নিহত সাংবাদিক ফাগুন রেজার মা মিলি রেজা ঢাকা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘সাড়ে ১৭ মাস পরে একজন আসামি ধরা পরেছে, আশা করি পুলিশ এই হত্যাকাণ্ডের পেছনে যারা রয়েছে তাদেরও খুঁজে বের করবে’
সাংবাদিক ফাগুন রেজা হত্যার সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে এক ব্যক্তিকে তিন দিনের রিমান্ডে নিয়েছে জামালপুর রেলওয়ে থানা পুলিশ।
শুক্রবার (৬ নভেম্বর) দুপুরে জামালপুর রেলওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তাপস চন্দ্র পন্ডিত ঢাকা ট্রিবিউনকে জানান, গত বছরের ২১ মে ঢাকা থেকে শেরপুরে নিজ বাড়ির উদ্দেশে রওনা হওয়ার পর সেদিনই রাত সাড়ে আটটার দিকে নিখোঁজ হন শেরপুরের এনটিভির সাংবাদিক কাকন রেজার বড় ছেলে ফাগুন রেজা।
পরদিন ২২ মে জামালপুর সদরের রানাগাছা এলাকায় রেললাইনের পাশ থেকে সাংবাদিক ফাগুন রেজার লাশ উদ্ধার করা হয়। তবে এ সময় নিহত ফাগুন রেজার সাথে থাকা মোবাইল ফোন, ল্যাপটপ, পরিচয়পত্র ও অন্যান্য কাগজপত্রের কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।
এই ঘটনায় হত্যা মামলা দায়েরের পর তথ্য প্রযুক্তির মাধ্যমে ফাগুন রেজার ব্যবহৃত মোবাইলের অবস্থান নির্ণয় করে ময়মনসিংহের গৌরিপুর উপজেলার তারাকান্দা এলাকার আব্দুল মজিদের ছেলে সোহরাব (৩২) নামে একজনকে শনাক্ত করে পুলিশ। কিন্তু বিভিন্ন নাম পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন জায়গায় অবস্থান করায় তাকে কোথাও খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না।
আরও পড়ুন - প্রিয় ডটকমের সাংবাদিক খুন, জামালপুরে লাশ উদ্ধার
এদিকে, সম্প্রতি গাজীপুর জেলার সাফারিপার্ক সড়কে এক অটোরিক্সা চালককে আহত করে অটোরিক্সাটি ছিনতাইয়ের সময় স্থানীয় জনতা আটক করে পুলিশে সোপর্দ করে সোহরাবকে। পরে এই ঘটনায় চলতি বছরের ১৪ সেপ্টম্বর গাজীপুরের শ্রীপুর থানায় তার বিরুদ্ধে হত্যা প্রচেষ্টা ও ছিনতাইয়ের অভিযোগে মামলা দায়ের করে আদালতের মাধ্যমে কাশিমপুর কারাগারে প্রেরণ করা হয়। কিন্ত সেখানে সোহরাব ভুল নাম ঠিকানা ব্যবহার করে।
হত্যাচেষ্টা ও ছিনতাই মামলায় ছদ্ম নাম-ঠিকানা ব্যবহার করলেও ফাগুন হত্যার সাথে জড়িত প্রধান সন্দেহভাজন সোহরাবকে আটক করা হয়েছে, এমন খবর জানতে পারে জামালপুর রেলওয়ে থানা পুলিশ। পরে আরও অধিকতর যাচাই শেষে নিশ্চিত হয়ে কাশিমপুর কারাগার থেকে সোহরাবকে গত ২৮ অক্টোবর জামালপুরে জেলা কারাগারে নেওয়া হয় সোহরাবকে।
আরও পড়ুন - সাংবাদিক ফাগুনের মৃত্যু নিয়ে ঘণীভূত হচ্ছে রহস্য
জামালপুর সদর উপজেলা আদালতের এএসআই মনির হোসেন ঢাকা ট্রিবিউনকে বলেন, “আসামি সোহরাবকে বুধবার (৪ নভেম্বের) ফাগুন হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে জামালপুর চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের কাছে রিমান্ডের আবেদন করে রেলওয়ে থানা পুলিশ। পরে সিনিয়ার জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট কোর্টের বিচারক সোলায়মান কবীর আসামি সোহরাবকে তিন দিনের রিমান্ড আবেদন মঞ্জুর করেন।”
জামালপুর রেলওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তাপস চন্দ্র পন্ডিত আরও বলেন, “গত ৪ নভেম্বর আসামিকে তিন দিনের রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা অব্যাহত রয়েছে, ধারণা করা হচ্ছে সে পেশাদার খুনি। বিভিন্ন থানায় তার নামে একাধিক হত্যা মামলা রয়েছে।”
নিহত সাংবাদিক ফাগুন রেজার মা মিলি রেজা ঢাকা ট্রিবিউনকে বলেন, “সাড়ে ১৭ মাস পরে একজন আসামি ধরা পরেছে, আশা করি পুলিশ এই হত্যাকাণ্ডের পেছনে যারা রয়েছে তাদেরও খুঁজে বের করবে।”
এ সময় তিনি ফাগুন রেজা হত্যাকাণ্ডে জড়িত সকলের শাস্তির দাবি জানান।
মতামত দিন