক্ষণ ও তত্ত্বাবধায়ন ইউনিটের ভারপ্রাপ্ত ইনচার্জ ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মাহমুদুল হাসান মাসুদ বলেন, “উদ্ধার কার্যক্রম চলমান রয়েছে। আমরা বিমানের বেশকিছু অংশের জিনিসপত্র পেয়েছি। এসব পরীক্ষা-নিরীক্ষা না করে এই মুহুর্তে আমার পক্ষে কিছু বলা সম্ভব নয়।”

লালমনিরহাট জেলা প্রশাসক আবু জাফর বলেন, “পুলিশ ও বিমান বাহিনীর মাধ্যমে অবগত হয়েছি। শনিবার উদ্ধার কার্যক্রমে যেন কোনো প্রকার আইনগত বাধাবিপত্তি সৃষ্টি না সে জন্য নেজারত ডেপুটি কালেক্টর টি এম রাহসান কবিরকে ঘটনাস্থলে পাঠিয়েছিলাম।”

তিনি আরও বলেন, “বিমানের ধ্বংসাবশেষ গুলো উদ্ধারের পর যদি জেলা প্রশাসনের নিকট হস্তান্তর করা হয়, তাহলে সেগুলো জেলা ট্রেজারিতে সংরক্ষণ করা হবে। আর যদি বিমান বাহিনী নিয়ে যায়, তারাও সেগুলো নিয়ে যেতে পারে। তবে উদ্ধার কার্যক্রম শেষ হওয়ার পর সার্বিক বিষয়ে বিস্তারিত জানা যাবে।”

উল্লেখ্য, লালমনিরহাট সদর উপজেলার মহেন্দ্রনগর ও হারাটি ইউনিয়নে বিরাট এলাকাজুড়ে ১৯৩৯-৪০ সালে লালমনিরহাট বিমানবন্দর স্থাপিত হয়। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে লালমনিরহাট বিমানবন্দরটি ব্যবহৃত হয়। পরবর্তীতে সেটি পরিত্যক্ত থাকলেও দেশ স্বাধীনের পর বঙ্গবন্ধুর সরকার বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর প্রধান দফতর স্থাপনের সিদ্ধান্ত নেয়। এটি সফল না হওয়ায় বর্তমানে এখানে “বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এভিয়েশন অ্যান্ড অ্যারো স্পেস বিশ্ববিদ্যালয়” স্থাপন কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এছাড়াও চলতি বছরে লালমনিরহাট বিমানবন্দরের পাশেই “আর্মি এভিয়েশন স্কুল” প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। পুলিশ, বিমানবাহিনী, জেলা প্রশাসন ও স্থানীয় লোকজন ধারণা করছেন উদ্ধার হওয়া যুদ্ধ বিমানের ধ্বংসাবশেষ দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়কার। তবে সেখানে পাইলটের কংকাল আছে কি না বা বিমানের ককপিট আছে কি না-বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

52
50
blogger sharing button blogger
buffer sharing button buffer
diaspora sharing button diaspora
digg sharing button digg
douban sharing button douban
email sharing button email
evernote sharing button evernote
flipboard sharing button flipboard
pocket sharing button getpocket
github sharing button github
gmail sharing button gmail
googlebookmarks sharing button googlebookmarks
hackernews sharing button hackernews
instapaper sharing button instapaper
line sharing button line
linkedin sharing button linkedin
livejournal sharing button livejournal
mailru sharing button mailru
medium sharing button medium
meneame sharing button meneame
messenger sharing button messenger
odnoklassniki sharing button odnoklassniki
pinterest sharing button pinterest
print sharing button print
qzone sharing button qzone
reddit sharing button reddit
refind sharing button refind
renren sharing button renren
skype sharing button skype
snapchat sharing button snapchat
surfingbird sharing button surfingbird
telegram sharing button telegram
tumblr sharing button tumblr
twitter sharing button twitter
vk sharing button vk
wechat sharing button wechat
weibo sharing button weibo
whatsapp sharing button whatsapp
wordpress sharing button wordpress
xing sharing button xing
yahoomail sharing button yahoomail